শেয়ার বাজার

বরিশালে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

বরিশালে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ

টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে সোমবার (১৩ জুলাই) এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া এবং অভিন্ন প্রশ্নপত্র অতীতের চেয়ে কঠিন হওয়ার অভিযোগ তুলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা সোয়া ১২টায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সামনের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে নগরীর বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষার্থীরা। অবরোধের ফলে সড়কের দু'পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকে চরম যাত্রী দুর্ভোগ হয়।

হাতেম আলী কলেজের শিক্ষার্থী আলিফ বলেন, বৈরী পরিবেশের মধ্যেও সোমবার পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। তা ছাড়া কঠিন পরীক্ষার আগেও পর্যাপ্ত বন্ধ দেওয়া হয়নি। উল্টো অতীতের চেয়ে এবার প্রশ্নপত্র কঠিন হয়েছে। এমনকি সিলেবাসের বাইরে থেকে প্রশ্ন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এছাড়াও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক স্থানেই পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিবেশ নেই। অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ার পরও এক বোর্ডে পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও সব বোর্ডে তা স্থগিত করা হয়নি। সমস্যাগুলো সমাধান না করেই শিক্ষামন্ত্রী আমাদের কটূক্তি করেছেন তাই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি। এছাড়াও তারা এই পরীক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন দাবি করেন।


Dummy Ad 1

শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে ‘বড় হুমকি’ অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬

শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে ‘বড় হুমকি’ অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি

নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে দেশে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি তত বাড়ছে। জনমনে ছড়াচ্ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। তৈরি হচ্ছে ভীতির পরিবেশ। প্রায় প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন জেলায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্রধারীদের তৎপরতার খবর সামনে আসায় নির্বাচনকেন্দ্রিক জননিরাপত্তার প্রশ্নটি বড় হয়ে সামনে আসছে।

নির্বাচনের আগে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যথারীতি তৎপরতা দেখালেও বাস্তব অবস্থার প্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের মধ্যেও অবৈধ অস্ত্রের অবাধ বিচরণ মানুষকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলছে। জনমনে ফেলছে শঙ্কার ছায়া।

স্ত্রের এ মহড়ার দ্রুত লাগাম টানা না গেলে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথ ক্রমশ কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠতে পারে, যা একদিকে আশঙ্কা আর অনিশ্চয়তা যেমন বাড়াবে, সরকারের জন্যও তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে উঠতে পারে ভীষণ চ্যালেঞ্জিং।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুনের ঘটনায়ও অপরাধীরা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে, যা আসন্ন দিনগুলোতে এই অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলতে পারে। তফসিল ঘোষণার আগে-পরে যেসব খুনের ঘটনা ঘটেছে, তা শুধু ভোটারদেরই নয়—নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রার্থীদেরও আতঙ্কিত করে তুলতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো অপরাধীদের মধ্যে ভয়ের জায়গা তৈরি করতে পারেনি। অপরাধী যে রাজনৈতিক দলের পরিচয়েই থাকুক না কেন তাদের বিষয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে শাস্তি নিশ্চিত করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা গেলে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ মিলবে—মনে করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় দেশের বহু থানা থেকে অস্ত্র লুট করা হয়েছে। সেসব অস্ত্র কী পরিমাণ উদ্ধার হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। নতুন করে দেশের বাইরে থেকেও অস্ত্র ঢুকছে বলে আলোচনা রয়েছে। নির্বাচনের মাঠে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সেসব অস্ত্র ব্যবহার করা হবে কি না—রয়েছে এ সংশয়ও।

অভ্যুত্থান-পরবর্তী ডিএমপির এক হাজার ৮৯৮টি অস্ত্র খোয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪১টি অস্ত্র এখনো হাতছাড়া। এখন পর্যন্ত এক হাজার ২৫৭টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।—ডিএমপির তথ্য

তবে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। গত ১ জানুয়ারি র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর ক্যাম্প কমান্ডার কে এ এম মামুন খান চিশতী জানান, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশে অস্ত্র মজুতের গোপন সংবাদ জানতে পারে পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাব। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি বিদেশি পিস্তল ও পাঁচটি গুলিসহ দুজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১২।

গত ৬ জানুয়ারি ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগরীর পল্লবী থানার আরমান কমিউনিটি লার্নিং সেন্টারের পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান চালিয়ে অত্যাধুনিক অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ চার সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল।

গত বছরের ২৭ মে ভোরে কুষ্টিয়া শহরের কালীশংকরপুর এলাকায় তিন ঘণ্টার এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ওরফে ফতেহ আলী ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদ ওরফে আবু রাসেল মাসুদকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে সুব্রত বাইনের অন্য দুই সহযোগী শুটার আরাফাত ও শরীফকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে পাঁচটি বিদেশি পিস্তল, ১০টি ম্যাগাজিন, ৫৩ রাউন্ড অ্যামোনিশন এবং একটি স্যাটেলাইট ফোন উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব বলছে, গত তিন মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ১৮৮টি দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৭৯ জনকে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী থানা লুটের ঘটনায় ৬৪১টি অস্ত্র এখনো পুলিশের হাতছাড়া।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, থানা থেকে লুট হওয়া এই অস্ত্রগুলো এখন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহার করা ৬৪১টি বৈধ অস্ত্রের হিসাবের বাইরে রাজধানীসহ সারাদেশে এ মুহূর্তে কী পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র রয়েছে তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই পুলিশের হাতে।

দু-চারটি অস্ত্র যে সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে না আমি তা বলবো না, ঢুকছে এবং ধরাও হচ্ছে। প্রতিদিন দু-একটি করে ধরা হচ্ছে। কোথাও কোনো রকমের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না—স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

সেনাবাহিনী, পুলিশ বা র‌্যাবের অভিযানেই শুধু নয়—দেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকেও অস্ত্র উদ্ধার এখন যেন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অস্ত্র ব্যবহার করে ঘটছে খুনের ঘটনা।

হরহামেশা প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মাত্র একদিন পরই গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীতে দিনদুপুরে প্রকাশ্যে গুলি করা হয় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে। তিনি ঢাকা-৮ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর হাদি মারা যান।

হাদিকে গুলির ঘটনার মাত্র একদিন আগেই ১১ ডিসেম্বর দুপুরে পুরান ঢাকার শ্যামবাজারে আবদুর রহমান ভূঁইয়া (৫৫) নামের এক মসলা ব্যবসায়ীকে দোকানে ঢুকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

গত ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্লবীতে একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে ঢুকে মুখোশ ও হেলমেট পরা সন্ত্রাসীরা পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করে। ১২ নভেম্বর মধ্য বাড্ডার কমিশনার গলির একটি দোতলা টিনশেড বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হন মামুন শিকদার (৩৯) নামের এক ব্যক্তি।

বিদায়ী বছরের শুরুর দিকে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর বনশ্রী ডি ব্লকের ৭ নম্বর রোডের ২০ নম্বর বাড়ির সামনে সোনা ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনকে (৪৩) ফিল্মি স্টাইলে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে প্রায় ১৬০ ভরি সোনা ও নগদ এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।

গত ২৫ মে রাতে বাড্ডা এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে দোকানের সামনে বসে চা পান করছিলেন বিএনপি নেতা কামরুল আহসান সাধন। হঠাৎ দুজন লোক তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে। পরে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে আন্ডারওয়ার্ল্ডের গডফাদারের সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে আসে।

২০২৪ সালে দেশে ৬৪৯টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ১০০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতায় খুন হয়েছেন ১০২ জন।—আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য

গত বছরের ১১ নভেম্বর পুরান ঢাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় তারেক সাইদ মামুনকে। চারদিন পরই ১৫ নভেম্বর লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জের পশ্চিম লতিফপুর এলাকায় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালামকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

নতুন বছরের শুরুতেই গত ৩ জানুয়ারি যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনকে (৫৫) মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়।

এর দুদিন পর ৫ জানুয়ারি যশোরের মনিরামপুরের বরফকল ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগীকে (৩৮) ডেকে নিয়ে খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদলের এক সাবেক নেতাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

সারাদেশে অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি

অভ্যুত্থান-পরবর্তীকালে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থানার অস্ত্র লুট করে নেয় দুর্বৃত্তরা। লুট হওয়া এসব অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘অভ্যুত্থান-পরবর্তী আমাদের ডিএমপির এক হাজার ৮৯৮টি অস্ত্র খোয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪১টি অস্ত্র এখনো হাতছাড়া। এখন পর্যন্ত এক হাজার ২৫৭টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।’

পুলিশের ব্যবহৃত লুণ্ঠিত অস্ত্র ছাড়াও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে অনেক অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এগুলোর সঠিক তথ্য অনুমানের ওপর ভিত্তি করে বলা যাবে না।

অস্ত্র জমা দিতে সরকারের নির্দেশনা ও পুরস্কার ঘোষণা

সরকারের পক্ষ থেকে বারবার লুণ্ঠিত অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েও কোনো কাজ না হওয়ায় এবং নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লুট হওয়া এসব অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করে সরকার।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ২৯৪, ফেব্রুয়ারিতে ৩০০, মার্চে ৩১৬, এপ্রিলে ৩৩৬, মে মাসে ৩৪১, জুনে ৩৪৪, জুলাইয়ে ৩৬২, আগস্টে ৩২১, সেপ্টেম্বরে ২৯৭, অক্টোবরে ৩১৯ ও নভেম্বরে খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে ২৭৯টি। অর্থাৎ, বিদায়ী বছরে ১১ মাসে মোট খুনের মামলা হয়েছে তিন হাজার ৫০৯টি।—পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য

গত ৬ জানুয়ারি পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদের প্রকৃত সন্ধানদাতাদের পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হবে।

পুরস্কারের পরিমাণ জানিয়ে তিনি বলেন, এলএমজিতে পাঁচ লাখ, এসএমজিতে দেড় লাখ, চায়না রাইফেলে এক লাখ এবং পিস্তল ও শটগানে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। প্রতি রাউন্ড গুলির জন্যও পুরস্কার থাকছে ৫০০ টাকা।

লুণ্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদের প্রকৃত সন্ধানদাতাকে কাছের থানায় যোগাযোগ করতে বলেছে পুলিশ

নির্বাচন ঘিরে সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে অবৈধ অস্ত্র

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গত ২৯ ডিসেম্বর জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচন টার্গেট করে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

‘দু-চারটি অস্ত্র যে সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে না তা আমি বলবো না, ঢুকছে এবং ধরাও হচ্ছে। প্রতিদিন দু-একটি করে ধরা হচ্ছে। কোথাও কোনো রকমের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না’—সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিচ্ছে। প্রায় ৩৫ হাজার বিজিবি সদস্য নির্বাচনে মোতায়েন থাকবেন। শঙ্কার প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচনে এখন কোনো শঙ্কা নেই।

প্রশাসনেও শঙ্কার ছাপ

অবৈধ অস্ত্র আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে বা কোনো আশঙ্কা আছে কি না—জানতে চাইলে পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, দেশে অবৈধ অস্ত্র কী পরিমাণ আছে সেটা তো বলা মুশকিল। আমাদের যদি জানা থাকতো যে এখানে ১০০টি অবৈধ অস্ত্র আছে তাহলে সেই অস্ত্রগুলো রিকোভারি করতাম। শুধু নির্বাচন নয়, যে কোনো সময় অবৈধ অস্ত্র দেশের জন্য অবশ্যই একটা থ্রেট। তবে নির্বাচনে মনে হয় না এটির খুব বেশি প্রভাব পড়বে।

র‌্যাবের অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, ‘অস্ত্র উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। গত তিন মাসে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমরা ১৮৮টি দেশি ও বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করি। এ সংক্রান্ত ৭৯ জনকে গ্রেফতার করি। এই তিন মাসে আমরা হত্যা মামলার ৫২২ জন আসামিকে গ্রেফতার করি। এছাড়া ডাকাতি মামলার ১৫১ জন, ছিনতাইবিরোধী অভিযানে ৭০ জন, মানবপাচারকারী ৪১ জন এবং মাদক মামলায় এক হাজার ২১০ জনকে গ্রেফতার করি। তিন মাসে আমরা মোট চার হাজার ৩৬৬ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।’

অপরাধীরা দেখছে গুলি বা হামলা করে খুব একটা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে না। বরং হামলা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রেষারেষির প্রতিযোগিতা চলছে। মামলা নিয়ে এমন প্রতিযোগিতা চললে অপরাধীরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে—এটিই স্বাভাবিক।—অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক

নির্বাচন সামনে রেখে র‌্যাবের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি আমাদের যে জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট এটির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবো।’

‘আমাদের নয় হাজারের কাছাকাছি জনবল রয়েছে। এ নিয়েই আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করবো। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবো। ভোটকেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার থাকবে। স্ট্রাইকিং ও মোবাইল ডিউটি হিসেবে বিজিবি এবং সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে’—যোগ করেন র‌্যাবের মহাপরিচালক।

রাজনৈতিক সহিংসতায় অবৈধ অস্ত্র

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, ২০২৪ সালে দেশে ৬৪৯টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ১০০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতায় খুন হয়েছেন ১০২ জন।

হত্যা মামলার পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণ

পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে ২৯৭টি খুনের মামলা হয়। অক্টোবরে এ সংখ্যা ছিল ৩২০। অর্থাৎ, সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে খুনের মামলা বাড়ে ২৩টি। ২০২৪ সালের অক্টোবরে সারাদেশে খুনের মামলা হয়েছিল ৩৯৯টি।

গত বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের খুনের মামলা বিশ্লেষণে দেখা যায়, মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোর মধ্যে অক্টোবরে ঢাকায় ২২টি ও গাজীপুরে ১১টি খুনের মামলা হয়। তবে সেপ্টেম্বরে ঢাকায় এ সংখ্যা ছিল ২৫টি ও গাজীপুরে তিনটি। পুলিশ রেঞ্জগুলোর মধ্যে অক্টোবরে ঢাকা রেঞ্জে ৫৯টি হত্যা মামলা হয়েছিল। চট্টগ্রাম রেঞ্জে সেপ্টেম্বরে ৫৫টি হত্যা মামলা হলেও অক্টোবরে তা বেড়ে হয় ৫৯টি। এসময়ে খুলনা রেঞ্জে ৩৪টি ও রাজশাহী রেঞ্জে হত্যা মামলা হয় ৪১টি।

খুনের ঘটনায় ১১ মাসে যত মামলা

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ২৯৪টি, ফেব্রুয়ারিতে ৩০০টি, মার্চে ৩১৬টি, এপ্রিলে ৩৩৬টি, মে মাসে ৩৪১টি, জুনে ৩৪৪টি, জুলাইয়ে ৩৬২টি, আগস্টে ৩২১টি, সেপ্টেম্বরে ২৯৭টি, অক্টোবরে ৩১৯টি ও নভেম্বরে খুনের ঘটনায় ২৭৯টি মামলা হয়েছে। অর্থাৎ, বিদায়ী বছরে ১১ মাসে মোট খুনের মামলা হয়েছে তিন হাজার ৫০৯টি।

২০২৪ সালের একই সময়ে (জানুয়ারি থেকে নভেম্বর) খুনের মামলা হয়েছিল তিন হাজার ২২৮টি।

যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, তফসিলের আগে চট্টগ্রামে একজন প্রার্থীকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা, তফসিলের একদিন পর গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ওসমান হাদির ওপর যে আক্রমণ—সন্দেহ নেই এসব ঘটনা প্রার্থীদের আতঙ্কে রাখবে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভয়ভীতি কাজ করবে এবং নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ভোটারদের এক ধরনের দ্বিধা-দ্বন্দ্বে রাখবে। কারণ, মানুষের ভোটাধিকারের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। চট্টগ্রামে প্রার্থীর ওপর গুলির ঘটনার পরই যদি সরকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জোরালোভাবে ব্যবস্থা নিতে পারতো তবে এখনকার পরিস্থিতি হয়তো দেখতে হতো না।

এ অপরাধ বিশেষজ্ঞের মতে, অপরাধীরা দেখছে গুলি বা হামলা করে খুব একটা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে না। বরং তাদের হামলা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রেষারেষির প্রতিযোগিতা চলছে। কোনো হামলা, আক্রমণ বা অপরাধ নিয়ে যখন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রেষারেষির প্রতিযোগিতা চলে তখন অপরাধীরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে এটিই স্বাভাবিক।

‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো অপরাধীদের মধ্যে ভয়ের জায়গা তৈরি করতে পারেনি। অপরাধী যে রাজনৈতিক দলের পরিচয়েই থাকুক না কেন তাদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ মিলবে’—যোগ করেন ড. তৌহিদুল হক।

জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ নুরুল হুদা জাগো নিউজকে বলেন, সবার কাছে তো অস্ত্র থাকে না। অস্ত্রের নির্দিষ্ট তথ্যগুলো যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জোগাড় করতে পারে তবে সেগুলো উদ্ধার করা সহজ হয়। এজন্য জনসাধারণের সাহায্য দরকার।

‘এর চেয়েও অতীতে আরও খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। টেনশনের কোনো কারণ নেই। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকতে হয়। অবৈধ অস্ত্রগুলো নির্বাচনের আগে দ্রুত উদ্ধার করা দরকার। অস্ত্র উদ্ধারের নানান পথ আছে। সেগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অ্যাপ্লাই করতে হবে’—বলেন সাবেক এই পুলিশপ্রধান।



জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর বিএনপি বাস্তবায়ন করবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর বিএনপি বাস্তবায়ন করবে: প্রধানমন্ত্রী

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ড. ইউনূস যখন জুলাই সনদে সই করার জন্য ডেকেছিলেন, সবার প্রথম জুলাই সনদে বিএনপি সই করেছিল। যে জুলাই সনদে বিএনপি সই করেছে, সেই জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর, শব্দ, লাইন ইনশাল্লাহ আমরা বাস্তবায়ন করবো।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানীর কবর জিয়ারত শেষে মাজার প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের জনগণ বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছে দেশ পরিচালনা করার জন্য। কাজেই সনদ যেটি বিএনপি সই করে এসেছে, সেই সনদে অন্যরাও সই করেছে। বিরোধী দলেরা প্রথমে দেখলাম দল সই করবে কি-না? ঢেলেঢালা। তাদের সঙ্গে একটি দল তখন সই-ই করেনি। তাদেরকে দেখলাম নির্বাচনের পরে গিয়ে হঠাৎ করে তড়িঘড়ি সই করেছে।’

তিনি বলেন, যারা বিএনপির খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও পেশাদার খেলোয়াড় তৈরিসহ জনকর্মসূচিতে বাধাগ্রস্ত করবে, বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করবে। কাজেই আমাদের সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।

স্বৈরাচার পালিয়ে গেলেও এখনো স্বৈরাচারের ভূত রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন সরকারপ্রধান। এজন্য সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে কেউ যাতে বাধাগ্রস্ত না করতে পারে। এ দেশকে আমাদের গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে ঠিক করতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরাই এ দেশ গড়ে তুলবো।

এসময় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আনোয়ারুল আজীম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ড বিতরণ ও প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


বাগেরহাট জাদুঘর
৪২০ নিদর্শনে সুলতানি আমলের হাতছানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ মে, ২০২৬

৪২০ নিদর্শনে সুলতানি আমলের হাতছানি

একতলা ভবনের তিনটি গ্যালারি। ভেতরে কাচের মধ্যে সাজিয়ে রাখা সুলতানি আমলের বিভিন্ন নিদর্শন। কোনোটির বয়স ৫০০ বছর, কোনোটি আবার তারচেয়েও বেশি।

বলা হচ্ছে বাগেরহাট জাদুঘরের কথা। ইতিহাস সংরক্ষণ করতে ১৯৯৫ সালে বাগেরহাট শহরের সুন্দরঘোনায় ষাট গম্বুজ মসজিদ চত্বরের দক্ষিণ পূর্ব কোণে নির্মাণ করা হয় জাদুঘরটি। মুসলিম সংস্কৃতি, খানজাহান আলীর (রহ.) স্মৃতি ও গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন সংরক্ষিত স্থাপনাটির নামকরণ করা হয় ‘বাগেরহাট জাদুঘর’। ২০০১ সালে এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।

সুলতানি আমলের নানা প্রত্নবস্তু ও ঐতিহাসিক প্রদর্শনী সামগ্রী দেখতে প্রতিদিন এই জাদুঘরে ভিড় করেন দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীরা। জাদুঘরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে প্রাচীন মসজিদের অলঙ্কৃত ফলক ও ইট, পুষ্পশোভিত ইট, প্রাচীন বাটখারা, কালির দোয়াত, পোড়ামাটির কারুকাজ, পোড়ামাটির পাইপ, পোড়ামাটির শিকল, তৈল প্রদীপ, শঙ্খের খোলক, আরবি অঙ্কিত লিপি ও খানজাহানের বসতভিটা থেকে প্রাপ্ত পানপাত্রসহ ৪২০টির বেশি প্রদর্শনী সামগ্রী। প্রতিটি নিদর্শনের পাশেই রয়েছে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, যা দর্শনার্থীদের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে।

সিরাজগঞ্জ থেকে আসা দর্শনার্থী আব্দুল কুদ্দুস বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘এখানে এসে যা কিছু দেখলাম সবকিছু শিকড়ের টান। অতীতে আমাদের মানবজাতির জীবনযাপন কেমন ছিল, তাদের সংস্কৃতি কেমন ছিল—তারই ঐতিহ্য ধারণ করে আমাদের এই জাদুঘর। বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমরা অতীতকে ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছি। আমরা আমাদের শিকড়কে হারাতে শুরু করেছি। শুধু বাগেরহাট নয়, সারাদেশের জাদুঘরে আমাদের বাঙালি ও মুসলমানদের যে সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আছে, সেগুলো স্মৃতিস্বরূপ ধরে রেখে এগুলোকে ব্যাপকভাবে প্রচার করা দরকার।’

আরেক দর্শনার্থী রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘এই জাদুঘরে আগেও দুইবার এসেছি, আজ আবার এলাম। এখানকার অনেক পুরোনো নিদর্শনগুলো দেখছি। আগেরকার মানুষের জীবনযাপন ও তাদের সংস্কৃতি দেখতে ভালোই লাগে।’

‘জাদুঘরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে প্রাচীন মসজিদের অলঙ্কৃত ফলক ও ইট, পুষ্পশোভিত ইট, প্রাচীন বাটখারা, কালির দোয়াত, পোড়ামাটির কারুকাজ, পোড়ামাটির পাইপ, পোড়ামাটির শিকল, তৈল প্রদীপ, শঙ্খের খোলক, আরবি অঙ্কিত লিপি ও খানজাহানের বসতভিটা থেকে প্রাপ্ত পানপাত্রসহ ৪২০টির বেশি প্রদর্শনী সামগ্রী’

চিতলমারী থেকে এসেছেন বাদশা শেখ। তিনি  বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘এখানে দাদারও দাদার আমলের জিনিসপত্র দেখে ভালোই লাগছে। সকাল থেকে ঘুরেফিরে দেখছি। এখানে কালাপাহাড়ের মমি রয়েছে। জনশ্রুতি আছে, খানজাহান আলী (রহ.) এই কালাপাহাড় আর ধলাপাহাড়ের পিঠে চরেই বাগেরহাটে এসেছিলেন।’

বাগেরহাট জাদুঘর অনেক সমৃদ্ধ বলে মনে করেন ইতিহাস-ঐতিহ্য বিষয়ক গবেষক সুব্রত কুমার মুখার্জি।

‘বাগেরহাট জাদুঘর একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। বিশেষ করে সুলতানি আমলের নিদর্শন ও পুরাকীর্তি নিয়ে জাদুঘরটি নির্মিত। এই অঞ্চলের ঐতিহ্য, পুরাকীর্তি ও স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত নিদর্শন নিয়ে জাদুঘরটি সাজানো হয়েছে’—কাস্টডিয়ান

তিনি  বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘এখানে খানজাহান আমলের অনেক নিদর্শন রয়েছে। এই জাদুঘরে এলে প্রাচীন আমলেও মুসলিম স্থাপত্যের যে সমৃদ্ধ ছিল সেটি বোঝা যায়। তবে এই জাদুঘরকে আরও সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন। বাগেরহাটের আরও ঐতিহ্য ও বিভিন্ন পুরাকীর্তি, প্রত্নতত্ত্ব এবং এ-সংক্রান্ত তথ্য এসব জাদুঘরে যুক্ত করা যেতে পারে।’

বাগেরহাট জাদুঘরের কাস্টডিয়ান মো. যায়েদ  বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘বাগেরহাট জাদুঘর একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। বিশেষ করে সুলতানি আমলের নিদর্শন ও পুরাকীর্তি নিয়ে জাদুঘরটি নির্মিত। এই অঞ্চলের ঐতিহ্য, পুরাকীর্তি ও স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত নিদর্শন নিয়ে জাদুঘরটি সাজানো হয়েছে। খানজাহান আলীর (রহ.) বসতভিটা খনন করে যে প্রত্নতত্ত্ব পাওয়া গেছে, সেগুলোও গ্যালারিতে সাজানো হয়েছে। দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন দর্শনার্থীরা এসে বাগেরহাটের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারেন।’

জাদুঘরটি দেখতে আসা দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ছে বলেও জানান তিনি। কাস্টডিয়ান মো. যায়েদ বলেন, ‘২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় চার লাখ দর্শনার্থী এসেছিল। চলতি অর্থবছরে সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করি।’