শেয়ার বাজার

দুর্যোগে ভোগান্তি
এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত না করায় তোপের মুখে শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত না করায় তোপের মুখে শিক্ষামন্ত্রী

ভারী বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার (১৩ জুলাই) সারাদেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পাঁচ জেলায় এদিন পরীক্ষা নেওয়া হয়নি।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কোথাও কোমরসমান পানি পেরিয়ে, কোথাও নৌকা ও ভ্যানে চড়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের।

এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। নেটিজেনদের অনেকে আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতের দাবি তুলেছেন।

সোমবার আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড (চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া) এবং মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। সময়সূচি অনুযায়ী- পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্র, হিসাববিজ্ঞান প্রথমপত্র ও যুক্তিবিদ্যা প্রথমপত্র পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

এদিন সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে বৃষ্টি উপেক্ষা করে পরীক্ষার্থীরা উপস্থিত হন। কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলার কেন্দ্রে হাঁটু ও কোমরসমান পানি পেরিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন পরীক্ষার্থীরা। বিভিন্ন কেন্দ্রের এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, কেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তায় কোমরসমান পানি। ভেতরে বারান্দায়ও পানি উঠেছে। তাছাড়া কেন্দ্রের প্রায় দুই-তিন কিলোমিটার এলাকার রাস্তায়ও ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। কোমরসমান পানি পেরোতে শিক্ষার্থীদের পোশাক ভিজে গেছে। ভেজা পোশাক নিয়েই তিন ঘণ্টা পরীক্ষা দিয়েছেন তারা। উদ্বেগ নিয়ে বাইরে কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে অভিভাবকরা।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ, ভাষাসৈনিক অজিত গুহ কলেজসহ জেলা শহরের অধিকাংশ কেন্দ্রের চিত্রই এমন। পাশাপাশি নোয়াখালীর হাতিয়ার কয়েকটি কেন্দ্রেও পানি জমে যায়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শত শত পরিবার জলাবদ্ধতায় আটকা পড়েছে। সেখানেও রয়েছেন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা।

ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থী-অভিভাবক

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়া এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক গণমাধ্যমকে বলেন, ‌মেয়েটা কেন্দ্রে ঢুকেছে পুরো শরীর ভেজা। পোশাক ভিজেছে, পায়ের জুতা-মোজা ভিজে একাকার। এমন পোশাক পরে কোনো শিক্ষার্থী তিন ঘণ্টা পরীক্ষা দিতে পারে? এগুলো কি সরকার, মন্ত্রীদের চোখে পড়ে না? তারা কি ভিন্নগ্রহের মানুষ?

আরেক অভিভাবক বলেন, ‌ট্রমার মধ্যদিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে ওরা। গত দুটি পরীক্ষায় বৃষ্টিতে ভিজে, পানিতে অনেকটা সাঁতরে কেন্দ্রে যাচ্ছে। অথচ কারও কোনো কথা নেই। মনে হচ্ছে দেশে কোনো সরকার নেই। জনগণের প্রতি, পরীক্ষার্থীদের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।

শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনায় সরব নেটিজেনরা

দুযোর্গপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা স্থগিত না করায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। বিশেষ করে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ওপর ক্ষোভ ঝাড়ছেন নেটিজেনরা। পাশাপাশি ট্রল করে এবং মিমস বানিয়ে মন্ত্রীর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন তারা।

সাদিকুর রহমান সাদাব নামে একজন চিকিৎসক ও অ্যাক্টিভিস্ট লিখেছেন, আজকের পর আর ১ মিনিটও শিক্ষামন্ত্রী থাকার অধিকার নাই মিলন সাহেবের। ওনার মতো জুলুমবাজ লোক শিক্ষামন্ত্রী থাকলে উনি একাই বিএনপির পতন ডেকে আনবেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে ওনার চেয়ে বাজে শিক্ষামন্ত্রী আর একজনও আসে নাই। দিপু মনি-নাহিদরাও বেটার ছিল এই লোকের চেয়ে।

তিনি লেখেন, বারবার সবাই অনুরোধ জানাচ্ছিলাম এইচএসসি এক্সাম পেছাতে। এই আবহাওয়ায় ঢাবি-বুয়েটের ক্লাস, এক্সাম অফ বা অনলাইনে। মিলন সাহেব কাল রাত ৫টায় বললো সে আবহাওয়া দেখে জানাবে এক্সামের বিষয়ে, ৭টায় নোটিশ দিলো এক্সাম হবে, আবহাওয়া নাকি ভালো। সারারাত এবং সারা সকাল বৃষ্টি হচ্ছে। হাঁটুপানিতে ভিজতে ভিজতে বাচ্চারা এক্সাম দিতে গেছে, আজ অনেক বাচ্চার এক্সাম মিস হবে। অনেকে পানিতে পড়ে যাচ্ছে, ভিজে যাচ্ছে ড্রেস, অ্যাডমিট কার্ড। বৃষ্টিতে ভিজে কাঁপতে কাঁপতে আজ এক্সাম দিচ্ছে বাচ্চারা। অমানবিকতার চূড়ান্ত লেভেল দেখলো বাচ্চারা। ১০ লাখ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক গালি দিতে দিতে আজ এক্সাম দিতে যাচ্ছে, গালি দিতে দিতে বের হবে। ফিজিক্স পরীক্ষা খারাপ হয়ে বাচ্চারা চলে যাবে ডিপ্রেশনে। অনেকের স্বপ্ন শেষ করে দিলো আজকে নিজের গোঁয়ারতুমির জন্য।

সাদমান আব্দুল্লাহ নামের একজন লেখেন, এই বৈরী আবহাওয়ায় কোনোভাবেই এইচএসসি পরীক্ষা হতে পারে না। শিক্ষামন্ত্রীর এরকম একরোখা মনোভাব এতগুলো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ক্ষতির মুখে ফেলছে। দ্রুত এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।

জাতীয় ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার লেখেন, আজকের এইচএসসি পরীক্ষাটি চাইলেই অন্য কোনো ছুটির দিনে স্থানান্তর করা যেত; কিন্তু তারেক রহমান সরকার জনবিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত নিল। জনবিচ্ছিন্ন লোকজন বিদেশ থেকে এসে দেশের মানুষের সুবিধা-অসুবিধা বুঝবেন না এটাই স্বাভাবিক। তাদের এই অদক্ষতার জন্য এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বড় ধরনের ট্রমার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম, জাহিন এশাসহ অসংখ্য ছাত্রনেতা এবং নেটিজেন এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত না করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে পোস্ট দিয়েছেন। অনেকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করছেন।

শিক্ষাবিদরাও ক্ষুব্ধ-বিস্মিত

পাবলিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের এমন পরিস্থিতির জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক শিক্ষাবিদও। তারা সরকারের এমন সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, কোমর বা হাঁটুসমান পানি পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে হওয়া কোনোভাবেই ন্যায্য নয়। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়া হলে সব পরীক্ষার্থীর জন্য সমান পরিবেশ নিশ্চিত করা যায় না। বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস বিবেচনায় নিয়ে আগেই পরীক্ষার সূচি পুনর্নির্ধারণ করা উচিত ছিল।

তিনি বলেন, ‘একই প্রশ্নপত্রে দেশের কোথাও পরীক্ষা হচ্ছে, আবার কোথাও স্থগিত থাকছে। এতে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নানান প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। যারা দুর্যোগের মধ্যে পরীক্ষা দিচ্ছে, তারা স্বাভাবিক পরিবেশে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। এতে পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস কয়েক দিন আগ থেকেই ছিল। তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও ভালো সমন্বয় থাকলে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব ছিল।

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের সমস্যার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। ধীরে ধীরে পাবলিক পরীক্ষাগুলোকে অনুকূল আবহাওয়ার সময়ে নিয়ে আসা প্রয়োজন। পাশাপাশি দুর্যোগকালে শিক্ষা কার্যক্রম কীভাবে চলবে, সে বিষয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় শিক্ষা পরিকল্পনাও থাকা উচিত।

দায় নিচ্ছে না শিক্ষা বোর্ড

দুর্যোগে এমন ভোগান্তিতেও পরীক্ষা গ্রহণ ও তা নিয়ে সমালোচনা হলেও দায় নিচ্ছে না শিক্ষা বোর্ডগুলো। তারা বলছে, পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত স্থানীয় জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নেওয়া হয়। ডিসি ও ইউএনওরা যে প্রতিবেদন দিয়েছেন, তাতে পরীক্ষা স্থগিতের পরামর্শ বা সুপারিশ করা হয়নি।

আন্তঃশিক্ষা শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসক বা স্থানীয় প্রশাসনের সুপারিশ বা পরামর্শে আমরা সিদ্ধান্ত নিই। চট্টগ্রাম বাদে সবগুলো জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার তথ্য দেওয়া হয়েছিল। তবে রাতের বৃষ্টিতে কয়েকটি এলাকায় নতুন করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডের নজরে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রয়োজন হলে বৃহত্তর পরিসরে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং শিক্ষা সচিব আবদুল খালেকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। একাধিকবার তাদের মোবাইলে কল দিয়ে তা রিসিভ হয়নি।

Dummy Ad 1

২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হতে পারে ৭ জানুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ মে, ২০২৬

২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হতে পারে ৭ জানুয়ারি

২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি শুরু হতে পারে। এ পরীক্ষা শেষ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি। এ সময়সীমার মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার একটি খসড়া রুটিন তৈরি করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।

প্রস্তাবিত এ রুটিনটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন দেওয়া হলে তা প্রকাশ করা হবে। আর যদি মন্ত্রণালয় কোনো সংশোধনী বা পরিবর্তন করে, তাহলে সেগুলো সংশোধন করে রুটিন চূড়ান্ত করা হবে।


এইচএসসি শুরু বৃহস্পতিবার, পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৬৭ হাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ জুন, ২০২৬

এইচএসসি শুরু বৃহস্পতিবার, পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৬৭ হাজার

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই)। প্রথমদিনে দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। মাদরাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি বোর্ডে এইচএসসির (বিএমটি) বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে। সব বোর্ডে সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। তবে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই ৩০ মিনিট আগেই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে।

পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৬৭ হাজার, কোন বোর্ডে কত?

এ বছর নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণ করেছেন ১২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৬ জন পরীক্ষার্থী। সারা দেশের দুই হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে তারা পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ঢাকা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৩১০টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা দেবেন তিন লাখ ৩৯৩ জন। রাজশাহী বোর্ডে ২০৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী এক লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, দিনাজপুরে ২১২টি কেন্দ্রে এক লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, যশোর বোর্ডে ২৪০টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এক লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন।

চট্টগ্রামের ১১৪টি কেন্দ্রে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন, সিলেটের ৯৬টি কেন্দ্রে ৭১ হাজার ৭১১ জন, কুমিল্লার ১৯৩টি কেন্দ্রে ৯৪ হাজার ৮০২ জন, ময়মনসিংহের ১১১টি কেন্দ্রে ৭৩ হাজার ৩৭ জন এবং বরিশালের ১৪২টি পরীক্ষা কেন্দ্রে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছর সারা দেশে ৪৬১টি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোট ৯২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবেন। আর কারিগরি বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এক লাখ সাত হাজার ৯৬৪ জন।

নকল-অনিয়ম ঠেকাতে কড়াকড়ি

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেন্দ্র পরিচালনা, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষার্থী প্রবেশ, কক্ষ ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে ডিজিটাল নজরদারিসহ সব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।

নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি পরীক্ষার কক্ষে প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষ পরিদর্শক থাকবে। কোনো কক্ষে দুজনের কম দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। বসার ক্ষেত্রেও নির্ধারণ করা হয়েছে নির্দিষ্ট মানদণ্ড। ৫ বাই ৬ ফুট দীর্ঘ বেঞ্চে দুজন এবং ৪ ফুট বেঞ্চে একজন পরীক্ষার্থী বসতে পারবেন।

পরীক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৮টা থেকে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে সবাইকে নির্ধারিত কক্ষে প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে দেরিতে আসা শিক্ষার্থীদের তথ্য রেজিস্টারে সংরক্ষণ করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে।

প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনাতেও রাখা হয়েছে একাধিক নিরাপত্তা স্তর। পরীক্ষা শুরুর তিনদিন আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যাচাই করতে হবে।

পরীক্ষার দিন নির্ধারিত প্রশ্নপত্র ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের প্রহরায় কেন্দ্রে আনা হবে এবং মোবাইলের মাধ্যমে নির্ধারিত সেট কোড পাওয়ার পরই প্রশ্নপত্র খোলা যাবে। নির্ধারিত সেটের বাইরে পরীক্ষা নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক

পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিও এবার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা চালু রাখতে হবে এবং ক্যামেরার আইডি, পাসওয়ার্ড, ব্র্যান্ড, ডিভাইস সিরিয়াল নম্বর ও ডিভিআর/এনভিআর সংযোগের তথ্য শিক্ষা বোর্ডে জমা দিতে বলা হয়েছে।

সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করে কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো কেন্দ্রে সিসিটিভি অকার্যকর থাকলে বা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় শৈথিল্য ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীরাও কাঁটাযুক্ত ঘড়ি ছাড়া অন্য কোনো ডিভাইস বহন করতে পারবে না।

পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রে অপ্রয়োজনীয় উপস্থিতি বন্ধ রাখা, টয়লেট তল্লাশি, প্রশ্ন ও উত্তরপত্র পরিবহনে পুলিশের সম্পৃক্ততা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র আলাদাভাবে সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কন্ট্রোল রুম চালু

এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে সার্বিক সমন্বয় ও জরুরি যোগাযোগের জন্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ড বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। কন্ট্রোল রুমের টেলিফোন নম্বর- ০২-২২৩৩৬৯৮১৫।

এছাড়া যোগাযোগের জন্য ০১৫৫০৪১১২০৩, ০১৭১৪৯৯৪০৭৩ ও ০১৭৫6১০৩১৫২ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। ই–মেইল ঠিকানা: controller@dhakaeducationboard.gov.bd।


এসএসসি-সমমান পরীক্ষায় এবার ছাত্রী কম, ছাত্র বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল, ২০২৬

এসএসসি-সমমান পরীক্ষায় এবার ছাত্রী কম, ছাত্র বেশি

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বিগত কয়েক বছর ধরে ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ বেশি ছিল। এবার তাতে ছন্দপতন ঘটেছে। এবার ছাত্রীদের চেয়ে বেশি সংখ্যক ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এমনটিই দেখা গেছে।

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন। আর ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। হিসাব অনুযায়ী- এবার ছাত্রীর চেয়ে ছাত্রের সংখ্যা ৩ হাজার ২৬৬ জন বেশি।

গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে ছাত্রের চেয়ে ছাত্রীর সংখ্যা ৬ হাজার ৫০৮ জন বেশি ছিল। ওই বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ছিল ৯ লাখ ৬১ হাজার ২৩১ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৯ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩৯ জন।

সাধারণ ৯ বোর্ডে এসএসসিতে ছাত্রীরা এগিয়ে

দেশের সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ড থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের হিসাব করলে সেক্ষেত্রে আবার ছাত্রীরা এগিয়ে। ঢাকাসহ ৬টি বোর্ডে ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা বেশি অংশ নিচ্ছে। আর রাজশাহী, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহে ছাত্রদের অংশগ্রহণের হার বেশি।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৯টি বোর্ড মিলিয়ে এবার মোট পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন। তাদের মধ্যে ছাত্রী ৭ লাখ ৫১ হাজার ৯৩ জন। আর ছাত্র ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৫ জন। সেই হিসাবে ৯টি সাধারণ বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় ছাত্রের চেয়ে ছাত্রীর সংখ্যা ৮৩ হাজার ৭৮৮ জন বেশি।

বোর্ডওয়ারি হিসাবে ঢাকা বোর্ডে ছাত্র ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৩৯ জন, ছাত্রী ১ লাখ ৯৬ হাজার ৭১১ জন। কুমিল্লা বোর্ডে ছাত্র ৫৮ হাজার ৮৪৭ এবং ছাত্রী ৮৭ হাজার ৯৭০ জন; যশোর বোর্ডে ছাত্র ৬৬ হাজার ৯২৮ জন এবং ছাত্রী ৬৮ হাজার ১৬১ জন; চট্টগ্রামে ছাত্র ৫৬ হাজার ৩২৫ জন এবং ছাত্রী ৭৪ হাজার ৩৪৩ জন; বরিশালে ছাত্র ৩৭ হাজার ৯৪৪ জন এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৮৮৭ জন; সিলেটে ছাত্র ৩৫ হাজার ৫৩০ এবং ছাত্রী ৫৩ হাজার ৮৯১ জন।

বাকি তিনটি বোর্ডে ছাত্র বেশি। সেগুলো হলো- রাজশাহীতে ছাত্র ৯৩ হাজার ১৭৪ জন এবং ছাত্রী ৮৪ হাজার ৫৩৫ জন; দিনাজপুরে ছাত্র ৯২ হাজার ৬৯২ জন এবং ছাত্রী ৮৯ হাজার ১৬২ জন। এছাড়া ময়মনসিংহে ছাত্র ৫৫ হাজার ৯২৬ জন এবং ছাত্রী ৫২ হাজার ৪৩৩ জন।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে ছাত্রী বেশি। এটা বহু বছর ধরেই বেশি। আমরা চাই, ছাত্র ও ছাত্রীদের সমান অংশগ্রহণ থাকুক। কেউ এগিয়ে যাবে, কেউ পিছিয়ে পড়বে; সেটা চাই না। তবে সাধারণ ধারার শিক্ষায় ছাত্রীরা এখন এগিয়ে এটা বলতে দ্বিধা নেই।

কারিগরিতে ছাত্রীর চেয়ে ছাত্র তিনগুণ বেশি

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে বরাবরের মতো এবারও ছাত্র বেশি। তবে এবার ছাত্রীদের চেয়েও তিনগুণ বেশি ছাত্র এ বোর্ড থেকে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে, যা মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীর অনুপাতে বড় প্রভাব ফেলেছে। কারিগরি বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ১ হাজার ৫০৯ জনই ছাত্র। আর মাত্র ৩৩ হাজার ১৫১ জন ছাত্রী।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি ছাত্রীদের কারিগরি শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়াতে। সামাজিক অসচেতনতা ও নানান প্রতিবন্ধকতায় তা সম্ভব হচ্ছে না। আশা করি সামনের দিনে সরকারের উদ্যোগে কারিগরি শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়বে।’

দাখিলেও ছাত্র বেশি, ছাত্রী কম

মাদরাসা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায়ও এবার ছাত্র বেশি। এ বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৬১ হাজার ৪৯১ জন ছাত্র এবং ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৫ জন ছাত্রী।

মাদরাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিঞা মো. নুরুল হক বলেন, ধীরে ধীরে মাদরাসায় ছাত্রীর হার বাড়ছে। আগে এর চেয়েও কম ছিল। এখন ছাত্রীদের মাদরাসায় আসার হার যেভাবে বাড়ছে, তাতে আগামী তিন-চার বছরে ছাত্র ও ছাত্রী প্রায় সমান হয়ে যাবে।

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী প্রধান অধ্যাপক রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘মাদরাসা শিক্ষায় নারী কম, কারিগরিতে নারী কম; সে কারণে গ্র্যান্ড টোটাল হিসাবে ছাত্রীদের সংখ্যা কিছুটা কম। এতে নেতিবাচক কিছু নেই। লক্ষ্য হওয়া উচিত সবাই শিক্ষার আওতায় আসছে কি না এবং মেয়ে হওয়ায় কেউ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কি না। আবার পরিবারের হাল ধরতে গিয়ে কোনো ছেলেও লেখাপড়া থেকে ছিটকে যাচ্ছে কি না, সেদিকে নজর দিতে হবে।’