শেয়ার বাজার

নামাজের কেরাতে ভুল হয়ে গেলে করণীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪

নামাজের কেরাতে ভুল হয়ে গেলে করণীয়

নামাজে কেরাত অর্থাৎ কোরআন থেকে কিছু আয়াত পড়া ফরজ। আল্লাহ নামাজে কোরআন পড়ার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন,

فَاقۡرَءُوۡا مَا تَیَسَّرَ مِنَ الۡقُرۡاٰنِ

তোমরা কোরআন থেকে যতটুকু সহজ হয় ততটুকু পড়। (সুরা মুজ্জাম্মিল: ২০)

নামাজে প্রতি রাকাতে কেরাত পড়া ফরজ। সুরা ফাতেহা পড়া ও সুরা মেলানো ওয়াজিব। সামর্থ্য থাকার পরও কেউ যদি কোনো রাকাতে কুরআন থেকে কিছুই না পড়ে, তাহলে ওই রাকাতটি পূর্ণ হবে না। ভুল করে সুরা ফাতেহা বা ফাতেহা-পরবর্তী কেরাত না পড়লে সাহু সিজদা দিতে হবে। সাহু সিজদা না দিলে নামাজ আবার পড়া ওয়াজিব হবে।

নামাজে কেরাত পড়তে গিয়ে নামাজ আদায়কারী যদি ভুল করে, তাহলে দেখতে হবে ভুলটি কোন পর্যায়ের বা কতটা গুরুতর? কেরাতের সাধারণ ভুলে নামাজ নষ্ট হয় না। আয়াতের বক্তব্য পুরোপুরি পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং ইমান-বিরোধী কোনো অর্থ সৃষ্টি হয় এ রকম গুরুতর ভুল করলে নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে। তবে ভুল করার পর ওই রাকাতেই মুসল্লির লোকমা শুনে বা নিজে থেকেই ইমাম বা একা নামাজ আদায়কারী যদি ভুল ঠিক করে আয়াতটি শুদ্ধভাবে পড়ে, তাহলে নামাজ শুদ্ধ হবে। ওই রাকাতে আয়াতটি শুদ্ধ না করলে নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে। পরবর্তী রাকাতে শুদ্ধ করে পড়লেও নামাজ শুদ্ধ হবে না।

গুরুতর ভুলের উদাহরণ হলো, কোরআনে আল্লাহ বলেছেন,

فَاَمَّا مَنۡ ثَقُلَتۡ مَوَازِیۡنُهٗ فَهُوَ فِیۡ عِیۡشَۃٍ رَّاضِیَۃٍ

অর্থ: যার নেকের পাল্লা ভারি হবে, সে সুখী জীবন যাপন করবে। (সুরা কারিয়া: ৬, ৭)

কেউ যদি নামাজের কেরাতে আয়াতটিকে পরিবর্তন করে এ রকম পড়ে,

فاما من ثقلت موازینه فامه هاویه

অর্থ: যার নেকের পাল্লা ভারি হবে, তার আবাস হবে হাবিয়া।

তাহলে অর্থ পুরোপুরি বিপরীত ও ইমান বিরোধী হয়ে যাওয়ায় এটা গুরুতর ভুল গণ্য হবে এবং ওই রাকাতে ভুলটি শুদ্ধ না করলে নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে।


ইসলামি শরিয়তে তৃতীয় লিঙ্গের পরিচয় ও বিধান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি, ২০২৪

ইসলামি শরিয়তে তৃতীয় লিঙ্গের পরিচয় ও বিধান

বার্তাবেলা ডেস্ক: যেসব মানুষের পুলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয়টিই রয়েছে অথবা কোনোটিই নেই, ইসলামে তাদের খুনসা বা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ বলা হয়। অর্থাৎ একই শরীরে নারী ও পুরুষ উভয় বৈশিষ্ট্য থাকলে বা কোনো লিঙ্গবৈশিষ্ট্য না থাকলে তারা ইসলামে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ বিবেচিত হয়।

ইসলামি শরিয়তে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:

এক. পুরুষ তৃতীয় লিঙ্গ

তৃতীয় লিঙ্গের যেসব মানুষের মধ্যে পুরুষ বৈশিষ্ট্য প্রবল থাকে ইসলামে পুরুষ গণ্য করা হয়। যেমন দাড়ি-গোঁফ গজানো, নারী সহবাসে সক্ষমতা, স্বপ্নদোষ হওয়া ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেলে তাকে পুরুষ গণ্য করা হয় এবং পুরুষের যাবতীয় বিধিবিধান তার ব্যাপারে প্রযোজ্য হয়। যেমন নারীর সাথে তার বিয়ে বৈধ হয়, পুরুষের সাথে অবৈধ হয়, নারীর সাথে পর্দা জরুরি হয় এবং মিরাসের সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে তাকে পুরুষ বিবেচনা করে সম্পদ বণ্টন করা হয়।

দুই. নারী তৃতীয় লিঙ্গ

তৃতীয় লিঙ্গের যেসব মানুষের মধ্যে নারী বৈশিষ্ট্য প্রবল তাকে নারী গণ্য করা হয়। যেমন যেসব হিজড়ার স্তন, ঋতুস্রাব, সহবাসের উপযোগিতা, গর্ভ সঞ্চার হওয়া ইত্যাদি নারী বৈশিষ্ট্য থাকে, ইসলামে তাদের নারী গণ্য করা হয় এবং নারীদের যাবতীয় বিধিবিধান তার ব্যাপারে প্রযোজ্য হয়। যেমন পুরুষের সাথে তার বিয়ে বৈধ হয়, নারীর সাথে অবৈধ হয়, পুরুষের সাথে পর্দা জরুরি হয় এবং মিরাসের সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে তাকে নারী বিবেচনা করে সম্পদ বণ্টন করা হয়।

তিন. জটিল তৃতীয় লিঙ্গ

তৃতীয় লিঙ্গের যেসব মানুষের মধ্যে নারী-পুরুষের কোনো বৈশিষ্ট্যই পরিলক্ষিত হয় না অথবা উভয় ধরনের বৈশিষ্ট্য সমানভাবে পরিলক্ষিত হয়, তাদের শরিয়তের পরিভাষায় খুনসায়ে মুশকিলা বা জটিল তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ গণ্য করা হয়। তাদের ব্যাপারে শরিয়তের নির্দেশনা হলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিভিন্ন চিহ্ন বা আলামতের ভিত্তিতে তাকে পুরুষ বা নারী শ্রেণিভুক্ত করার সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। সাধারণত যে কোনো দিকে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য প্রবল হয়।

যদি তৃতীয় লিঙ্গের বিরল কোনো মানুষকে কোনোভাবেই কোনো একটি শ্রেণিভুক্ত করা না যায়, তাহলে চিকিৎসার মাধ্যমে নারী বা পুরুষের বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হওয়ার চেষ্টা করা তার জন্য জায়েজ। চিকিৎসা নেওয়ার পর শরীরে প্রকাশিত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী তাকে পুরুষ বা নারী বিবেচনা করা হবে। এর আগ পর্যন্ত পর্দা ও বিয়ের ক্ষেত্রে তার ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। অর্থাৎ পুরুষরা তাকে নারী ও নারীরা পুরুষ বিবেচনা করবে। উত্তরাধিকারের সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে যদি নারী ও পুরুষ হিসেবে সে সমান সম্পত্তির অধিকারী হয়, তাহলে ওই পরিমাণ সম্পত্তি তাকে দিতে হবে। যদি নারী বা পুরুষ হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণ সম্পত্তির অধিকারী হয়, তাহলে তাকে যে লিঙ্গের বিবেচনা করলে সে তুলনামূলক কম সম্পত্তি পাবে, তাকে ওই লিঙ্গের বিবেচনা করে সম্পত্তি বণ্টন করতে হবে।


ঈদ সালামি বলে যাকাত দেওয়া জায়েজ কি ??

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল, ২০২৪

ঈদ সালামি বলে যাকাত দেওয়া জায়েজ কি ??

যাকাত আদায় হওয়ার জন্য জাকাতদাতার নিয়ত জরুরি, জাকাত গ্রহণকারীর জানা জরুরি নয় যে তাকে জাকাত দেওয়া হচ্ছে। তাই ঈদ সালামি বলে জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত ব্যক্তিকে জাকাত আদায়ের নিয়তে টাকা দিলে তা জাকাত হিসেবে আদায় হয়ে যাবে। (রদ্দুল মুহতার: ২/২৬৮)

একইভাবে জাকাত আদায়ের উপযুক্ত ব্যক্তির অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদেরও ঈদের সালামি হিসেবে জাকাত দিলে জাকাত আদায় হয়ে যাবে যদি ওই টাকা ওই ব্যক্তির কাছে পৌঁছবে তা নিশ্চিত থাকে এবং অনর্থক কাজে নষ্ট হওয়ার ভয় না থাকে।

জাকাত ইসলামের পাঁচ রোকনের একটি। প্রত্যেক সম্পদশালী মুসলমানের অন্যতম ফরজ কর্তব্য হলো, প্রতি বছর তার বর্ধনশীল সম্পদের চল্লিশ ভাগের এক ভাগ দান করে দেওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা নামাজ কায়েম কর ও জাকাত দাও এবং যে নেক আমল তোমরা নিজদের জন্য আগে পাঠাবে, তা আল্লাহর কাছে পাবে। তোমরা যা করছ নিশ্চয় আল্লাহ তা দেখেন। (সুরা বাকারা: ১১০)