শেয়ার বাজার

প্রথম একনেক সভায় ৪ হাজার ৪৫৩ কোটি ব্যয়ে ৯ প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

প্রথম একনেক সভায় ৪ হাজার ৪৫৩ কোটি ব্যয়ে ৯ প্রকল্প অনুমোদন

বার্তাবেলা ডেস্ক: চলতি অর্থবছরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সপ্তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর এটিই হচ্ছে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত নতুন সরকারের প্রথম একনেক সভা। প্রথম সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং সংস্থার ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ৯টি প্রকল্পের মোট ব্যয় ৪ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৩ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে রাজধানীর শের-ই বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তবে চট্টগ্রাম মহানগরীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তবে ক্লাইমেট রেজিলেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার মেইনস্ট্রিমিং প্রজেক্ট এবং ঢাকা জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদন পাওয়া অন্যান্য প্রকল্পগুলো হলো:

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্ৰণালয়ের ইন্টিগ্রেটিং ক্লাইমেট চেন্জ এডাপশন ইনটু সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট পাথওয়েস অব বাংলাদেশ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দেশের ৪৮ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএইউ) এর অধীনে সুপার স্পেশিয়ালাইজড হাসপাতাল স্থাপন (২য় সংশোধিত), পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের পিডিবিএফ-এর কার্যক্রম সম্প্রসারণ প্রকল্প ২য় পর্যায়।

বিদ্যুৎ বিভাগের ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিঃ (ওজোপাডিকো) এলাকার জন্য স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারিং (২য় পর্যায়), দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রস্তাবিত দুদকের খুলনা, রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল এবং সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ এবং ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ এবং পরিকল্পনা বিভাগের আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট (ইউআরপি): প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেশন এন্ড মনিটরিং ইউনিট (পিসিএমইউ) (৪র্থ সংশোধিত) প্রকল্প। এছাড়া, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের চলমান সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেসিপ) (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

Dummy Ad 1

মন্দা কাটাতে নতুন পণ্য, বাইব্যাক ও প্রি-ওপেনিং চালুর প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মন্দা কাটাতে নতুন পণ্য, বাইব্যাক ও প্রি-ওপেনিং চালুর প্রস্তাব

পুঁজিবাজারের চলমান মন্দা কাটিয়ে স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল লেনদেন নিশ্চিত করতে নতুন ট্রেডিং কৌশল ও পণ্য চালু, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা প্রি-ওপেনিং সেশন পুনরায় চালু এবং দীর্ঘমেয়াদে শেয়ার বাইব্যাকের সুযোগ চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

এছাড়া বাজারে তারল্য বাড়ানো, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার, ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক চাপ কমানো, পরিদর্শন ও নজরদারি কার্যক্রম আরও কার্যকর করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগত ও প্রক্রিয়াগত বাধা দূর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বোর্ডরুমে শীর্ষ ব্রোকারেজ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব প্রস্তাব উঠে আসে। স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল লেনদেন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

বৈঠকে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং শীর্ষ ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকের শুরুতে নুজহাত আনোয়ার বলেন, পুঁজিবাজারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিয়ে অংশীজনদের মতামত ও বাস্তব অভিজ্ঞতা শোনাই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। তাদের যৌক্তিক ও গঠনমূলক পরামর্শ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী ডিএসইর বোর্ড ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) অবহিত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, ডেরিভেটিভস মার্কেট চালুর প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। সফটওয়্যারসহ প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সাম্প্রতিক পাঁচটি ব্রোকারেজ-সংক্রান্ত ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের বিষয়েও ডিএসই কাজ করছে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, আলোচনায় মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। প্রথমত, পুঁজিবাজারের দীর্ঘদিনের কিছু অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে। দ্বিতীয়ত, বাজার বর্তমানে কঠিন ও হতাশাজনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতির কারণ চিহ্নিত করা এবং তা থেকে উত্তরণের উপায় নির্ধারণ করাই আলোচনার অন্যতম উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, অতীতের অমীমাংসিত বিষয় ও বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সম্মিলিতভাবে আলোচনা করলে কার্যকর সমাধানের পথ বের করা সম্ভব। অতীত ও বর্তমানের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধানের প্রস্তাবও দিতে হবে। শুধু সমস্যা চিহ্নিত করাই যথেষ্ট নয়, সমাধানের পথও খুঁজে বের করতে হবে।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, বাজারের স্থিতিশীলতা, তারল্য বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন প্রস্তাব দেন। দীর্ঘদিনের অনিষ্পন্ন বিষয়গুলো দ্রুত পর্যালোচনা করে বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

বক্তারা নতুন ট্রেডিং কৌশল ও পণ্য প্রবর্তনের পাশাপাশি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা প্রি-ওপেনিং সেশন পুনরায় চালুর কারিগরি ও বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা পর্যালোচনার প্রস্তাব দেন।

পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ স্কিমের মেয়াদ ও ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সময় বৃদ্ধির বিষয়টি পর্যালোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। মেম্বারস মার্জিন নেট-অফের সুযোগ সৃষ্টি করে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যয় ও তারল্য ব্যবস্থাপনার চাপ কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।

পরিদর্শন ও নজরদারি কার্যক্রম আরও নিয়মিত, তথ্যনির্ভর, ঝুঁকিভিত্তিক ও স্বচ্ছ করার প্রস্তাবও আসে বৈঠকে। বক্তারা সিস্টেমভিত্তিক তথ্য যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে স্বাভাবিক ট্রেডিং ভলিউমের পরিবর্তে অস্বাভাবিক মূল্য পরিবর্তন এবং প্রকৃত অনিয়মের লক্ষণকে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।

বক্তারা পুঁজিবাজারকে শুধু ইকুইটিনির্ভরতা থেকে বের করে বন্ডসহ অন্যান্য আর্থিক উপকরণের পরিধি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে ডিলারদের ভূমিকা ও দায়িত্ব নির্ধারণে আরও সুস্পষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রণয়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগত ও প্রক্রিয়াগত বাধা চিহ্নিত করে তা দূর করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিনিয়োগকারী-কেন্দ্রিক সেমিনার ও সংলাপ আয়োজন এবং উচ্চ সম্পদসম্পন্ন বিনিয়োগকারী ও প্রকৃত মার্কেট প্লেয়ারদের সঙ্গে ডিএসইর সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিনিধিরা।

দেশের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আসতে উৎসাহিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে শেয়ার বাইব্যাকের সুযোগ চালুর সম্ভাবনা পর্যালোচনার আহ্বানও জানান তারা।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, ডিএসইর তথ্যপ্রযুক্তি ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা বোর্ড অনুমোদন করেছে এবং তা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারী সুরক্ষায় পরিদর্শন ও নজরদারি কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং তথ্যভিত্তিক সফটওয়্যার উন্নয়নে কাজ চলছে। এতে পরিদর্শন প্রক্রিয়া কাঠামোবদ্ধ হবে এবং তথ্য সমন্বয় ও যাচাই সহজ হবে।

বিএসইসির উদ্যোগে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল), সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) ও তথ্যপ্রযুক্তি দলের সমন্বয়ে নিয়মিত সভার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। অনলাইনে হিসাব খোলা, খুচরা বিনিয়োগকারীদের সেবা সহজ করা এবং টি+১ সেটেলমেন্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে বলেও জানানো হয়।

নতুন ওয়েবসাইট প্রসঙ্গে নুজহাত আনোয়ার বলেন, এর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের সংবাদ সম্মেলনে এটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে পুরোনো ওয়েবসাইট আরও দুই থেকে তিন মাস চালু থাকবে। ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে এসময় নতুন ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন করা হবে।

তিনি বলেন, ডিএসইর কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি পুরো পুঁজিবাজারের ইকোসিস্টেমের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা হবে।