ইউক্রেনে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতভর চালানো এই হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। হামলায় বিভিন্ন শিল্প স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে রাশিয়ার চালানো সবচেয়ে ‘নৃশংস’ হামলাগুলোর একটি বলে মন্তব্য করেছেন।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ অঞ্চলের প্রিলুকি শহরে। সেখানে রাশিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র পাঁচতলা আবাসিক ভবনে আঘাত হানলে ভবনের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে।
ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ বৃহস্পতিবার সকালে জানায়, প্রিলুকিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২ হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রাজধানী কিয়েভে একটি আবাসিক ভবনে রুশ বিমান হামলার ঘটনায়ও দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এতে কিয়েভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারজনে।
এর আগে ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান ভিহিভস্কি জানিয়েছিলেন, দেশজুড়ে হামলায় ২৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রিলুকিতেই মারা যান ২০ জন, যাদের মধ্যে পাঁচজন শিশু।
বুধবার সন্ধ্যায় কিয়েভের একটি শহরতলিতে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আরও দুজন নিহত হন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রসিকিউটর কার্যালয়।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, হামলায় সারা দেশে প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন। রাজধানী কিয়েভ ছাড়াও মধ্যাঞ্চলের ওলেক্সান্দ্রিয়া ও ক্রেমেনচুক শহরেও বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতভর দেশটির বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে রাশিয়া। এর মধ্যে অনেকগুলো ছিল অত্যন্ত দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। পাশাপাশি কয়েক ডজন শাহেদ ড্রোনও ব্যবহার করা হয়।
জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে এবং শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে। তিনি এটিকে রাশিয়ার চালানো সবচেয়ে ‘নৃশংস’ হামলাগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেন।
হামলার সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্মদিনের কথাও উল্লেখ করেন জেলেনস্কি। তার ভাষায়, পুতিন নিজেকেই এমন একটি ‘জন্মদিনের উপহার’ দিয়েছেন, যেখানে শিশু ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।
প্রিলুকিতে হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়। একটি খননযন্ত্রের পাশাপাশি বহু উদ্ধারকর্মী হাতে কোদাল নিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করেন।
ভবনের যেসব অংশ এখনো দাঁড়িয়ে ছিল, সেগুলোর ওপরের তলায় পৌঁছাতে উদ্ধারকর্মীরা মই ব্যবহার করেন। ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে অন্তত ১৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শহরটিতে প্রায় ৫৫ জন আহত হয়েছেন।
প্রিলুকির উপমেয়র দানিলো সাভেনকো বলেন, শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় ব্যাপক ধ্বংস হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি স্ত্রীকে নিয়ে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান।
ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার এই ব্যাপক হামলা এমন এক সময়ে হলো, যখন দুই দেশের যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে এবং বেসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স









