শেয়ার বাজার

আজও ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক ফোরাম ও চাকরিচ্যুতদের মতিঝিলে অবস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আজও ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক ফোরাম ও চাকরিচ্যুতদের মতিঝিলে অবস্থান

রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সচেতন গ্রাহক ফোরাম ও চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পৃথক কর্মসূচি পালন করছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেও ব্যাংকটির দিলকুশার প্রধান কার্যালয় ও শাপলা চত্বর এলাকায় তারা অবস্থান নেন।

দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান নিয়ে সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এস আলম গ্রুপসহ ব্যাংক লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তারা। এর আগে টানা পাঁচদিন ধরে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে ফোরামটি।

অন্যদিকে শাপলা চত্বর এলাকায় অবস্থান নেন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ‘দফা এক, দাবি এক চাকরি ফেরত চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। চট্টগ্রামের পটিয়া থেকেও শতাধিক চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন বলে জানান আন্দোলনকারীরা।

চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, গত রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হলেও এখনো তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাননি তারা। গভর্নর তাদের সঙ্গে দেখা না করলে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রক্রিয়া যখন শেষ পর্যায়ে, তখন ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার নানা ষড়যন্ত্র চলছে। এর অংশ হিসেবে একটি চক্র ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার যে কোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে গ্রাহকরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। গ্রাহকদের স্বার্থে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

ফোরামের সচিব মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ফেরাতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে এস আলম গ্রুপের বিদেশে পাচার করা সম্পদ উদ্ধার, অবৈধ ঋণ সুবিধা সমন্বয় এবং সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহালের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, এস আলমের সময়ে অনেককে যথাযথ নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে তাদের চাকরিতে রাখার সুযোগ তৈরি করতে পরীক্ষা নেওয়া হয়। যারা ওই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, তাদের অনেকে এখনো ব্যাংকে কর্মরত। কিন্তু আন্দোলনকারীদের অনেকে ওই পরীক্ষায় অংশ নেননি।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা মিজান। তিনি বলেন, পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে আদালতে যাওয়ার কারণে অনেকেই পরীক্ষায় অংশ নেননি। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সবাই চাকরিতে বহাল রয়েছেন—এ দাবিও সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। চাকরি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা আনোয়ার বলেন, কোনো নোটিশ বা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন বেকার থাকায় পরিবার নিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চাকরিতে পুনর্বহালসহ প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

অপর আন্দোলনকারী আশরাফ বলেন, চাকরি হারানোর পর পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন তারা। চাকরি ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।

গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে চাকরিচ্যুতদের বিরুদ্ধে ঋণ বিতরণ ও অনিয়মে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হলেও এসব অভিযোগের বিষয়ে আন্দোলনরতদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

Dummy Ad 1

স্নাতকদের সেমিকন্ডাক্টর টেস্টিং প্রশিক্ষণ চালু বিএসআইএ-সিসিপির

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

স্নাতকদের সেমিকন্ডাক্টর টেস্টিং প্রশিক্ষণ চালু বিএসআইএ-সিসিপির

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা তরুণদের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য দক্ষ করে গড়ে তুলতে তিন মাসব্যাপী সেমিকন্ডাক্টর টেস্টিং প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করেছে বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ)। প্রথম ব্যাচে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ জন গ্র্যাজুয়েট এ প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) বনানী ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষণ কোর্সটির উদ্বোধন করা হয়।

বিএসআইএ জানায়, স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রামের (এসআইসিআইপি) আওতায় এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য তরুণ গ্র্যাজুয়েটদের সেমিকন্ডাক্টর টেস্টিং বিষয়ে শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জ্ঞান ও ব্যবহারিক দক্ষতায় সমৃদ্ধ করা। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য তরুণদের প্রস্তুত করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসআইএর সভাপতি এম এ জব্বার। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা, কঠোর পরিশ্রম এবং নিয়মিত নতুন বিষয় শেখার আহ্বান জানান।

এম এ জব্বার বলেন, বিশ্বব্যাপী সেমিকন্ডাক্টর শিল্প কীভাবে বিকশিত হচ্ছে, সে বিষয়ে জানতে হবে। নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। যথাযথ দক্ষতা ও নিষ্ঠা থাকলে চাকরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবেও এ খাতে সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এসআইসিআইপির ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর (ফান্ড ম্যানেজমেন্ট) ও যুগ্মসচিব মাইনুল হাসান। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং এ খাতে কর্মসংস্থান ও ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, এসআইসিআইপির আওতায় তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে সরকার অর্থ বিনিয়োগ করছে। তাই এ সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে সফল ক্যারিয়ারের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এসআইসিআইপির ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট) ও উপসচিব মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন, বিএসআইএর পরিচালক ও আইটেস্ট বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনির আহমেদ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হাসান উজ জামান।

শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএসআইএ-এসআইসিআইপি পিআইইউর প্রধান সমন্বয়ক রাশিদুল হাসান। তিনি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন।

প্রশিক্ষণার্থীদের পক্ষে শ্রাবণী পাল দীপি ও কামরুল আহসান কোর্সটি নিয়ে তাদের প্রত্যাশার কথা জানান। তারা সেমিকন্ডাক্টর টেস্টিং বিষয়ে ব্যবহারিক ও শিল্পখাতভিত্তিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বিএসআইএর আওতায় সেমিকন্ডাক্টর টেস্টিং প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনার জন্য বিএসআইএ ও আইটেস্ট বাংলাদেশ লিমিটেডের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন বিএসআইএর সভাপতি এম এ জব্বার এবং আইটেস্ট বাংলাদেশের পরিচালক মুনির আহমেদ।

এ সময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিএসআইএর সদস্য ও সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে অতিথিরা সেমিকন্ডাক্টর টেস্টিং প্রশিক্ষণ ল্যাব পরিদর্শন করেন এবং সেখানে স্থাপিত যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণ সুবিধা সম্পর্কে ধারণা নেন।

বিএসআইএ জানায়, এসআইসিআইপি কর্মসূচির আওতায় আগামী দুই বছরে সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির সাতটি বিশেষায়িত বিষয়ে মোট সাড়ে তিন হাজার তরুণ বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েটকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও ব্যবহারিক দক্ষতায় সমৃদ্ধ করে তাদের দেশ ও বিদেশের কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।


মন্দা কাটাতে নতুন পণ্য, বাইব্যাক ও প্রি-ওপেনিং চালুর প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মন্দা কাটাতে নতুন পণ্য, বাইব্যাক ও প্রি-ওপেনিং চালুর প্রস্তাব

পুঁজিবাজারের চলমান মন্দা কাটিয়ে স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল লেনদেন নিশ্চিত করতে নতুন ট্রেডিং কৌশল ও পণ্য চালু, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা প্রি-ওপেনিং সেশন পুনরায় চালু এবং দীর্ঘমেয়াদে শেয়ার বাইব্যাকের সুযোগ চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

এছাড়া বাজারে তারল্য বাড়ানো, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার, ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক চাপ কমানো, পরিদর্শন ও নজরদারি কার্যক্রম আরও কার্যকর করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগত ও প্রক্রিয়াগত বাধা দূর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বোর্ডরুমে শীর্ষ ব্রোকারেজ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব প্রস্তাব উঠে আসে। স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল লেনদেন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

বৈঠকে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং শীর্ষ ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকের শুরুতে নুজহাত আনোয়ার বলেন, পুঁজিবাজারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিয়ে অংশীজনদের মতামত ও বাস্তব অভিজ্ঞতা শোনাই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। তাদের যৌক্তিক ও গঠনমূলক পরামর্শ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী ডিএসইর বোর্ড ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) অবহিত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, ডেরিভেটিভস মার্কেট চালুর প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। সফটওয়্যারসহ প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সাম্প্রতিক পাঁচটি ব্রোকারেজ-সংক্রান্ত ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের বিষয়েও ডিএসই কাজ করছে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, আলোচনায় মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। প্রথমত, পুঁজিবাজারের দীর্ঘদিনের কিছু অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে। দ্বিতীয়ত, বাজার বর্তমানে কঠিন ও হতাশাজনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতির কারণ চিহ্নিত করা এবং তা থেকে উত্তরণের উপায় নির্ধারণ করাই আলোচনার অন্যতম উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, অতীতের অমীমাংসিত বিষয় ও বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সম্মিলিতভাবে আলোচনা করলে কার্যকর সমাধানের পথ বের করা সম্ভব। অতীত ও বর্তমানের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধানের প্রস্তাবও দিতে হবে। শুধু সমস্যা চিহ্নিত করাই যথেষ্ট নয়, সমাধানের পথও খুঁজে বের করতে হবে।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, বাজারের স্থিতিশীলতা, তারল্য বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন প্রস্তাব দেন। দীর্ঘদিনের অনিষ্পন্ন বিষয়গুলো দ্রুত পর্যালোচনা করে বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

বক্তারা নতুন ট্রেডিং কৌশল ও পণ্য প্রবর্তনের পাশাপাশি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা প্রি-ওপেনিং সেশন পুনরায় চালুর কারিগরি ও বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা পর্যালোচনার প্রস্তাব দেন।

পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ স্কিমের মেয়াদ ও ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সময় বৃদ্ধির বিষয়টি পর্যালোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। মেম্বারস মার্জিন নেট-অফের সুযোগ সৃষ্টি করে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যয় ও তারল্য ব্যবস্থাপনার চাপ কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।

পরিদর্শন ও নজরদারি কার্যক্রম আরও নিয়মিত, তথ্যনির্ভর, ঝুঁকিভিত্তিক ও স্বচ্ছ করার প্রস্তাবও আসে বৈঠকে। বক্তারা সিস্টেমভিত্তিক তথ্য যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে স্বাভাবিক ট্রেডিং ভলিউমের পরিবর্তে অস্বাভাবিক মূল্য পরিবর্তন এবং প্রকৃত অনিয়মের লক্ষণকে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।

বক্তারা পুঁজিবাজারকে শুধু ইকুইটিনির্ভরতা থেকে বের করে বন্ডসহ অন্যান্য আর্থিক উপকরণের পরিধি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে ডিলারদের ভূমিকা ও দায়িত্ব নির্ধারণে আরও সুস্পষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রণয়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগত ও প্রক্রিয়াগত বাধা চিহ্নিত করে তা দূর করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিনিয়োগকারী-কেন্দ্রিক সেমিনার ও সংলাপ আয়োজন এবং উচ্চ সম্পদসম্পন্ন বিনিয়োগকারী ও প্রকৃত মার্কেট প্লেয়ারদের সঙ্গে ডিএসইর সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিনিধিরা।

দেশের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আসতে উৎসাহিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে শেয়ার বাইব্যাকের সুযোগ চালুর সম্ভাবনা পর্যালোচনার আহ্বানও জানান তারা।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, ডিএসইর তথ্যপ্রযুক্তি ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা বোর্ড অনুমোদন করেছে এবং তা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারী সুরক্ষায় পরিদর্শন ও নজরদারি কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং তথ্যভিত্তিক সফটওয়্যার উন্নয়নে কাজ চলছে। এতে পরিদর্শন প্রক্রিয়া কাঠামোবদ্ধ হবে এবং তথ্য সমন্বয় ও যাচাই সহজ হবে।

বিএসইসির উদ্যোগে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল), সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) ও তথ্যপ্রযুক্তি দলের সমন্বয়ে নিয়মিত সভার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। অনলাইনে হিসাব খোলা, খুচরা বিনিয়োগকারীদের সেবা সহজ করা এবং টি+১ সেটেলমেন্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে বলেও জানানো হয়।

নতুন ওয়েবসাইট প্রসঙ্গে নুজহাত আনোয়ার বলেন, এর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের সংবাদ সম্মেলনে এটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে পুরোনো ওয়েবসাইট আরও দুই থেকে তিন মাস চালু থাকবে। ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে এসময় নতুন ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন করা হবে।

তিনি বলেন, ডিএসইর কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি পুরো পুঁজিবাজারের ইকোসিস্টেমের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা হবে।

প্রথম একনেক সভায় ৪ হাজার ৪৫৩ কোটি ব্যয়ে ৯ প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

প্রথম একনেক সভায় ৪ হাজার ৪৫৩ কোটি ব্যয়ে ৯ প্রকল্প অনুমোদন

বার্তাবেলা ডেস্ক: চলতি অর্থবছরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সপ্তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর এটিই হচ্ছে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত নতুন সরকারের প্রথম একনেক সভা। প্রথম সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং সংস্থার ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ৯টি প্রকল্পের মোট ব্যয় ৪ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৩ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে রাজধানীর শের-ই বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তবে চট্টগ্রাম মহানগরীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তবে ক্লাইমেট রেজিলেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার মেইনস্ট্রিমিং প্রজেক্ট এবং ঢাকা জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদন পাওয়া অন্যান্য প্রকল্পগুলো হলো:

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্ৰণালয়ের ইন্টিগ্রেটিং ক্লাইমেট চেন্জ এডাপশন ইনটু সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট পাথওয়েস অব বাংলাদেশ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দেশের ৪৮ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএইউ) এর অধীনে সুপার স্পেশিয়ালাইজড হাসপাতাল স্থাপন (২য় সংশোধিত), পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের পিডিবিএফ-এর কার্যক্রম সম্প্রসারণ প্রকল্প ২য় পর্যায়।

বিদ্যুৎ বিভাগের ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিঃ (ওজোপাডিকো) এলাকার জন্য স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারিং (২য় পর্যায়), দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রস্তাবিত দুদকের খুলনা, রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল এবং সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ এবং ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ এবং পরিকল্পনা বিভাগের আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট (ইউআরপি): প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেশন এন্ড মনিটরিং ইউনিট (পিসিএমইউ) (৪র্থ সংশোধিত) প্রকল্প। এছাড়া, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের চলমান সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেসিপ) (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।