মহিন উদ্দিন স্বপন | জ্যেষ্ঠ বিশেষ প্রতিনিধি:
বরেণ্য সাংবাদিক, সাবেক কূটনীতিক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজীউল হাসান খানের জন্মদিন উদযাপন করেছে কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা (সিজেএফডি)। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) কার্যালয়ে এ উপলক্ষ্যে আলোচনা ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সিজেএফডি সভাপতি সাঈদ আহমেদ খানের সভাপতিত্বে ও নির্বাহী সদস্য দিদারুল আলম দিদারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউ’র সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক মুরসালিন নোমানি ও সিজেএফডির সাবেক সভাপতি ও নির্বাহী সদস্য (কো-অপ্ট) সাজ্জাদ হোসেন।
এছাড়া, সিজেএফডির সহ-সভাপতি নাসরীন সুলতানা, সালাম ফারুক, যুগ্ম-সম্পাদক মনির আহমাদ জারিফ, দফতর সম্পাদক আশিকুর রহমান, শিক্ষা-প্রশিক্ষণ সম্পাদক কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বেলাল, ক্রীড়া-সংস্কৃতি সম্পাদক আহমেদ আজম, ইভেন্ট-আপ্যায়ন সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বিপ্লব সিকদার, সমাজকল্যাণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বাবু, নির্বাহী সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ, সাবেক নির্বাহী সদস্য সায়ীদ মালিক, সদস্য মহিন উদ্দিন স্বপন ও সাইফুল ইসলাম'সহ অন্যান্য সদস্যসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা গাজীউল হাসান খানের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য সাংবাদিকতা জীবন, মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা এবং দেশের সাংবাদিকতায় তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন। তারা তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান
অনুষ্ঠানে সিজেএফডি সভাপতি সাঈদ আহমেদ খান বলেন, গাজীউল হাসান খান শুধু কুমিল্লার গর্ব নন, তিনি বাংলাদেশের সাংবাদিকতারও একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবন ও পেশাগত অবদান নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে গাজীউল হাসান খান বলেন, আমার জন্মস্থান কুমিল্লা। ডিউজে বা বিএফইউজের মতো ইউনিয়ন আমাকে স্মরণ করেনি, বাসসের পদ ছাড়ার পর আমাকে সম্মাননা দেয়নি, কিন্তু আমার এলাকার সন্তানদের সমন্বয়ে গঠিত কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম,, ঢাকা আমাকে যে সম্মান দিয়েছে। আমার বংশধর ও প্রতিব্বশীরাই আমাকে স্মরণ করেছে। আমি সে সম্মান লালন করে মৃত্যুবরণ করতে চাই।
এসময় তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের পাশাপাশি পেশাগত জীবনের স্মৃতিচারণ করেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’-এর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ১৯৭৬ সালে কমনওয়েলথ বৃত্তি নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য লন্ডনে যান এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে উচ্চতর ডিপ্লোমা অর্জন করেন। ১৯৭৭ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত লন্ডনের ফ্লিট স্ট্রিট থেকে প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড টাইমস’ নিউজ ম্যাগাজিনে সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন। এ সময় সহকর্মীদের নিয়ে তিনি ‘কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (সিজেএ)’ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বিবিসিতেও কাজ করেন।
১৯৮০ সালে লন্ডনে ‘ইস্ট এন্ড’ প্রকাশনা সংস্থা ও একটি নিউজ ম্যাগাজিন প্রকাশ করেন। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ইতিহাসে তিনি প্রথমবারের মতো বাংলা ভাষার ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন। সেখান থেকে বাংলা বই, সাহিত্য সংকলন, পত্রিকা ও শিশুদের পাঠ্যবই প্রকাশিত হয়।
১৯৯৩ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রেস মিনিস্টার হিসেবে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেন। নিউইয়র্ক সিটিতে ‘সাউথ এশিয়া ওয়াচ’ নামের মানবাধিকার সংস্থার পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ সালের শেষ দিকে তিনি বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় প্রত্যাবর্তন করেন। ২০০৩ সালে তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। বাসসে পেশাগত জীবন শেষে জাতীয় দৈনিকগুলোতে সংবাদ বিশ্লেষণসহ কলাম লেখা শুরু করেন।ইতিহাসের বই পড়ুন
সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য ২০০৬ সালে গাজীউল হাসান খান একুশে পদক লাভ করেন। তিনি একই সঙ্গে সাংবাদিক ও সুলেখক। তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘রাজনীতির অগ্নিপুরুষ ভাসানী’, ‘প্যালেস্টাইন এক চলমান ইতিহাস’, ‘প্যালেস্টাইন এক সংগ্রামের ইতিহাস’, ‘ইতিহাসের অনুঘটক’সহ আরও কয়েকটি গ্রন্থ। বিশ্ব পরিস্থিতি ও সমসাময়িক আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়েও তিনি নিয়মিত লিখেছেন।









