ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর তোলা অভিযোগের মধ্যেই ফল বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ প্রমাণিত হলেও পুরো নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বা ফলাফলে প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে কমিশন।
রোববার (১ নভেম্বর) এক ভিডিওবার্তায় এ অবস্থান জানান ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধান নোয়াম সোলবার্গ। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের প্রধান এবং অ্যাটর্নি জেনারেল।
সোলবার্গ বলেন, বিদেশি হস্তক্ষেপের সন্দেহ প্রমাণিত হলেও তাতে নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা কিংবা সামগ্রিক ফলাফলের বৈধতা নষ্ট হবে না।
আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ
গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। এরপরই নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
প্রমাণ ছাড়াই দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো ভোট ‘চুরি’ করেছে। এ কাজে কাতারের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।
তবে কাতার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটি বলেছে, এটি তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অপতথ্য প্রচারের একটি অভিযান।
ভোট কেনার অভিযোগে গ্রেফতার তিনজন
নির্বাচনের আগে ভোটারদের ঘুস দেওয়ার অভিযোগে তিন রাজনৈতিক কর্মীকে আটক করেছিল ইসরায়েলি পুলিশ। রোববার তাদের মধ্যে দুজনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের কাছে নগদ অর্থভর্তি খাম পাওয়া গিয়েছিল।
মুক্তি পাওয়া একজনকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। অন্যজনকে গৃহবন্দি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে আরব নেতৃত্বাধীন রা’আম পার্টির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। নির্বাচনে দলটি আটটি আসন পেয়েছে।
দলটির নেতা মনসুর আব্বাস গ্রেফতারের ঘটনাকে অগণতান্ত্রিক বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তার অভিযোগ, নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ
নির্বাচনের ফল নিয়ে বিতর্কের মধ্যে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট। রোববার তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করতে নেতানিয়াহু পরিকল্পিত ও সংগঠিত প্রচার চালাচ্ছেন।
এর আগে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন আইজেনকট। তবে নির্বাচনে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো আসন না পাওয়ায় রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গেছে।
সরকার গঠনে জটিল সমীকরণ
ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন।
নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন।
অন্যদিকে দেশটির তিনটি আরব নেতৃত্বাধীন দল সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ১৯টি আসন। এটি তাদের জন্য রেকর্ড সাফল্য।
বিরোধী জোট আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন করলে পার্লামেন্টে তাদের আসনসংখ্যা দাঁড়াবে ৬৭। এতে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে তারা।
তবে ইসরায়েলের রাজনীতিতে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি অনেকের কাছে এখনো রাজনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য।
চূড়ান্ত ফল ঘোষণার অপেক্ষা
চলতি সপ্তাহেই নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সরকার গঠনের জন্য একজন প্রার্থীকে মনোনীত করবেন।
তবে নির্বাচনের ফল নিয়ে বিতর্ক এবং পার্লামেন্টে আসনের হিসাবের কারণে নতুন সরকার গঠন কঠিন হয়ে উঠেছে।
এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহু ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেন, নাকি বিরোধী জোট আরব দলগুলোর সমর্থনে নতুন সরকার গঠন করে।
সূত্র: আল-জাজিরা









