শেয়ার বাজার

১০ ও ৩০ কাউন্ট সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

১০ ও ৩০ কাউন্ট সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের নির্দেশ

দেশীয় স্পিনিং শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষা, রপ্তানি খাতে মূল্য সংযোজন বাড়ানো এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পে ব্যবহৃত ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

পাশাপাশি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে বিল অব এন্ট্রিতে কটন ইয়ার্নের কাউন্ট স্পষ্টভাবে উল্লেখ নিশ্চিত করতে এবং এইচএস কোডের অপব্যবহাররোধে কঠোর নজরদারির নির্দেশনা দিয়েছে। মন্ত্রণালয় মনে করে, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশীয় টেক্সটাইল শিল্প সুরক্ষিত হবে এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হবে।

গত ১২ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিবউটিও সেল-২ থেকে এক চিঠিতে এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) আহ্বানের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে শিল্পের সুরক্ষা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কাস্টমস ট্যারিফের এইচএস হেডিং ৫২.০৫, ৫২.০৬ ও ৫২.০৭-এর আওতায় ১০ ও ৩০ কাউন্টের সুতায় বন্ড সুবিধা থাকায় গত কয়েক বছরে আমদানি অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এসব এইচএস হেডিংয়ের আওতায় সুতা আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৬ হাজার মেট্রিক টন, যার মূল্য ছিল প্রায় ১ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমদানি বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৪১ হাজার মেট্রিক টনে এবং মূল্য ছাড়িয়ে যায় প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম দিকের প্রবণতাও ঊর্ধ্বমুখী, যেখানে আমদানির পরিমাণ ও মূল্য দুটিই উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বন্ড সুবিধা বন্ধের ব্যাখ্যায় চিঠিতে বলা হয়েছে, বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্ত বা স্বল্প শুল্কে আমদানি করা নিম্ন কাউন্টের সুতা দেশীয় বাজারে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে, ফলে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। বর্তমানে দেশীয় স্পিনিং মিলগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও বাস্তবে তারা মাত্র ৬০ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহার করে উৎপাদন চালাচ্ছে, যা শিল্পটির আর্থিক টেকসই অবস্থানকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

অন্যদিকে, সুতা আমদানির এই প্রবণতার কারণে দেশীয় উৎপাদিত সুতার বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, এরই মধ্যে প্রায় ৫০টি স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে গেছে এবং আরও অনেক প্রতিষ্ঠান লোকসানের মুখে পড়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও মিল বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ উভয়ের জন্যই নেতিবাচক।

এছাড়া সুতা আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেশের গার্মেন্টস খাতকে ধীরে ধীরে আমদানিনির্ভর করে তুলছে। এতে দেশের টেক্সটাইল ভ্যালু চেইনের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ দুর্বল হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে শিল্প কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বাস্তবতার কথা তুলে বলেছে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ ঘটালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মতো প্রধান রপ্তানি বাজারে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা অনেকাংশে হারাতে হবে। তখন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, সেপা ও জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে হলে রপ্তানি পণ্যে ৪০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত স্থানীয় মূল্য সংযোজন এবং ডাবল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক হবে। আমদানি করা সুতার ওপর নির্ভরতা থাকলে এসব শর্ত পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে জানানো হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রনালয়, মনে করে বন্ড সুবিধা অব্যাহত থাকলে দেশীয় শিল্পে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে এবং উৎপাদন ব্যয় ও লিড টাইম বেড়ে যাওয়ার কারণে রপ্তানি খাতের সামগ্রিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হ্রাস পাবে। বিপরীতে, নিম্ন কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে দেশীয় স্পিনিং শিল্পে ভারসাম্য ফিরে আসবে, স্থানীয় উৎপাদন বাড়বে এবং কর্মসংস্থান সুরক্ষিত হবে।

Dummy Ad 1

প্রথম একনেক সভায় ৪ হাজার ৪৫৩ কোটি ব্যয়ে ৯ প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

প্রথম একনেক সভায় ৪ হাজার ৪৫৩ কোটি ব্যয়ে ৯ প্রকল্প অনুমোদন

বার্তাবেলা ডেস্ক: চলতি অর্থবছরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সপ্তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর এটিই হচ্ছে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত নতুন সরকারের প্রথম একনেক সভা। প্রথম সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং সংস্থার ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ৯টি প্রকল্পের মোট ব্যয় ৪ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৩ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে রাজধানীর শের-ই বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তবে চট্টগ্রাম মহানগরীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তবে ক্লাইমেট রেজিলেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার মেইনস্ট্রিমিং প্রজেক্ট এবং ঢাকা জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদন পাওয়া অন্যান্য প্রকল্পগুলো হলো:

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্ৰণালয়ের ইন্টিগ্রেটিং ক্লাইমেট চেন্জ এডাপশন ইনটু সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট পাথওয়েস অব বাংলাদেশ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দেশের ৪৮ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএইউ) এর অধীনে সুপার স্পেশিয়ালাইজড হাসপাতাল স্থাপন (২য় সংশোধিত), পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের পিডিবিএফ-এর কার্যক্রম সম্প্রসারণ প্রকল্প ২য় পর্যায়।

বিদ্যুৎ বিভাগের ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিঃ (ওজোপাডিকো) এলাকার জন্য স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারিং (২য় পর্যায়), দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রস্তাবিত দুদকের খুলনা, রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল এবং সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ এবং ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ এবং পরিকল্পনা বিভাগের আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট (ইউআরপি): প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেশন এন্ড মনিটরিং ইউনিট (পিসিএমইউ) (৪র্থ সংশোধিত) প্রকল্প। এছাড়া, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের চলমান সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেসিপ) (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


বাংলাদেশ ব্যাংক
ডলার তুলে নেওয়া ‘স্বল্পমেয়াদে স্বস্তি, দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬

ডলার তুলে নেওয়া ‘স্বল্পমেয়াদে স্বস্তি, দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি

বাজারে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে অতিরিক্ত ডলার সংগ্রহ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অন্য ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত ডলার তুলে নিচ্ছে। ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ বাড়ছে।

তবে এই নীতি নিয়ে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে ভিন্নমত। স্বল্পমেয়াদে এটি স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা মাথায় রাখতে হয়। উদাহরণ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি ১০ বছর বন্ধ থাকার পর নতুন মেশিনারি আমদানি করে, তাহলে শুধু যন্ত্রপাতি নয়-কাঁচামাল, উৎপাদন পরিকল্পনাসহ নানা বিষয় আগেই নিশ্চিত করতে হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্য, এই মুহূর্তে হয়তো ডলার বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে, কিন্তু সামনে যে বাড়তি চাহিদার চাপ আসবে সেটি কতটা সামাল দেওয়া যাবে—তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘ডলার কেনা নিয়ে লাভ–ক্ষতির রেকর্ড তোলার কোনো সুযোগ নেই। এটি এমন কোনো সিদ্ধান্ত নয় যেখানে খরচ করে লাভ দেখানো যায়। বরং অনেক সময় বাস্তব পরিস্থিতির চাপে বিনিয়োগ ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হয়।’

বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি বাজার থেকে ডলার কেনে না। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় ডলার রেখে অতিরিক্ত অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করে। ব্যাংকগুলোর ডলার ধারণের একটি সীমা রয়েছে এবং নেট ওপেন পজিশনের বাইরে গিয়ে তারা ডলার ধরে রাখতে পারে না।- বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান

তিনি বলেন, ‘ব্যবসা পরিচালনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর নতুন মেশিনারি আমদানি করলে কাঁচামালসহ নানা প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হয়। বর্তমানে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও সামনে বাড়তি চাহিদার চাপ কতটা সামাল দেওয়া যাবে-তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’

ডলার কেনায় ক্যাশ মার্কেটে প্রভাব পড়ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি বাজার থেকে ডলার কেনে না। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় ডলার রেখে অতিরিক্ত অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করে। ব্যাংকগুলোর ডলার ধারণের একটি সীমা রয়েছে এবং নেট ওপেন পজিশনের বাইরে গিয়ে তারা ডলার ধরে রাখতে পারে না।’

ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মনে করছে, যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন বাজার থেকে ডলার না তুলতো এবং ডলারের সরবরাহ হঠাৎ বেড়ে যেত, তাহলে ডলারের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যেত। এতে দেশের রপ্তানিকারকরা প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা হারাতেন, যা রপ্তানি খাতের জন্য বড় ধাক্কা হতো। তাদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে যখন একটি প্রকৃত বিনিয়োগবান্ধব সরকার দায়িত্ব নেবে এবং বিনিয়োগ বাড়বে, তখন প্রয়োজনীয় ডলার কোথা থেকে আসবে- এ প্রশ্ন আরও বড় হয়ে উঠতে পারে।

তাদের মতে, এখন যদি সরকার ডলার সংরক্ষণ না করে, তাহলে ভবিষ্যতে ডলারের দাম হঠাৎ ১১০ টাকা থেকে ১৩০ টাকায় উঠে যাওয়ার মতো বড় ফ্ল্যাকচুয়েশন দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে আমদানিকারকদের পক্ষে এ ধরনের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে একদিকে রপ্তানিকারক, অন্যদিকে আমদানিকারক— উভয় পক্ষই বড় চাপে পড়তে পারে।

ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়ানো তখনই সমস্যা হয় যদি সেটি অর্থনীতির বাস্তব অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়। সঠিক সময়ে এটি করা হলে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে পারে। আর ভুল সময়ে হলে মুদ্রাস্ফীতি ও বাজারের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।- চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো অর্থনীতিবিদ এম হেলাল আহমেদ জনি

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি এবং এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘ভবিষ্যতে বিনিয়োগবান্ধব সরকার এলে ডলারের চাহিদা বাড়বে। এখন ডলার সংরক্ষণ না করলে তখন ডলারের দাম হঠাৎ ১১০ টাকা থেকে ১৩০ টাকায় উঠে যেতে পারে, যা আমদানিকারকদের জন্য সামাল দেওয়া কঠিন হবে। ফলে রপ্তানিকারক ও আমদানিকারক-উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

এ শিল্প উদ্যোক্তার মতে, ডলারের দামের চেয়ে স্থিতিশীলতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বাজার থেকে ডলার কেনার বিকল্প নেই। সরকার শতভাগ সঠিক কাজটাই করছে।’

তবে অর্থনীতিবিদরা এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মতে, বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করে রিজার্ভ বাড়ানো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৌশলেরই একটি অংশ। এতে স্বল্পমেয়াদে ডলার বাজারে অস্থিরতা কমবে এবং কিছুটা স্বস্তি আসবে। কিন্তু যদি এটি দীর্ঘমেয়াদি নীতি হিসেবে চলতে থাকে, তাহলে ডলার নীতির দ্বিমুখী প্রভাব অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো অর্থনীতিবিদ এম হেলাল আহমেদ জনি বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়ানো তখনই সমস্যা হয় যদি সেটি অর্থনীতির বাস্তব অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়। সঠিক সময়ে এটি করা হলে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে পারে। আর ভুল সময়ে হলে মুদ্রাস্ফীতি ও বাজারের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।’

বর্তমানে বাজারে থাকা অতিরিক্ত ডলার বাংলাদেশ ব্যাংক কিনে নিচ্ছে, যা সরাসরি যুক্ত হচ্ছে রিজার্ভে। ফলে রিজার্ভ বাড়লেও বেসরকারি খাতে ডলারের প্রাপ্যতা সংকুচিত হচ্ছে। এতে এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলা আরও কঠিন হতে পারে এবং আমদানি ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অর্থনীতিবিদদের মতে, টেকসই সমাধান তখনই আসবে, যখন দেশে বাস্তব অর্থে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য (ভিসি) এবং অর্থনীতিবিদ ড. আব্দুল বায়েস বার্তাবেলা  নিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কিনছে মূলত রিজার্ভ বাড়ানোর জন্য নয়, বরং ডলারের দাম যেন অতিরিক্ত কমে বা বেড়ে না যায়—সে লক্ষ্যেই। বাজারে ডলারের সরবরাহ হঠাৎ বেড়ে গেলে দাম পড়ে যেতে পারে, যা রেমিট্যান্স ও রপ্তানি খাতের জন্য ক্ষতিকর। এই ঝুঁকি এড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অতিরিক্ত ডলার কিনে নেয় এবং প্রয়োজন হলে ডলার ছেড়ে দিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণ করে। এটি মূলত ডলার বাজারে একটি দ্বিমুখী হস্তক্ষেপ।’

তিনি বলেন, ‘ডলার কেনার ফলে রিজার্ভ বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই রিজার্ভ কী কাজে লাগছে। যদি একই সঙ্গে আমদানি, বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়তো, তাহলে রিজার্ভ বৃদ্ধির তাৎপর্য থাকতো। কিন্তু বর্তমানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থবির। বলা যায়, চর্বি বাড়ছে, কিন্তু এক্সারসাইজ নেই।’

অধ্যাপক বায়েসের মতে, ‘স্বল্পমেয়াদে ডলারের দাম স্থিতিশীল রাখা কার্যকর হলেও, দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ ও প্রকৃত ডলার চাহিদা তৈরি না হলে এই নীতির সুফল সীমিত থাকবে। ডলারের অস্থিতিশীলতাই রেমিট্যান্স, রপ্তানি ও আমদানির জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। তাই আপাতত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য ডলার বাজার একটি ‘স্ট্যাবল জোনে’ (স্থিতিশীল) রাখা।


সাতসকালে ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়লো সোনার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সাতসকালে ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়লো সোনার দাম

দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা। এতে এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।  

স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।  

আজ শনিবার বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

এর আগে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমানো হয় ৭ হাজার ৬৪০ টাকা। এই দাম কমানোর ২৪ ঘণ্টা পর একই পরিমাণ দাম বাড়ানো হলো।

এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ২৯০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৬ হাজার ২৪১ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ৫ হাজার ৭৪ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা।

এর আগে গতকাল সকাল ১০টা থেকে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ২৯০ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪২ হাজার ৯০৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৬ হাজার ২৪১ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ৫ হাজার ৭৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় এক লাখ ৭০ হাজার ৪১১ টাকা। আজ সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই দামে সোনা বিক্রি হয়েছে।

সোনার দাম বাড়ানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।