জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা, হরমুজ প্রণালিতে ব্যাহত জাহাজ চলাচল। সংকট যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে দায় নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এর জন্য দায়ী ইরান। তবে তেহরানের পাল্টা অভিযোগ, যুদ্ধ শুরু করে এ সংকট তৈরি করেছে ওয়াশিংটনই।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মার্কিন কর্মকর্তাদের সমালোচনা করে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, কে আগ্রাসী যুদ্ধ শুরু করেছিল, তা মানুষ এত সহজে ভুলে যাবে না। এসময় যুক্তরাষ্ট্রই বর্তমান সংকট তৈরি করেছে বলে দাবি করেন তিনি। এর ফলে হরমুজ প্রণালি এখন বন্ধ, ব্যাহত হচ্ছে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল।
তাই জ্বালানির দাম বাড়ার জন্য ইরানকে দায়ী করার আগে সংকটের শুরু কীভাবে হয়েছিল, সেটিও মনে রাখা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাঘাই প্রশ্ন তোলেন, কোনো দেশের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে নিজের ইচ্ছায় যুদ্ধ শুরু করে পরে সে যুদ্ধের শিকার দেশকেই দায়ী করা কি কৌশলগত বুদ্ধিমত্তার পরিচয়? নাকি এটি ‘মার্চ অব ফোলি’র একটি উদাহরণ?
‘মার্চ অব ফোলি’ বলতে এমন সিদ্ধান্তকে বোঝায়, যেখানে ভুল সিদ্ধান্তের পরিণতি জানা সত্ত্বেও একই পথে এগিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য ইরানকে দায়ী করেছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেছিলেন, তেহরান জাহাজ চলাচলে ভয় ও হুমকি তৈরি করছে। এর প্রভাব জ্বালানির দামের ওপর পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভ্যান্সের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে কোনো ধরনের কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে শেষ হতে পারে, এমন ধারণা অনেকের মধ্যেই রয়েছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে যে প্রভাব ফেলছে, সে বিষয়ে ট্রাম্প অবগত। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে, অর্থাৎ প্রায় ছয় সপ্তাহের মধ্যে, তিনি বিষয়টির সমাধান করতে চান।
তবে, এত কম সময়ের মধ্যে কোনো চুক্তি করা কঠিন হতে পারে বলেও ভ্যান্সের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে হলে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।









