শেয়ার বাজার

আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানে ফের কঠোর হামলার হুমকি ট্রাম্পের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানে ফের কঠোর হামলার হুমকি ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে শুরু হওয়া নতুন আলোচনা ব্যর্থ হলে ফের কঠোর হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২৭ জুলাই) মিশিগানে যাওয়ার পথে এই হুমকি দেন তিনি।

এদিকে, ট্রাম্প দাবি করেছেন ইরানের সঙ্গে ভালো ও গভীর আলোচনা চলছে। কিন্তু ইরান পাল্টা দাবি করেছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চললেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা হচ্ছে না।

চলতি ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে নতুন করে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর জুনে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা হলেও, হরমুজ প্রণালিতে তেল ট্যাংকার হামলা ও সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে গত জুলাইয়ের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায় এবং ১৩ জুলাই থেকে মার্কিন বাহিনী আবারও নতুন করে বিমান হামলা ও সামরিক পদক্ষেপ শুরু করে।

টানা ১৩ রাত হামলার পর গত শুক্রবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র অভিযান স্থগিত করে। টানা চার দিনের মতো সোমবারও (২৭ জুলাই) মার্কিন হামলা স্থগিত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প এ দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর অনুরোধেই তিনি হামলা স্থগিত করেছেন।

সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২৭ সোমবার) হোয়াইট হাউজে এক বৈঠকে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোলাবারুদের মজুত ও অন্যান্য সম্ভাব্য নেতিবাচক পরিণতি নিয়ে তার উদ্বেগ তুলে ধরেন। এ বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও উপস্থিতি ছিলেন। তারা দুজনই নতুন হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পর ইরানে হামলা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ হওয়ায় ইরানও পাল্টা হামলা স্থগিত রেখেছে। তেহরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের হাতে রয়েছে। ওমানের সঙ্গে মিলে নৌযান চলাচলের নতুন ব্যবস্থা তৈরির কাজ চলছে, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পর্ক নেই।

Dummy Ad 1

অভিবাসী বহনকারী নৌকাডুবি, ২৫০ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নিখোঁজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

অভিবাসী বহনকারী নৌকাডুবি, ২৫০ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নিখোঁজ

অভিবাসীদের বহনকারী একটি নৌকাডুবির ঘটনায় ২৫০ জন নিখোঁজ রয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী ও অভিবাসন সংস্থার তথ্যমতে, গত সপ্তাহে আন্দামান সাগরে একটি নৌকাডুবির ঘটনায় শিশুসহ প্রায় ২৫০ জন রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নিখোঁজ হয়েছে। খবর বিবিসির।

সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলার ‌‘প্রবল বাতাস, উত্তাল সমুদ্র এবং অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে ডুবে গেছে’।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, গত ৯ এপ্রিল তাদের একটি জাহাজ ওই নৌকাটি থেকে নয়জনকে উদ্ধার করেছে। তবে নৌকাটি ঠিক কখন ডুবেছে সে বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়।

২০১৭ সালের মারাত্মক দমনপীড়নের পর থেকে মিয়ানমারের কয়েক লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বৌদ্ধ-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মিয়ানমার সরকার এই রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিজ দেশে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া অনেক রোহিঙ্গা এখন উন্নত জীবনের আশায় জাহাজে করে মালয়েশিয়ার দিকে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা করছে। মালয়েশিয়াকে কেউ কেউ এই অঞ্চলের একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কল্পনা করে।

দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া রফিকুল ইসলাম নামের একজন এএফপিকে বলেন, উদ্ধার হওয়ার আগে তিনি প্রায় ৩৬ ঘণ্টা ধরে ভাসছিলেন। তিনি আরও জানান, জাহাজ থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ায় তার শরীর দগ্ধ হয়েছে। ৪০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি বলেন, মালয়েশিয়ায় চাকরির আশ্বাসই তাকে ওই নৌকায় উঠতে বাধ্য করেছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সঙ্গে যৌথভাবে জারি করা এক বিবৃতিতে বলেছে, এই মর্মান্তিক ঘটনা রোহিঙ্গাদের জন্য দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি এবং টেকসই সমাধানের অভাবের ভয়াবহ পরিণতিকে প্রতিফলিত করে।

এই নৌকাগুলো প্রায়ই ছোট এবং সংকীর্ণ হয় যেখানে বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের মতো মৌলিক সুবিধার অভাব থাকে। তারা সবসময় তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না। কেউ কেউ সমুদ্রে মারা যায়, আবার অন্যদের কখনো কখনো আটক বা ফেরত পাঠানো হয়।



আমিরাতের ভিসা নিয়ে বড় সুখবর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ জুন, ২০২৬

আমিরাতের ভিসা নিয়ে বড় সুখবর

সংযুক্ত আরব আমিরাত ভ্রমণে আগ্রহী পর্যটকদের জন্য এসেছে নতুন সুযোগ। দেশটি এখন মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ট্যুরিস্ট ভিসা ইস্যুর সুবিধা চালু করেছে, যা ভ্রমণ প্রক্রিয়াকে আগের চেয়ে অনেক দ্রুত ও সহজ করে তুলেছে।

শনিবার (২০ জুন) খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, নতুন এই সুবিধার পাশাপাশি দেশটিতে হোটেল বুকিং, ডেজার্ট সাফারি, জেট স্কি ও বিভিন্ন পর্যটন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য ছাড় দেওয়া হচ্ছে। ফলে কম খরচে দুবাইসহ অন্যান্য জনপ্রিয় গন্তব্য ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ট্রাভেল এজেন্টদের মতে, ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত হওয়ার পাশাপাশি হোটেল ও আউটডোর অ্যাক্টিভিটিতে বড় ধরনের ডিসকাউন্ট থাকায় আমিরাত এখন আরও সাশ্রয়ী পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে। অনেক হোটেলে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে রুম ভাড়া মাত্র প্রায় ১৩৯ দিরহাম থেকেও শুরু হচ্ছে।

দুবাইয়ের অন্যতম জনপ্রিয় অভিজ্ঞতা ডেজার্ট সাফারি, যা শীতকালে সাধারণত ১৫০ দিরহামের কাছাকাছি থাকলেও গ্রীষ্মে প্রায় ৫০ দিরহামের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। একইভাবে জেট স্কি, বাগি রাইডসহ বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটিতে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছেন অপারেটররা।

বিশেষ করে বুর্জ আল আরব ও আটলান্টিসের মতো স্থাপনা দেখার জন্য জেট স্কি রাইডও পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

প্লুটো ট্রাভেলসের ম্যানেজিং পার্টনার ভরত আইদাসানি বলেন, ৪৮ ঘণ্টার দ্রুত ভিসা সুবিধার কারণে পর্যটকদের মধ্যে আমিরাত ভ্রমণের আগ্রহ আরও বাড়বে। দ্রুত অনুমোদন পাওয়া গেলে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা আরও সহজ হবে।

ট্রাভেল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রীষ্মকালে হোটেল ও পর্যটন সেবায় ছাড় বেশি থাকায় এটি এখন বাজেট-বান্ধব ভ্রমণ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, পর্যটকদের উচিত বিভিন্ন অফার ভালোভাবে যাচাই করে বুকিং করা এবং কোথায় কী সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে তা নিশ্চিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া।

ফলে কম খরচে বিলাসবহুল দুবাই ভ্রমণ এখন অনেক বেশি সহজ ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।


টিকটক ভিডিও দেখে ১৯ বছর পর একে অপরকে খুঁজে পেলেন যমজ বোন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি, ২০২৪

টিকটক ভিডিও দেখে ১৯ বছর পর একে অপরকে খুঁজে পেলেন যমজ বোন

দুজন দেখতে হুবহু একই রকম। চোখ, কান, নাক, মুখের আদলে দুজনের মধ্যে পার্থক্য খুঁজে বের করা দুষ্কর। কারণ সম্পর্কে তারা যমজ বোন। অথচ ১৯ বছর ধরে একই শহরে থাকা সত্ত্বেও তারা কেউ কাউকে চিনতেন-ই না! হঠাৎ ভাইরাল হওয়া এক টিকটক ভিডিওর সূত্র ধরে পরিচয় হয় তাদের। সেখান থেকেই বেরিয়ে এলো পুরো সিনেমার মতো কিন্তু বাস্তব গল্প।

গল্পটার শুরু ২০০২ সালে, পূর্ব এশিয়ার দেশ জর্জিয়ায়। সে বছরের ২০ জুন আজা শোনি নামের এক নারী জর্জিয়ার কিরতিশখি গ্রামে দুটি জমজ কন্যা শিশুর জন্ম দেন। জন্মদানের পর বেশকিছু জটিলতায় কোমায় চলে যান শোনি। আর পরিবারে আরও তিনটি সন্তান থাকায় বাবা গোচ গাখারিয় জমজ বাচ্চা দুটি আলাদা দুটি পরিবারে বিক্রি করে দেন।

পরে ওই দুই শিশু অ্যামি খাভিশা ও আনো সারতানিয়া নামে বেড়ে ওঠে। বয়স যখন ১২ বছর তখন অ্যামি তার প্রিয় টিভি শো ‘জর্জিয়াস গট ট্যালেন্ট’ দেখছিলেন। সেখানে তিনি একটি মেয়েকে দেখেতে পান, যার সঙ্গে তার চেহারার হুবহু মিল রয়েছে। কিন্তু তিনি তখনও জানতেন না যে, নাচতে থাকা মেয়েটিই তার বোন। শেষমেষ ২০২১ সালে একটি টিকটক ভিডিওর সূত্র ধরে একে অপরকে খুঁজে পান দুই বোন।

২০২১ সালে অ্যামি তার চুলের রং নীল করেন ও টিকটকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেই ভিডিও আবার এক বন্ধু অ্যানোকে পাঠান ও জানতে চান যে অ্যানো চুলে নতুন রঙ করেছেন কি না। ভিডিওটি দেখে অ্যানো তার বন্ধুকে জানা, ভিডিওর মেয়েটি তিনি নন।

পরে চেহারায় হুবহু মিল থাকা মেয়েটির পরিচয় জানার জন্য অ্যানো ভিডিওটি ফেসবুকে আপলোড করেন। এরপর অ্যামি কৌতুহলী হয়ে অপর তরুণীর প্রোফাইলে গিয়ে জানতে পারেন, মেয়েটির নাম আনো সারতানিয়া। তিনি থাকেন ৩২০ কিলোমিটার দূরের শহর তিবিলিসিতে।

কিন্তু কোনোভাবেই কিছুতেই আনোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না অ্যামি। পরে একটি বিশ্বিবদ্যালয়ের হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে ভিডিওটি পোস্ট করে অ্যামি জানতে চান যে এই মেয়েটিকে কেউ চেনেন কি না। সেখানে একজন সাড়া দেন।

পরে তার মাধ্যমে যোগাযোগ হয় আনোর সঙ্গে। এভাবেই যমজ বোন পরস্পরকে খুঁজে পান। অ্যামি বলেন, তিবিলিসির রুস্তাভেলি মেট্রো স্টেশনে যখন আমাদের দেখা হলো, তখন মনে হচ্ছিল আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। যেন নিজেকেই দেখছি। একই মুখ, একই চোখ, একই নাক। এমনকি, কণ্ঠস্বর পর্যন্ত এক। আমি জড়িয়ে ধরা পছন্দ করি না। কিন্তু সেই মুহূর্তে নিজেকে আর সামলাতে পারিনি। আনোকে জড়িয়ে ধরি।

অ্যামি–আনো জানান, পরবর্তী সময়ে তারা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন যে তারা সত্যিই যমজ বোন। তবে তারা তাদের বাবাকে আর খুঁজে বের করার চেষ্টা করেননি। তাদের দাবি, যে বাবা তার সন্তানদের বিক্রি করে দিয়েছেন, সেই বাবার সঙ্গে দেখা করা উচিত না।

তবে তারা তাদের জন্মদাত্রী মা আজার সঙ্গে লাইপজিগের একটি হোটেলে দেখা করেন। তখন আজা তাদের বলেন, অ্যামি–আনোর জন্মের পর তিনি কোমায় চলে গিয়েছিলেন। পরে সুস্থ হয়ে সন্তানদের খুঁজলে হাসপাতালের কর্মীরা জানিয়েছিলেন, তার সন্তানরা জন্মের পরপরই মারা গেছে।

অ্যামি-আনোর এই ঘটনায় জর্জিয়ার একটি কলঙ্কিত দিকও বের হয়ে এসেছে। বিবিসি জানিয়েছে, জর্জিয়ায় ১৯৫০ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত বহু শিশু চুরি করে বিক্রি করে দেওয়ার পেছনে হাসপাতাল কর্মীরা ব্যাপকমাত্রায় জড়িত ছিলেন। এসব ক্ষেত্রে হতভাগা মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের বলা হতো, তাদের সন্তান জন্মের পরেই মারা গেছে।

অ্যামি ও আনোর পালক মায়েরা জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে নিয়ে আসা হয়েছিল তাদের। দত্তক নেওয়া পরিবার দুটিও জানতো না যে, অ্যামি-অ্যানো জমজ বোন ছিলেন।

সূত্র: এনডিটিভি