শেয়ার বাজার

কোনো শর্ত দিয়ে বন্ধুত্ব হয় না: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

কোনো শর্ত দিয়ে বন্ধুত্ব হয় না: রিজভী

বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, কোনো শর্ত দিয়ে বন্ধুত্ব হয় না। প্রত্যেক দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সম্মান করার ভিত্তিতেই সম্পর্ক হতে হবে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান রুহুল কবির রিজভী।

এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। বাংলাদেশ সমতার ভিত্তিতে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চায়। কিন্তু কোনো শর্ত দিয়ে বন্ধুত্ব হয় না।’

তিনি বলেন, যদি অন্য কিছু না থাকে, তাহলে অবশ্যই সমতার ভিত্তিতে, মিউচুয়াল রেসপেক্টের ভিত্তিতে এবং সার্বভৌমত্বকে শ্রদ্ধা করার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গেই আমাদের প্রধানমন্ত্রী সম্পর্ক রাখবেন। তিনি যাবেন, আমরাও সবাইকে আমন্ত্রণ জানাবো।

রিজভী আরও বলেন, ভেতরে যদি কোনো শর্ত থাকে, তাহলে সেই শর্ত দিয়ে কখনো বন্ধুত্ব হয় না। বন্ধুত্ব হবে- আমরা প্রত্যেকের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করবো, প্রত্যেকের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করবো।

ভারতের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, স্বার্থ ছাড়া ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ আমন্ত্রণ জানালে সরকার তাকে সাধুবাদ জানাবে। তবে স্বার্থ থাকলে বাংলাদেশ এগোবে না। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কও সমমর্যাদার ভিত্তিতে হবে। এর বাইরে কিছু হলে বিএনপি সরকার সায় দেবে না।

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কল্যাণমুখী কাজ জনগণের কাছে তুলে ধরতে স্বেচ্ছাসেবক দল মাঠে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন রিজভী।

এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু ও সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসিন আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শেখ ফরিদ এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

Dummy Ad 1

১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই, ২০২৬

১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার

যশোরের শার্শায় ১১ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ১৬ বছর বয়সি এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৫ জুন) রাতে শার্শার আফিল জুট মিলের স্টাফ কোয়ার্টার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ভুক্তভোগীর পরিবারের দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির মা শার্শার আফিল জুট মিলে চাকরি করেন। গত ২৬ জুন রাতে তার মা বাসায় না থাকার সুযোগে শিশুটিকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে রুমের দরজা খুলে প্রবেশ করে অভিযুক্ত। পরে মেয়েটির মুখ বেঁধে আফিল জুট মিলের স্টাফ কোয়ার্টারে নিয়ে কুপ্রস্তাব দেয়। এতে মেয়েটি রাজি না হওয়ায় ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে।

পরবর্তীতে তার মা বিষয়টি জানতে পেরে আইনি সহায়তার জন্য শার্শা থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করলে জুট মিলের স্টাফ কোয়ার্টার থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশের তৎপরতা শুরু হয়। তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার কিশোরকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।


দুবাই কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ আগস্ট, ২০২৬

দুবাই কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। সোমবার (২৭ জুলাই) দুবাইয়ের একটি আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) আইনি প্রক্রিয়া শেষে কারামুক্ত হন তিনি।

রোববার (২ আগস্ট) বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না। ফলে জামিনে মুক্তি পেলেও তার দেশত্যাগে বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত নথিপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতে উভয়পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বিচারক। তবে, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দুবাই কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বেনজীর আহমেদের দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার তথ্য গত ১৪ জুন প্রথম জাতীয় সংসদে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো এক ই-মেইলে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে আটক করা হয়।

এরপর বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বেনজীরের প্রত্যার্পণ চায়। এজন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রস্তুত করা প্রায় ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি আরবি ভাষায় অনুবাদ করে কূটনৈতিক মাধ্যমে দুবাইয়ে পাঠানো হয়। সেখানে তার বিরুদ্ধে দেশে গ্রেফতারি পরোয়ানা, মামলার তথ্য ও প্রত্যার্পণের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংযুক্ত করা হয়।


ডা. জাহেদ উর রহমান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল নয়, পর্যালোচনা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ মে, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল নয়, পর্যালোচনা হবে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তি বাতিল নয়, সরকার পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।  

মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘চুক্তি যদি দেখি তাহলে দেখবো এটা বাতিল করার অপশন আছে। মানে ৬০ দিনের নোটিশ দিয়ে বাতিল করে দেওয়া যাবে। এটা হলো এক নম্বর। দুই নম্বর হচ্ছে, এই চুক্তির মধ্যে আরেকটা কন্ডিশন আছে—দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির বিভিন্ন শর্তে পরিবর্তন করতে পারে। তো আমি আমার জায়গা থেকে মনে করি যে, অন্তত আমরা পরে যে অপশনটা বললাম, যে চুক্তিটা পর্যালোচনা করা—আগে সরকারি পর্যায়ে এটার পর্যালোচনা করা।’

তিনি বলেন, আমি দেখলাম পত্রিকায় কলাম লেখা হচ্ছে যে, এখানে (চুক্তি) কোন কোন ক্ষেত্রে সমস্যা আছে, ভিডিও তৈরি হচ্ছে—এগুলো কন্টিনিউ করুক।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমি এই ইস্যুতে কথা বলেছি। সরকারের মধ্যেও এই চুক্তিটা নিয়ে কিছু পর্যালোচনা, এটা বাতিল করে দেওয়ার ইমপ্যাক্ট (প্রভাব) কী হতে পারে নিশ্চয়ই আমরা বুঝতে পারি, বা কোন প্রেক্ষাপটে এই চুক্তিটা স্বাক্ষরিত হয়েছে সেটাও আমরা বুঝতে পারি। কিন্তু ওই যে বললাম ওই সুযোগটা তো আমরা নিতে পারি যে এই চুক্তি রিকনসিডার (পুনর্বিবেচনা) করা কিছু কিছু জায়গায়, যে যে জায়গাগুলোকে আমরা বেশি সমস্যাজনক মনে করি, রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর মনে করি হতে পারে মনে করছি—সেগুলো নিয়ে আমরা আগে আমাদের প্রাথমিক বিবেচনা করবো। আমরা আশা করি যে আমরা ওরকম একটা নেগোসিয়েশনে তাদের সঙ্গে যেতে চাই। বাতিল করাটা বাইল্যাটারাল (দ্বিপাক্ষিক) সম্পর্ক বা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফে যে সংকট আছে সেটা আবার চলে আসার সম্ভাবনা আছে।’

চুক্তি নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, চুক্তির ব্যাপারে একটু বলি। মানে আমরা অনেকে চুক্তি কমনলি বলে ফেলি, চুক্তির অনেকগুলো টাইপ আছে। তাই না? কতগুলো আছে এগ্রিমেন্ট, কতগুলো আছে মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (সমঝোতা স্মারক)। সো বিভিন্ন ক্যাটাগরি। আমরা যেগুলো এগ্রিমেন্ট হয়ে গেছে, সেগুলো থেকেও যে বেরিয়ে যাওয়া যাবে না তা নয়, কিন্তু এগুলোর কতগুলো লিগ্যাল বাইন্ডিং আছে যখন চুক্তিগুলো হয়ে যায়। এবং অনেকের ক্ষেত্রেই লিগ্যাল বাইন্ডিং (আইনগত বাধ্যবাধকতা) এতটাই টাফ থাকে যে, বেরিয়ে যাওয়াটা অনেক সময় থাকার চাইতে বেশি ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে।

‘এর বাইরে যা যা আছে, ইনফ্যাক্ট একটা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার অনেকগুলো ব্যাপার মাথায় রেখেই চিন্তা করবে। আরেকটা কথা একটু আমি জাস্ট ইনফরমেশনের জন্য বলি—কোনো কোনো চুক্তির কিছু অংশ গোপন রাখার শর্তও থাকে। জনগণের অধিকার আছে এবং এমনকি সংসদে ওঠানোরও কনস্টিটিউশনাল প্রভিশন আছে। কিছু কিছু চুক্তির মধ্যে ওটা থাকতে পারে।’—বলেন ডা. জাহেদ।  

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আপনাকে এটুকু বলতে পারি—আমাদের জনগণের জন্য ক্ষতিকর কোনো চুক্তি আগে যেগুলো হয়েছে, প্রত্যেকটার ইভ্যালুয়েশন সরকার করবে। চুক্তি বলতে আমি কমনলি বলছি, এর মধ্যে কিন্তু আবারও সমঝোতা স্মারক থাকতে পারে যেগুলো থেকে বেরিয়ে আসা হয়তো তুলনামূলকভাবে সহজ হবে। কিন্তু চুক্তি থেকে এটা এতটা সহজ নয়, কিন্তু আমরা ইভ্যালুয়েট নিশ্চয়ই করব।’