শেয়ার বাজার

আমরাও একদিন চাঁদে যাবো: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ২৭ জুন ২০২৪

আমরাও একদিন চাঁদে যাবো: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ একদিন চাঁদে যাবে, এমন প্রত্যাশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন প্রজন্মকে সেভাবে জ্ঞান-বিজ্ঞানে দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, ‘একসময় আমাদের চাঁদেও যেতে হবে, চাঁদও জয় করতে হবে। সেই বিজ্ঞানসম্পন্ন জ্ঞানটা যেন আমাদের শিশুরা এখন থেকে পায়, সেজন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৩’ এবং ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৪’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মহাকাশ গবেষণা এবং এ বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ সৃষ্টির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছি, অ্যারোস্পেস এবং অ্যাভিয়েশন ইউনিভার্সিটিও করেছি। অ্যারোনটিক্যাল সেন্টারও করে দিয়েছি। গবেষণা এবং সেই সঙ্গে আমাদের শিশুদের এখন থেকে সেভাবে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।’

শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারের আন্তরিকতা ও উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবসময় আমরা একটা সুষম, জনকল্যাণমুখী, সর্বজনীন, মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা করতে চাই। আর শুধু ওই কেতাবই পড়ে না, ছোট ছোট শিশুদের ভেতরে যে মেধা-মনন সেগুলোও তো আমাদের বের করে আনতে হবে। তাদের সুযোগ দিতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের ভেতরে যে একটা কিছু করার ক্ষমতা আছে, সেটা যাতে বিকশিত হয় সেই সুযোগটা সৃষ্টি করা দরকার। আর সেদিকে লক্ষ রেখেই কিন্তু শিক্ষা কারিকুলাম-আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানের মধ্যে নিয়ে এসে স্কুলে কম্পিউটার করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিটি স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব করা। প্রথমে এটা মাধ্যমিক থেকে শুরু করেছিলাম, এখন আমাদের লক্ষ্য প্রাইমারি থেকেই শুরু করে দেবো।’

দুই বছরের জন্য প্রি-প্রাইমারি চালুর কথা জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘প্রি-প্রাইমারি আমরা চালু করেছি। প্রি-প্রাইমারি এক বছরের জন্য, এখন আমরা সেটা দুই বছরের জন্য করতে চাচ্ছি। শুধু পড়াশোনা না, আসবে-যাবে, একসঙ্গে বসবে, বন্ধুদের নিয়ে খেলাধুলা করবে, ওই খেলাধুলার মধ্য থেকেই তাদের ভেতরে যে সুপ্ত মেধাটা আছে, সেই মেধাটা কীভাবে বিকশিত করা যায়, সেই ধরনের ব্যবস্থা আমাদের নিতে হবে। তাহলেই কিন্তু এই ছেলে-মেয়ে, এরাই তো ভবিষ্যৎ আমাদের। সেভাবে আমরা তাদের তৈরি করে দেবো।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকের যুগ হচ্ছে প্রযুক্তির, কাজেই কম্পিউটার শেখা, আমরা যেমন ল্যাব করে দিচ্ছি, ইনকিউবেশন সেন্টারও করে দিচ্ছি। সেভাবে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জনগোষ্ঠী আমরা গড়ে তুলতে চাই। সেদিকে লক্ষ রেখেই আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তাহলে আমাদের স্মার্ট সিটিজেন হবে। স্মার্ট সরকার, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সমাজ। অর্থাৎ প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনশক্তি। এই ছোটবেলা থেকে, শিশুকাল থেকে ধীরে ধীরে তারা গড়ে উঠবে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে। দেশের উন্নয়নে তাদের চিন্তা-ভাবনা, তারা আরও নতুন নতুন উদ্ভাবনী শক্তি দিয়েই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সেটাই আমি চাই।’

আজকের শিশুরা আগামী দিনের কর্ণধার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের শিশু আগামী দিনের নাগরিক। যারা একদিন এ দেশের কর্ণধার হবে। এই শিশুদের মধ্য থেকেই একদিন কেউ প্রধানমন্ত্রী হবে, মন্ত্রী হবে, বড় বড় সরকারি চাকরি করবে, বৈজ্ঞানিক হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকের শিশুরাই আগামী দিনে স্মার্ট বাংলাদেশের পরিচালক হিসেবে পরিচালনার দায়িত্ব নেবে, সেটাই আমাদের আশা। ২০৪১ সালের মধ্যে হবে স্মার্ট বাংলাদেশ এবং আর ২১০০ সালে ডেল্টা প্ল্যানও করে দিয়েছি। যেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম তারা সুন্দর জীবন পায়, সেটাই আমার লক্ষ্য।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমাদের ছেলে-মেয়েরা শিক্ষাদীক্ষায়, সংস্কৃতি চর্চায়, খেলাধুলা, সবদিকে যেন উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। সেটাই আমরা করতে চাই। তার জন্য যা যা প্রয়োজন সব কিছু আমরা করবো।’

এ বছর ১৮ ক্যাটাগরিতে মোট ১২৬ শিক্ষার্থী, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৩’ প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৫৪ শিক্ষার্থী, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুমানা আলী ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব ফরিদ আহমেদ।

Dummy Ad 1

কেশরহাটে অনুমোদনহীন সমিতির উচ্চ সুদে সর্বশান্ত অনেক পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ মার্চ, ২০২৪

কেশরহাটে অনুমোদনহীন সমিতির উচ্চ সুদে সর্বশান্ত অনেক পরিবার

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাটে অনুমোদনহীন ব্যবসায়িক সমিতির আড়ালে চলছে উচ্চ হারে সুদের রমরমা ব্যবসা। সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অসহায় মানুষের সাথে প্রতারণা করে চালানো হচ্ছে এই সুদের কারবার। বড় অংকের সুদের কারণে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে নিম্ন পর্যায়ের দিনমজুরেরা হচ্ছেন সর্বশান্ত ।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, কেশরহাট পৌরসভার গোপইল গ্রামের সাজ্জাদ মাষ্টারের ছেলে রাজু। একসময় ছিলেন মুদি দোকানদার। মুদি ব্যবসার আড়ালে তিনি ফেন্সিডিলের ব্যবসাও করতেন এবং নকল সিগারেট ও ফেন্সিডিল’সহ বেশ কয়েকবার আটকও হয়েছিলেন মোহনপুর থানায়।

এরপর তিনি কোন সনদপত্র না নিয়েই কেশরহাটে ‘সাফল্য সমবায় সমিতি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান খুলে বসেন। সুদ বইয়ের মাধ্যমে রাজু তার অবৈধ দাদন ব্যবসাকে বৈধ দেখিয়ে মোহনপুর-কেশরহাটের সাধারন মানুষদের প্রতারিত করছেন। সাধারণ মানুষ প্রতারিত হলেও দিন দিন আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছে রাজু।

অতিরিক্ত সুদ আদায় এবং সরকারি আইন ভঙ্গ করলেও স্থানীয় সমবায় অফিস কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় গ্রাহকরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন এবং অতিরিক্ত সুদ প্রদানের মাধ্যমে সর্বশান্ত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সুদ কারবারিরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কেশরহাট বাজার সংলগ্ন মসজিদ মার্কেটে নামবিহীন অফিস খুলে সুদের ব্যবসা চালাচ্ছে এই ‘সাফল্য সমবায় সমিতি’।

আরোও জানা যায়, সাফল্য সমবায় সমিতির পরিচালক রাজু মোড়া অংকের লাভে ও ব্যাংক চেকের বিনিময়ে সাধারণ মানুষের কাছে টাকা দেন। সুদের ব্যবসা করে এখন সে কোটিপতি। প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা বিভিন্ন সাধারণ মানুষের কাছে সুদে দেওয়া রয়েছে তার।

ঋণ প্রদানে সমবায় সমিতির পরিচালক রাজু সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে সাদা স্ট্যাম্প ও ব্ল্যাক চেক বইয়ের পাতা এবং স্বাক্ষর করা ফাঁকা ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প রেখে দিচ্ছেন টাকা দেন তিনি। টাকা পরিশোধ করার পরও চেক বইয়ের পাতায় নিজেদের ইচ্ছা মত টাকা বসিয়ে আদালতে মামলা করে গ্রাহক হয়রানির বহু অভিযোগ রয়েছে এ সমিতির বিরুদ্ধে।

২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে পরিচালক রাজু দীর্ঘ ৫ বছর যাবৎ সমবায় অধিদপ্তরের সরকারি পরিপত্রের তোয়াক্কা না করেই সদস্যদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সুদ আদায়, সাদা চেক ও স্ট্যাম্প এর বিপরীতে ঋণ প্রদান করেন, এমনই অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

তথ্যনুসন্ধানে আরো জানা যায়, মোহনপুর উপজেলার সমবায় অফিসের অধীনে নামে বেনামে অনেক সমিতি রয়েছে, এছাড়া সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্ত আরও শতাধীক সমিতি রয়েছে। যাদের অধিকাংশই চড়া সুদে ঋণ বিতরণ করে থাকেন। এর মধ্যে অন্যতম কেশরহাটে রাজুর ‘সাফল্য সমবায় সমিতি’ লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠান। সমবায় সমিতি হিসেবে রেজিস্ট্রেশন না নিয়েও সমবায় অধিদপ্তরের কোন আইন কানুনই মানছে না প্রতিষ্ঠানটি।

কেশরহাট বাজারে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ‘সাফল্য সমবায় সমিতি’এর পরিচালক রাজু লাভের ওপর এককালীন টাকা দিয়ে মাত্র এক মাস বা তিন মাস মেয়াদে ঋণ পরিশোধ করতে বাধ্য করেন । এতে ঋণ নিয়ে চরম বিপদে পড়েছেন সাধারণ অসহায় মানুষ।

আরোও এক ব্যবসায়ী কান্নাস্বরে জানান, রাজুর কাছে সুদে ৪ লক্ষ টাকা নিয়ে প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা তাকে লাভ দিতেন। টাকা না দেওয়ার কারনে ওই সুদ ব্যবসায়ী তাকে মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী এখন অসহায় অবস্থায় জীবন যাপন করছেন। ব্যবসা বন্ধ করে নিজের জমি জমা বিক্রি করে ওই সুদ ব্যবসায়ীর টাকা দিতেও হিমসিম খেতে হচ্ছে তাকে।

শুধু তাই নই, রাজশাহীর সাহেব বাজারের আরোও এক ব্যবসায়ীর সাথেও প্রতারনা করে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা চিট করে নিয়েছে এই সাফল্য সমবায় সমিতির পরিচালক রাজু। এরপর সেই ভুক্তভোগী কেশরহাট পৌরসভায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ও সমাজসেবা কর্মকর্তা আনিছা দেলোয়ারা আঞ্জু জানান, কেশরহাটে ‘সাফল্য সমবায় সমিতির’ কোন নিবন্ধন নাই। যেহেতু নিবন্ধন নাই সেহেতু কেউ যদি তার কাছে প্রতারিত হয় তাহলে এর জন্য আমরা দায়ী নই।

মোহনপুর উপজেলার ইউএনও আয়েশা সিদ্দিকা জানান, আমার এ বিষয়ে জানা ছিলোনা। বিস্তারিত আমি খোঁজ নিয়ে তদন্ত করে দেখবো এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) হরিদাস মন্ডল জানান,এ বিষয়ে লিখিত কোন অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

কেশরহাট পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান শহিদ জানান, সাফল্য সমবায় সমিতির কোন ট্রেড সনদপত্র নেই। এ বিষয়ে আমি যতটুকু জানি রাজু একজন চিট। তার নামে অনেক অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে একজন ব্যক্তির মোটা অংকের টাকা প্রতারনা করে নেওয়ার লিখিত অভিযোগ পাওয়ায় তাকে আমি ডেকে এনে সময় সাপেক্ষে

পৌরসভাতেই মিমাংসা করে দেই। এই রাজুর খপ্পরে পরে যেন আর কেউ প্রতারিত না হয় সেইদিকে আমি খেয়াল রাখব।

এ বিষয়ে সাফল্য সমবায় সমিতির পরিচালক রাজুর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তিনি কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।


শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে ‘বড় হুমকি’ অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬

শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে ‘বড় হুমকি’ অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি

নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে দেশে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি তত বাড়ছে। জনমনে ছড়াচ্ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। তৈরি হচ্ছে ভীতির পরিবেশ। প্রায় প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন জেলায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্রধারীদের তৎপরতার খবর সামনে আসায় নির্বাচনকেন্দ্রিক জননিরাপত্তার প্রশ্নটি বড় হয়ে সামনে আসছে।

নির্বাচনের আগে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যথারীতি তৎপরতা দেখালেও বাস্তব অবস্থার প্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের মধ্যেও অবৈধ অস্ত্রের অবাধ বিচরণ মানুষকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলছে। জনমনে ফেলছে শঙ্কার ছায়া।

স্ত্রের এ মহড়ার দ্রুত লাগাম টানা না গেলে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথ ক্রমশ কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠতে পারে, যা একদিকে আশঙ্কা আর অনিশ্চয়তা যেমন বাড়াবে, সরকারের জন্যও তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে উঠতে পারে ভীষণ চ্যালেঞ্জিং।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুনের ঘটনায়ও অপরাধীরা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে, যা আসন্ন দিনগুলোতে এই অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলতে পারে। তফসিল ঘোষণার আগে-পরে যেসব খুনের ঘটনা ঘটেছে, তা শুধু ভোটারদেরই নয়—নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রার্থীদেরও আতঙ্কিত করে তুলতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো অপরাধীদের মধ্যে ভয়ের জায়গা তৈরি করতে পারেনি। অপরাধী যে রাজনৈতিক দলের পরিচয়েই থাকুক না কেন তাদের বিষয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে শাস্তি নিশ্চিত করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা গেলে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ মিলবে—মনে করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় দেশের বহু থানা থেকে অস্ত্র লুট করা হয়েছে। সেসব অস্ত্র কী পরিমাণ উদ্ধার হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। নতুন করে দেশের বাইরে থেকেও অস্ত্র ঢুকছে বলে আলোচনা রয়েছে। নির্বাচনের মাঠে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সেসব অস্ত্র ব্যবহার করা হবে কি না—রয়েছে এ সংশয়ও।

অভ্যুত্থান-পরবর্তী ডিএমপির এক হাজার ৮৯৮টি অস্ত্র খোয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪১টি অস্ত্র এখনো হাতছাড়া। এখন পর্যন্ত এক হাজার ২৫৭টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।—ডিএমপির তথ্য

তবে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। গত ১ জানুয়ারি র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর ক্যাম্প কমান্ডার কে এ এম মামুন খান চিশতী জানান, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশে অস্ত্র মজুতের গোপন সংবাদ জানতে পারে পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাব। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি বিদেশি পিস্তল ও পাঁচটি গুলিসহ দুজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১২।

গত ৬ জানুয়ারি ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগরীর পল্লবী থানার আরমান কমিউনিটি লার্নিং সেন্টারের পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান চালিয়ে অত্যাধুনিক অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ চার সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল।

গত বছরের ২৭ মে ভোরে কুষ্টিয়া শহরের কালীশংকরপুর এলাকায় তিন ঘণ্টার এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ওরফে ফতেহ আলী ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদ ওরফে আবু রাসেল মাসুদকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে সুব্রত বাইনের অন্য দুই সহযোগী শুটার আরাফাত ও শরীফকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে পাঁচটি বিদেশি পিস্তল, ১০টি ম্যাগাজিন, ৫৩ রাউন্ড অ্যামোনিশন এবং একটি স্যাটেলাইট ফোন উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব বলছে, গত তিন মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ১৮৮টি দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৭৯ জনকে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী থানা লুটের ঘটনায় ৬৪১টি অস্ত্র এখনো পুলিশের হাতছাড়া।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, থানা থেকে লুট হওয়া এই অস্ত্রগুলো এখন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহার করা ৬৪১টি বৈধ অস্ত্রের হিসাবের বাইরে রাজধানীসহ সারাদেশে এ মুহূর্তে কী পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র রয়েছে তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই পুলিশের হাতে।

দু-চারটি অস্ত্র যে সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে না আমি তা বলবো না, ঢুকছে এবং ধরাও হচ্ছে। প্রতিদিন দু-একটি করে ধরা হচ্ছে। কোথাও কোনো রকমের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না—স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

সেনাবাহিনী, পুলিশ বা র‌্যাবের অভিযানেই শুধু নয়—দেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকেও অস্ত্র উদ্ধার এখন যেন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অস্ত্র ব্যবহার করে ঘটছে খুনের ঘটনা।

হরহামেশা প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মাত্র একদিন পরই গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীতে দিনদুপুরে প্রকাশ্যে গুলি করা হয় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে। তিনি ঢাকা-৮ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর হাদি মারা যান।

হাদিকে গুলির ঘটনার মাত্র একদিন আগেই ১১ ডিসেম্বর দুপুরে পুরান ঢাকার শ্যামবাজারে আবদুর রহমান ভূঁইয়া (৫৫) নামের এক মসলা ব্যবসায়ীকে দোকানে ঢুকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

গত ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্লবীতে একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে ঢুকে মুখোশ ও হেলমেট পরা সন্ত্রাসীরা পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করে। ১২ নভেম্বর মধ্য বাড্ডার কমিশনার গলির একটি দোতলা টিনশেড বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হন মামুন শিকদার (৩৯) নামের এক ব্যক্তি।

বিদায়ী বছরের শুরুর দিকে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর বনশ্রী ডি ব্লকের ৭ নম্বর রোডের ২০ নম্বর বাড়ির সামনে সোনা ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনকে (৪৩) ফিল্মি স্টাইলে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে প্রায় ১৬০ ভরি সোনা ও নগদ এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।

গত ২৫ মে রাতে বাড্ডা এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে দোকানের সামনে বসে চা পান করছিলেন বিএনপি নেতা কামরুল আহসান সাধন। হঠাৎ দুজন লোক তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে। পরে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে আন্ডারওয়ার্ল্ডের গডফাদারের সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে আসে।

২০২৪ সালে দেশে ৬৪৯টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ১০০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতায় খুন হয়েছেন ১০২ জন।—আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য

গত বছরের ১১ নভেম্বর পুরান ঢাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় তারেক সাইদ মামুনকে। চারদিন পরই ১৫ নভেম্বর লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জের পশ্চিম লতিফপুর এলাকায় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালামকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

নতুন বছরের শুরুতেই গত ৩ জানুয়ারি যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনকে (৫৫) মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়।

এর দুদিন পর ৫ জানুয়ারি যশোরের মনিরামপুরের বরফকল ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগীকে (৩৮) ডেকে নিয়ে খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদলের এক সাবেক নেতাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

সারাদেশে অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি

অভ্যুত্থান-পরবর্তীকালে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থানার অস্ত্র লুট করে নেয় দুর্বৃত্তরা। লুট হওয়া এসব অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘অভ্যুত্থান-পরবর্তী আমাদের ডিএমপির এক হাজার ৮৯৮টি অস্ত্র খোয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪১টি অস্ত্র এখনো হাতছাড়া। এখন পর্যন্ত এক হাজার ২৫৭টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।’

পুলিশের ব্যবহৃত লুণ্ঠিত অস্ত্র ছাড়াও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে অনেক অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এগুলোর সঠিক তথ্য অনুমানের ওপর ভিত্তি করে বলা যাবে না।

অস্ত্র জমা দিতে সরকারের নির্দেশনা ও পুরস্কার ঘোষণা

সরকারের পক্ষ থেকে বারবার লুণ্ঠিত অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েও কোনো কাজ না হওয়ায় এবং নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লুট হওয়া এসব অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করে সরকার।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ২৯৪, ফেব্রুয়ারিতে ৩০০, মার্চে ৩১৬, এপ্রিলে ৩৩৬, মে মাসে ৩৪১, জুনে ৩৪৪, জুলাইয়ে ৩৬২, আগস্টে ৩২১, সেপ্টেম্বরে ২৯৭, অক্টোবরে ৩১৯ ও নভেম্বরে খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে ২৭৯টি। অর্থাৎ, বিদায়ী বছরে ১১ মাসে মোট খুনের মামলা হয়েছে তিন হাজার ৫০৯টি।—পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য

গত ৬ জানুয়ারি পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদের প্রকৃত সন্ধানদাতাদের পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হবে।

পুরস্কারের পরিমাণ জানিয়ে তিনি বলেন, এলএমজিতে পাঁচ লাখ, এসএমজিতে দেড় লাখ, চায়না রাইফেলে এক লাখ এবং পিস্তল ও শটগানে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। প্রতি রাউন্ড গুলির জন্যও পুরস্কার থাকছে ৫০০ টাকা।

লুণ্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদের প্রকৃত সন্ধানদাতাকে কাছের থানায় যোগাযোগ করতে বলেছে পুলিশ

নির্বাচন ঘিরে সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে অবৈধ অস্ত্র

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গত ২৯ ডিসেম্বর জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচন টার্গেট করে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

‘দু-চারটি অস্ত্র যে সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে না তা আমি বলবো না, ঢুকছে এবং ধরাও হচ্ছে। প্রতিদিন দু-একটি করে ধরা হচ্ছে। কোথাও কোনো রকমের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না’—সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিচ্ছে। প্রায় ৩৫ হাজার বিজিবি সদস্য নির্বাচনে মোতায়েন থাকবেন। শঙ্কার প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচনে এখন কোনো শঙ্কা নেই।

প্রশাসনেও শঙ্কার ছাপ

অবৈধ অস্ত্র আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে বা কোনো আশঙ্কা আছে কি না—জানতে চাইলে পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, দেশে অবৈধ অস্ত্র কী পরিমাণ আছে সেটা তো বলা মুশকিল। আমাদের যদি জানা থাকতো যে এখানে ১০০টি অবৈধ অস্ত্র আছে তাহলে সেই অস্ত্রগুলো রিকোভারি করতাম। শুধু নির্বাচন নয়, যে কোনো সময় অবৈধ অস্ত্র দেশের জন্য অবশ্যই একটা থ্রেট। তবে নির্বাচনে মনে হয় না এটির খুব বেশি প্রভাব পড়বে।

র‌্যাবের অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, ‘অস্ত্র উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। গত তিন মাসে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমরা ১৮৮টি দেশি ও বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করি। এ সংক্রান্ত ৭৯ জনকে গ্রেফতার করি। এই তিন মাসে আমরা হত্যা মামলার ৫২২ জন আসামিকে গ্রেফতার করি। এছাড়া ডাকাতি মামলার ১৫১ জন, ছিনতাইবিরোধী অভিযানে ৭০ জন, মানবপাচারকারী ৪১ জন এবং মাদক মামলায় এক হাজার ২১০ জনকে গ্রেফতার করি। তিন মাসে আমরা মোট চার হাজার ৩৬৬ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।’

অপরাধীরা দেখছে গুলি বা হামলা করে খুব একটা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে না। বরং হামলা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রেষারেষির প্রতিযোগিতা চলছে। মামলা নিয়ে এমন প্রতিযোগিতা চললে অপরাধীরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে—এটিই স্বাভাবিক।—অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক

নির্বাচন সামনে রেখে র‌্যাবের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি আমাদের যে জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট এটির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবো।’

‘আমাদের নয় হাজারের কাছাকাছি জনবল রয়েছে। এ নিয়েই আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করবো। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবো। ভোটকেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার থাকবে। স্ট্রাইকিং ও মোবাইল ডিউটি হিসেবে বিজিবি এবং সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে’—যোগ করেন র‌্যাবের মহাপরিচালক।

রাজনৈতিক সহিংসতায় অবৈধ অস্ত্র

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, ২০২৪ সালে দেশে ৬৪৯টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ১০০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতায় খুন হয়েছেন ১০২ জন।

হত্যা মামলার পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণ

পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে ২৯৭টি খুনের মামলা হয়। অক্টোবরে এ সংখ্যা ছিল ৩২০। অর্থাৎ, সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে খুনের মামলা বাড়ে ২৩টি। ২০২৪ সালের অক্টোবরে সারাদেশে খুনের মামলা হয়েছিল ৩৯৯টি।

গত বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের খুনের মামলা বিশ্লেষণে দেখা যায়, মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোর মধ্যে অক্টোবরে ঢাকায় ২২টি ও গাজীপুরে ১১টি খুনের মামলা হয়। তবে সেপ্টেম্বরে ঢাকায় এ সংখ্যা ছিল ২৫টি ও গাজীপুরে তিনটি। পুলিশ রেঞ্জগুলোর মধ্যে অক্টোবরে ঢাকা রেঞ্জে ৫৯টি হত্যা মামলা হয়েছিল। চট্টগ্রাম রেঞ্জে সেপ্টেম্বরে ৫৫টি হত্যা মামলা হলেও অক্টোবরে তা বেড়ে হয় ৫৯টি। এসময়ে খুলনা রেঞ্জে ৩৪টি ও রাজশাহী রেঞ্জে হত্যা মামলা হয় ৪১টি।

খুনের ঘটনায় ১১ মাসে যত মামলা

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ২৯৪টি, ফেব্রুয়ারিতে ৩০০টি, মার্চে ৩১৬টি, এপ্রিলে ৩৩৬টি, মে মাসে ৩৪১টি, জুনে ৩৪৪টি, জুলাইয়ে ৩৬২টি, আগস্টে ৩২১টি, সেপ্টেম্বরে ২৯৭টি, অক্টোবরে ৩১৯টি ও নভেম্বরে খুনের ঘটনায় ২৭৯টি মামলা হয়েছে। অর্থাৎ, বিদায়ী বছরে ১১ মাসে মোট খুনের মামলা হয়েছে তিন হাজার ৫০৯টি।

২০২৪ সালের একই সময়ে (জানুয়ারি থেকে নভেম্বর) খুনের মামলা হয়েছিল তিন হাজার ২২৮টি।

যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, তফসিলের আগে চট্টগ্রামে একজন প্রার্থীকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা, তফসিলের একদিন পর গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ওসমান হাদির ওপর যে আক্রমণ—সন্দেহ নেই এসব ঘটনা প্রার্থীদের আতঙ্কে রাখবে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভয়ভীতি কাজ করবে এবং নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ভোটারদের এক ধরনের দ্বিধা-দ্বন্দ্বে রাখবে। কারণ, মানুষের ভোটাধিকারের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। চট্টগ্রামে প্রার্থীর ওপর গুলির ঘটনার পরই যদি সরকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জোরালোভাবে ব্যবস্থা নিতে পারতো তবে এখনকার পরিস্থিতি হয়তো দেখতে হতো না।

এ অপরাধ বিশেষজ্ঞের মতে, অপরাধীরা দেখছে গুলি বা হামলা করে খুব একটা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে না। বরং তাদের হামলা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রেষারেষির প্রতিযোগিতা চলছে। কোনো হামলা, আক্রমণ বা অপরাধ নিয়ে যখন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রেষারেষির প্রতিযোগিতা চলে তখন অপরাধীরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে এটিই স্বাভাবিক।

‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো অপরাধীদের মধ্যে ভয়ের জায়গা তৈরি করতে পারেনি। অপরাধী যে রাজনৈতিক দলের পরিচয়েই থাকুক না কেন তাদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ মিলবে’—যোগ করেন ড. তৌহিদুল হক।

জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ নুরুল হুদা জাগো নিউজকে বলেন, সবার কাছে তো অস্ত্র থাকে না। অস্ত্রের নির্দিষ্ট তথ্যগুলো যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জোগাড় করতে পারে তবে সেগুলো উদ্ধার করা সহজ হয়। এজন্য জনসাধারণের সাহায্য দরকার।

‘এর চেয়েও অতীতে আরও খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। টেনশনের কোনো কারণ নেই। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকতে হয়। অবৈধ অস্ত্রগুলো নির্বাচনের আগে দ্রুত উদ্ধার করা দরকার। অস্ত্র উদ্ধারের নানান পথ আছে। সেগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অ্যাপ্লাই করতে হবে’—বলেন সাবেক এই পুলিশপ্রধান।



ফরিদপুরের মধুখালীতে যুববকে কুপিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ মার্চ, ২০২৪

ফরিদপুরের মধুখালীতে যুববকে কুপিয়ে হত্যা

ফরিদপুরের মধুখালীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে যুবকে কুপিয়ে হত্যা, নিহত ব্যক্তির নাম নিজাম উদ্দিন (৩৫) নিজাম উদ্দিন উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের হাটঘাটা গ্রামের মানিক শেখের ছেলে। 

জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১ টার দিকে নিজাম উদ্দিনের শ্বশুর বাড়ি থেকে তার শ্যালকসহ বেশ কয়েকজন নিজামের ঘরে ঢুকে তার স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করে দেয় এবং নিজাম উদ্দিনকে ধারলো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে যখন করে পালিয়ে যায়।

নিহত নিজাম উদ্দিনের ছোট ভাই আজিম উদ্দিন বলেন, আমার বড় ভাইকে তার শ্যালক আশুারুল, ইলিয়াস, মামুন, হারুনসহ বেশ কয়েকজন মধ্যরাতে ঘরে ঢুকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে। আমার ভাই নিজাম উদ্দিন তার শালিকা'কে নিয়ে ঝামেলা ছিলো শালিকাকে নিয়ে বেড়াতে যায় আমার ভাই তারপর তাকে নিয়ে রাতে আমাদের বাড়িতে চলে আসে এই খবর পেয়ে আমার ভাইয়ের শ্বশুর বাড়ি থেকে লোকজন শালিকাকে নিতে এসে ঘরে ঢুকে আমার ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করে। আমি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

নিহত নিজাম উদ্দিনের শরীরে একাধিক জখমের চিহ্ন রয়েছে। তার শ্বশুর বাড়ি উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের দীঘলিয়া গ্রামে। রাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিজাম উদ্দিনকে ফরিদপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেবার পথে মারা যান তিনি।

সকালে হত্যার সংবাদ পেয়ে মধুখালী থানা পুলিশ আসে পরে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট এসে লাশের সুরতহাল করে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

এই বিষয়ে মধুখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মিরাজ হোসেন বলেন, সকালে তথ্য পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই এখনও পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দেইনি অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।