শেয়ার বাজার

দক্ষিণ আফ্রিকায় দোকানে আগুন, ৬ বাংলাদেশি নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকায় দোকানে আগুন, ৬ বাংলাদেশি নিহত

দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে পুড়ে ৬ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। দেশটির ইস্টার্ন কেপ প্রদেশে একটি দোকানে আগুন লেগে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন।

নিহত ৬ বাংলাদেশি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলিরটেক ইউনিয়নের কুকেরচর ও চর আলীরটেক এলাকা এবং বক্তাবলী ইউনিয়নের রামনগর এলাকার বাসিন্দা।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) স্থানীয় সময় ভোর ৩টার দিকে কুইন্সটাউনের ওই দোকানে আগুন লাগে। আগুন লাগার সময় দোকানের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন বাংলাদেশিরা। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ৬ জন। আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, কয়েকজন মারা যাওয়ার কথা শুনেছি। তবে আমাদের কাছে এখনও অফিসিয়াল কোনো তথ্য আসেনি। আমরা খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি।


Dummy Ad 1

যুক্তরাজ্যে হঠাৎ কী হলো, অভিবাসীরা কেন আতঙ্কে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ জুন, ২০২৬

যুক্তরাজ্যে হঠাৎ কী হলো, অভিবাসীরা কেন আতঙ্কে?

নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্ট থেকে শুরু করে ইংল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সাউদাম্পটন—সম্প্রতি উগ্র ডানপন্থিদের সহিংসতায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যুক্তরাজ্য। একের পর এক দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ এবং অভিবাসীদের ওপর হামলার ঘটনায় দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী ও অভিবাসীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বেলফাস্ট ও সাউদাম্পটনে যা ঘটেছে

নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে সহিংসতার সূত্রপাত হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। সেখানে এক কৃষ্ণাঙ্গ হামলাকারীকে এক শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তির ওপর ছুরি নিয়ে চড়াও হতে দেখা যায়। পরে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি সুদান থেকে আসা একজন শরণার্থী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেলফাস্টে শুরু হয় আধুনিক যুগের ‘পোগ্রম’ বা জাতিগত নিধনযজ্ঞের মতো সহিংসতা। মুখোশধারী দাঙ্গাবাজরা ‘বিদেশিরা দূর হও’ স্লোগান দিয়ে অভিবাসীদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়, যার ফলে নারী ও শিশুরা এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।

অন্যদিকে, সাউদাম্পটনে দাঙ্গা শুরু হয় হেনরি নোয়াক নামের ১৮ বছর বয়সী এক শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। হেনরিকে ছুরিকাঘাত করেছিলেন ভিক্রুম দিগওয়া নামের এক ব্রিটিশ শিখ যুবক। তবে অভিযোগ ওঠে, পুলিশ ভুলবশত মুমূর্ষু হেনরিকেই হাতকড়া পরায় এবং তার বিরুদ্ধে বর্ণবাদের মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়। এই ঘটনার বডি ক্যাম ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে ২ জুন সাউদাম্পটন সেন্ট্রাল পুলিশ স্টেশনের বাইরে হাজারখানেক মানুষ জড়ো হয়ে সহিংস বিক্ষোভ শুরু করে। উগ্র ডানপন্থি দলগুলো পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, চেয়ার এবং ডাস্টবিন ছুড়ে মারে।

সাউদাম্পটনের সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে এরই মধ্যে কয়েকজনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বিচারক মাউসলি কেসি রায় ঘোষণার সময় বলেন, এটি ছিল পুলিশ-বিদ্বেষ এবং বর্ণবাদী মনোভাব থেকে জন্ম নেওয়া একটি জঘন্য অপরাধ। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা গভীর ভয়, হতাশা এবং চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছেন।"

রাজনীতি বনাম বাস্তব চিত্র

অভিবাসন-বিরোধী দল রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ দাবি করেছেন, এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে যুক্তরাজ্যে শ্বেতাঙ্গদের চেয়ে জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, গ্রীষ্মের এই সময়ে মানুষের মনে আশা না জাগালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, জনতুষ্টিবাদী (পপুলিস্ট) নেতারা রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এই পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য টাইমস এক সম্পাদকীয়তে লিখেছে, অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে সরকারের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই বেলফাস্টের এই ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে।

অথচ পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। ২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের প্রায় ৯৭ শতাংশ মানুষই শ্বেতাঙ্গ। মোট ১৯ লাখ ৩০ হাজার জনসংখ্যার মধ্যে মাত্র ২ হাজার ২৪৮ জন আশ্রয়প্রার্থী সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন। অর্থাৎ, সেখানে অভিবাসীদের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য।

‘হোয়াইট ভিক্টিমহুড’

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের (LSE) অপরাধবিজ্ঞান ও সামাজিক নীতি বিষয়ের অধ্যাপক টিম নিউবার্ন বলেন, যুক্তরাজ্যে এ ধরনের গণ-সহিংসতা সাধারণত বিরল। জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট ও জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও, সাম্প্রতিক দাঙ্গাগুলোর মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে জাতিগত পরিচয় ও অভিবাসন ইস্যু।

সাসেক্স ইউনিভার্সিটির সামাজিক মনস্তত্ত্বের অধ্যাপক জন ডুরি এই সহিংসতাকে ‘সম্মিলিত বর্ণবাদী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, শ্বেতাঙ্গদের মনে এই ধারণা গেঁথে দেওয়া হচ্ছে যে তারা বৈষম্যের শিকার (White Victimhood)। কিছু মানুষ একে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, আবার অনেকে সত্যি সত্যিই এই আধুনিক বর্ণবাদী আদর্শে বিশ্বাস করতে শুরু করেছে।

অধ্যাপক ডুরি আরও উল্লেখ করেন, ব্রেক্সিট (Brexit) পরবর্তী সময়ে যেভাবে বর্ণবিদ্বেষী হামলা বেড়েছিল, ঠিক তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু রাজনীতিবিদের উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে বর্ণবাদীরা এখন নিজেদের আরও শক্তিশালী ভাবছে।

ইলন মাস্কের পোস্ট

যুক্তরাজ্যে এই অস্থিরতা ছড়িয়ে দিতে মস্কো সফরে থাকা উগ্র ডানপন্থি কর্মী টমি রবিনসন (প্রকৃত নাম স্টিফেন ইয়াক্সলি-লেনন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেশবাসীকে জেগে ওঠার আহ্বান জানান। এই পোস্টটি টেক বিলিয়নেয়ার ইলন মাস্ক তার ২৪ কোটি ফলোয়ারের মাঝে শেয়ার করলেও বাস্তবে তা বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। বৃহস্পতিবার রাত থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হয়ে আসে এবং বেলফাস্টে একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মাধ্যমে আপাতত সহিংসতার অবসান ঘটে।


ইরানের সঙ্গে কতক্ষণ টিকতে পারবে ইসরায়েল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল, ২০২৪

ইরানের সঙ্গে কতক্ষণ টিকতে পারবে ইসরায়েল

গাজা যুদ্ধ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে গত সোমবার সিরিয়ায় একটি ইরানি দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল। ইসরায়েলি এই হামলার সমুচিত জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে পাল্টা হামলার প্রস্তুতি শুরু করেছে ইরান। ফলে ইরানের সামনে ইসরায়েল কতক্ষণ টিকবে তা নিয়ে চলছে নানা সমীকরণ।

গত কয়েক বছর ধরে ইরান ও ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা বেশ বেড়েছে। সম্প্রতি ইরান সামরিক প্রযুক্তির দিকে মনোনিবেশ করেছে। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের তথ্যমতে, ১৪৫টি দেশের মধ্যে ইরান ১৪তম আর ইসরায়েল ১৭তম অবস্থানে রয়েছে। ওয়েবসাইটের তথ্যমতে দুই দেশের মধ্যকার সামরিক সক্ষমতার তথ্য তুলে ধরা হলো।

ওয়েবসাইটের তথ্যানুসারে, ইরানের ৬ লাখ ১০ হাজার নিয়মিত সেনা রয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের রয়েছে এক লাভ ৭০ হাজার সেনা। তবে রিজার্ভ সেনার দিক দিয়ে আগায়ে রয়েছে ইসরায়েলের। তাদের সেনা হচ্ছে চার লাখ ৬৫ হাজার। অন্যদিকে ইরানের রিজার্ভ সেনা হলো তিন লাখ ৫০ হাজার।

আধাসামরিক বাহিনীর দিক দিয়ে আগায়ে রয়েছে ইরান। দেশটিতে ২ লাখ ২০ হাজার আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের রয়েছে মাত্র ৩৫ হাজার সেনা।

সামরিক উড়োজাহাজের দিক দিয়ে আগায়ে রয়েছে ইসরায়েল। দেশটির ৬১২টি সামরিক উড়োজাহাজ রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের সামরিক উড়োজাহাজের সংখ্যা ৫৫১টি। যুদ্ধবিমানের দিক দিয়েও আগায়ে ইসরায়েল। দেশটির ২৪১টি যুদ্ধবিমান রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের ১১৬টি যুদ্ধবিমান রয়েছে।

হামলায় ব্যবহৃত যুদ্ধবিমান ইসরায়েলের ৩৯টি আর ইরানের রয়েছে ২৩টি। অন্যদিকে পরিবহন উড়োজাহাজে এগিয়ে রয়েছে ইরান। দেশটির ৮৬টি আর অন্যদিকে ইসরায়েলের রয়েছে ১২টি।

হেলিকপ্টারের দিক দিয়েও এগিয়ে রয়েছে ইসরায়েল। দেশটির ১৪৬টি হেলিকপ্টার রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের বহরে রয়েছে ১২৯টি হেলিকপ্টার। এ ছাড়া ইরানের ট্যাংক রয়েছে এক হাজার ৯৯৬টি। অন্যদিকে ইসরায়েলের রয়েছে এক হাজার ৩৭০টি।

সাঁজোয়া যানেও এগিয়ে রয়েছে ইরান। দেশটির ৬৫ হাজার ৭৬৫টি সাঁজোয়া যান রয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের রয়েছে ৪৩ হাজার ৪০৩টি। এ ছাড়া সাবমেরিন রয়েছে ইরানের ১৯টি। অন্যদিকে ইসরায়েলের রয়েছে মাত্র ৫টি।


‘একটার বদলে দশটা লাশ’
কলকাতার সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ এখন কুখ্যাত ‘গোপাল পাঁঠা’র নামে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ জুন, ২০২৬

কলকাতার সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ এখন কুখ্যাত ‘গোপাল পাঁঠা’র নামে

কলকাতার অন্যতম প্রধান একটি রাস্তার নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। পার্ক সার্কাস সংলগ্ন ঐতিহাসিক ‘সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ’ (Suhrawardy Avenue)-এর নাম পরিবর্তন করে ‘গোপাল মুখার্জি রোড’ বা ‘গোপাল পাঁঠা রোড’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পৌরসভা (কেএমসি)। গত ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উপলক্ষে নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক বলে স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তার পরেই শুরু হয়েছে চরম বিতর্ক। কারণ, যে সোহরাওয়ার্দীর নাম মুছে এই বদল করা হচ্ছে, তিনি অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী নন, বরং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও প্রখ্যাত চিকিৎসক হাসান সোহরাওয়ার্দী!

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। যে মানুষ একসময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর হিংসা চালিয়েছিলেন, এতদিন তার নামে কলকাতার প্রধান রাস্তা ছিল। এবার ঐতিহাসিক ভুল সংশোধন করে আসল নায়ক গোপাল মুখার্জিকে সম্মান জানানো হলো।’

মুখ্যমন্ত্রীর এই পোস্টের পরই পাল্টা সরব হয় তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্র সাকেত গোখলে স্পষ্ট জানান, এই রাস্তাটি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে নয়, বরং তার মামা হাসান সোহরাওয়ার্দীর নামে উৎসর্গ করা। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও কলকাতা পৌরসভার এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, ‘পৌরসভা মস্ত বড় ভুল করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর উচিত রেকর্ড খতিয়ে দেখা।’

কে ছিলেন হাসান সোহরাওয়ার্দী?

১৯৩৩ সালে হাসান সোহরাওয়ার্দী জীবিত থাকাকালীনই ক্যালকাটা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন পার্ক সার্কাস থেকে কসাইপাড়া লেনের সংযোগকারী এই রাস্তাটির নামকরণ তার নামে করেছিল। তিনি ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম উপাচার্য (১৯৩০-১৯৩৪)। এছাড়া তিনি রয়্যাল কলেজ অব সার্জনস অব ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় মুসলিম ফেলো ছিলেন। এই রাস্তাতেই ছিল তার বাসস্থান ‘কাশানা’, যা তৎকালীন ভারতের বহু প্রথিতযশা রাজনীতিকদের মিলনক্ষেত্র ছিল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় এই রোডের একটি ভবনেই বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী সরকার (মুজিবনগর সরকার) তাদের প্রাথমিক কাজ চালিয়েছিল।

কে এই ‘গোপাল পাঁঠা’?

১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট মুসলিম লীগের ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’-র ডাকে কলকাতায় যে ভয়ংকর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা (Great Calcutta Killings) শুরু হয়েছিল, সেই সময় হিন্দু প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান নাম ছিল গোপাল মুখার্জি ওরফে ‘গোপাল পাঁঠা’। পরিবারে ছাগলের মাংসের ব্যবসা থাকায় তার নাম হয়েছিল গোপাল পাঁঠা। অনুগামীদের মতে, তিনি সেই অন্ধকার সময়ে হিন্দু পরিবারগুলোকে রক্ষা করেছিলেন এবং মুসলিম লীগের কলকাতা দখলের চক্রান্ত রুখে দিয়েছিলেন। তবে কলকাতা পুলিশের খাতায় তিনি ‘ফেরোশাস ক্রিমিনাল’ বা দুর্ধর্ষ অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন।

‘একটার বদলে দশটা মারবে’

১৯৯৭ সালের ২৫ এপ্রিল বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গোপাল পাঁঠা নিজেই স্বীকার করেছিলেন তার বাহিনীর সহিংসতার কথা। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি সব লোকাল ছেলেদের কল করে বললাম যে, দেখো মারছ বা মারবে, ওরাও যা করছে তোমরাও তাই করবে। তবে এখন দেখছি বর্বরতা দিয়েই বর্বরতা দমন হবে। সুতরাং যদি কানে শোনো ওরা একটাকে মেরেছে, তোমরা ওয়ান টু টেন (একটার বদলে দশটা) করবে, তোমরা দশটাকে মারবে। তবে এটা বন্ধ হবে। মারবে মানে আধমরা করবে না, একদম খতম করবে।’

গোপাল পাঁঠার ভাষ্যমতে, ‘আমার ছেলেরা কত যে মেরেছে, তার হিসাব নেই।’

‘এক বোতল হুইস্কি দিলেই একটা পিস্তল’

১৯৪৬ সালের দাঙ্গার সময় গোপাল পাঁঠার বাহিনীর কাছে প্রচুর অস্ত্র ছিল। ১৯৪২ সালের ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন’-এর সময় থেকেই তিনি দলবল ও অস্ত্র মজুত করতে শুরু করেন। মার্কিন সৈন্যরা যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কলকাতায় অবস্থান করছিল, তখন তাদের কাছ থেকেও অস্ত্র কিনেছিলেন গোপাল। বিবিসিকে তিনি বলেছিলেন, ‘আড়াইশো টাকা দিলে একটা পয়েন্ট ৪৫ পিস্তল আর একশো কার্টিজ দিয়ে দিত। অথবা এক বোতল হুইস্কি কিনে দিলে একটা পিস্তল আর একশো কার্টিজ দিয়ে দিত। এইভাবে অস্ত্র সিকিওর করেছি।’

গান্ধীর সামনে অস্ত্র সমর্পণে অস্বীকৃতি

১৯৪৭ সালের ১২ আগস্ট দেশভাগের ঠিক আগে মহাত্মা গান্ধী কলকাতায় আসেন দাঙ্গা থামাতে। বেলেঘাটায় অবস্থানকালে তিনি সবাইকে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানান। কংগ্রেস নেতারা গোপাল পাঁঠাকে অনুরোধ করেন কিছু অস্ত্র জমা দিতে। গোপাল পাঁঠা ভাঙা ও অকেজো কিছু অস্ত্র নিয়ে গান্ধীর কাছে গেলেও নিজের মূল অস্ত্র জমা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

তিনি গান্ধীকে স্পষ্ট বলেছিলেন, ‘যখন গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংসটা হলো, তখন গান্ধীজী কোথায় ছিলেন? যে অস্ত্র দিয়ে মা-বোনের ইজ্জত রক্ষা করেছি, মহল্লা রক্ষা করেছি, সে অস্ত্র আমি একটাও জমা দেব না।’ তাদের কাছে যেসব অস্ত্র ছিল, সেগুলো পরে ছিনতাই-ডাকাতিতে ব্যবহৃত হয়েছে বলেও বিবিসিকে জানিয়েছিলেন তিনি।

তিনি গান্ধীকে স্পষ্ট বলেছিলেন, ‘যখন গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংসটা হলো, তখন গান্ধীজী কোথায় ছিলেন? যে অস্ত্র দিয়ে মা-বোনের ইজ্জত রক্ষা করেছি, মহল্লা রক্ষা করেছি, সে অস্ত্র আমি একটাও জমা দেব না।’ তাদের কাছে যেসব অস্ত্র ছিল, সেগুলো পরে ছিনতাই-ডাকাতিতে ব্যবহৃত হয়েছে বলেও বিবিসিকে জানিয়েছিলেন তিনি।