শেয়ার বাজার

ফ্রান্সে জরিমানা গুনলেন বাংলাদেশি অভিবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫

ফ্রান্সে জরিমানা গুনলেন বাংলাদেশি অভিবাসী

ফ্রান্সে অনিয়মিতভাবে প্রবেশ করার দায়ে এক বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীকে অর্থদণ্ড দিয়েছে দেশটির ব্রেস্ট শহরের একটি আদালত। ৩১ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি ধর্মীয় কারণে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন।

ফরাসি গণমাধ্যম ওয়েস্ট ফ্রন্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ পাড়ি দিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ের খোঁজে ফ্রান্সে এসেছেন বলে সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন।

যদিও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কারণে সাক্ষাৎকারে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমানে তার আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ওই বাংলাদেশি অভিবাসী ২০২৪ সালের ১২ জুলাই অন্য তিনজন অভিবাসীর সঙ্গে একটি ট্রাকের পেছনে লুকিয়ে ফ্রান্সে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রোস্কফ শহরে সীমান্ত পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন।

ট্রাকটি যুক্তরাজ্য থেকে আসছিলো। চালক ছিলেন রোমানিয়ার নাগরিক। তদন্তকারীদের চালক বলেছিলেন, এক পাচারকারীর চাপে পড়ে অভিবাসীদের ফ্রান্সে নিয়ে আসতে রাজি হয়েছিলেন তিনি। এজন্য তাকে আটশো ইউরো দেওয়া হয়েছিলো।

অনিয়মিত প্রবেশের দায়ে অভিযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিক আদালতে বলেছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়ার কারণে নিরাপত্তার অভাবে দেশ ছেড়েছেন।

তিনি বলেন, আমি আমার ধর্মের কারণে ঝুঁকিতে ছিলাম। আমি এখানে শান্তিতে বাঁচতে চাই। বর্তমানে ওই ব্যক্তি বৃহত্তর প্যারিসের সারসেল শহরে একটি এনজিওর সহায়তায় বসবাস করছেন। বর্তমানে তার ফ্রান্সের কাজের অনুমতি না থাকায় তিনি এখনও কোনো পেশায় যুক্ত হতে পারেননি।

ব্রেস্ট শহরের আদালত তার অনিয়মিত প্রবেশের বিষয়টি বিবেচনায় নিলেও আপাতত কঠোর শাস্তি আরোপ করেনি।

বরং মানবিক দিক বিবেচনায় রেখে শর্ত সাপেক্ষে ১৫০ ইউরো অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে আর কোনো ফৌজদারি অপরাধে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলে তাকে এই জরিমানা পরিশোধ করতে হবে না।

কিন্তু শর্ত ভঙ্গ করলে পরবর্তীতে কঠিন জরিমানার মুখোমুখি করা হতে পারে।

ইতালি, ব্রিটেন ও স্পেনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অনিয়মিত উপায়ে ফ্রান্সে প্রবেশ করে পুলিশের হাতে ধরা পড়লে সাধারণত জরিমানা আরোপ করে থাকে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রোতাইয়ো অনিয়মিতভাবে ফ্রান্সে প্রবেশ ছাড়াও বসবাসকেও অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করতে চান বলে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে উল্লেখ করেছেন।

২০১২ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সে অনিয়মিত উপায়ে বসবাস করা আইনিভাবে সাজার আওতাধীন ছিল।

পরবর্তীতে সোশ্যালিস্ট পার্টি থেকে নির্বাচিত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রঁসোয়া অলান্দ এ ব্যবস্থাটি বাতিল করে নতুন অভিবাসন আইনের অনুমোদন দিয়েছিলেন। এখনও সেই সিদ্ধান্তটি বহাল রয়েছে।

ডান এবং অতি ডানপন্থিরা অনুমোদনবিহীন বসবাসকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার কথা বলে আসছে।

ফ্রান্সের ডানপন্থি সংসদ সদস্যরা ২০২৪ সালের জানুয়ারির অভিবাসন আইনে এই ব্যবস্থাটি অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সাংবিধানিক কাউন্সিল তা বাতিল করে দিয়েছিল।

পরে ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে একটি বিল উত্থাপন করা হয়।

এই প্রস্তাব কার্যকর হলে ফ্রান্সে অনিয়মিতভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের জরিমানা এবং ফরাসি ভূখণ্ড থেকে বিতাড়নের মতো শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। তবে জরিমানা আরোপ নিয়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি পরে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।

সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস

Dummy Ad 1

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট, ২০২৫

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা 


জর্জিয়ায় প্রবাসীর লাশ উদ্ধার, সন্দেহে ‘স্ত্রীর পরকীয়া’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি, ২০২৪

জর্জিয়ায় প্রবাসীর লাশ উদ্ধার, সন্দেহে ‘স্ত্রীর পরকীয়া’

বার্তাবেলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে নিজ গাড়ির ভেতর থেকে এক প্রবাসী বাংলাদেশির লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। প্রবাসীদের ধারণা, ‘স্ত্রীর পরকীয়া’ ঠেকাতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।

তার নাম সাজ্জাদ হাসান (৪১)। ঢাকার সন্তান সাজ্জাদ পেশায় ছিলেন প্রকৌশলী।

স্থানীয় পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে আটলান্টায় সাজ্জাদের বাসার কাছে নিজের গাড়ির ভেতর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। সেসময় গাড়ির ভেতর একটি চিরকুট পাওয়া যায়, সেটিকে ‘সুইসাইড নোট’ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

দুই শিশু-সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সাজ্জাদ জর্জিয়ার টাকের শহরে বাস করতেন। ২০১৯ সাল থেকে জর্জিয়া পাওয়ার কোম্পানিতে সিনিয়র ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরি করতেন তিনি।

শুক্রবার বিকালে লরেন্সভিলে ইসলামিক সেন্টার জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নিতে আসা প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা ধারণা করছেন সাজ্জাদ ‘পারিবারিক অশান্তির কারণে আত্মহত্যা’ করেছেন।

তারা অভিযোগ করেন, "গত বছরের অগাস্টে সাজ্জাদের স্ত্রী এমা তানজিমের পরকীয়া হাতেনাতে ধরা পড়ে নিকটজনের কাছে, সে সংবাদ বেশকিছু গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নিয়ে মনঃকষ্টে ছিলেন সাজ্জাদ। চেষ্টা করেও স্ত্রীকে ফেরাতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।"

জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটর শেখ রহমান বলেন, “সাজ্জাদের কাছে থাকা চিরকুট থেকে অজানা অনেক কিছুই হয়তো জানা সম্ভব হবে।”

আরেক প্রবাসী কাজী নাহিদ বলেন, “এটাকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়া সমীচীন হবে না। যদি কারো আচরণে সাজ্জাদ অতিষ্ঠ হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়ে থাকেন- তাহলে তাকে চিহ্নিত করা দরকার কমিউনিটির স্বার্থে।”


সৌদি আরবে কর্ম ক্ষেত্রে নারীর সংখ্যা বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

সৌদি আরবে কর্ম ক্ষেত্রে নারীর সংখ্যা বেড়েছে

সৌদি আরবে নারী কর্মশক্তির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, যা ২০১৬ সালের ১৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২২ সালে মোট মানবসম্পদের ৩৬ শতাংশ হয়েছে।

সৌদি আরবে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে, ফলে উপকৃত হচ্ছে দেশটির অর্থনীতি। ইতোমধ্যে দেশটির অর্থনীতিতে সেই উদ্যোগের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের গবেষণায় দেখা গেছে, সৌদি আরবে নারী কর্মশক্তির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, যা ২০১৬ সালের ১৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২২ সালে মোট মানবসম্পদের ৩৬ শতাংশ হয়েছে। এই অগ্রগতি ভিশন-২০৩০ এর ৩০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে।

সৌদির সংবাদমাধ্যম আরব নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের ভিশন-২০৩০ উদ্যোগের লক্ষ্য নারী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা।

এছাড়াও, সৌদি আরবে নারী শিক্ষারও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০২০ সালে ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় ৩২ শতাংশ নারী কমপক্ষে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ২০১৭ সাল যা ছিল ২৬ শতাংশ।

এদিকে ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংক (এফএবি) ও ওয়েলথব্রিফিং প্রকাশিত এক গবেষণায় জানানো হয়েছে, নারীদের সম্পদ বৃদ্ধি মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের অর্থনীতিতে পরিবর্তন আনছে।

'উইনিং উইমেন ইন মেনা: হাউ ওয়েলথ ম্যানেজারস ক্যান হেল্প ফারদার ফিমেল এমপাওয়ারমেন্ট' শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ খাতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি দায়ী।

এতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ করে সৌদি আরবে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, এই অঞ্চলে প্রতি তিনটি নতুন ব্যবসার মধ্যে একটির উদ্যোক্তা নারী।

এফএবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিরা জাকুর বলেন, 'গত ২০ বছরে আমি অনেক নারীকে এই অঞ্চলের পারিবারিক ব্যবসাকে শীর্ষে নিয়ে যেতে দেখেছি। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা মূলধন বিনিয়োগের আগে অনেকের মতামত শোনেন। তারা প্রায়ই কম ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ করেন, ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরও ভালো আয়ের দিকে পরিচালিত হয়।'