রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা
রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
সৌদি আরবে নারী কর্মশক্তির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, যা ২০১৬ সালের ১৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২২ সালে মোট মানবসম্পদের ৩৬ শতাংশ হয়েছে।
সৌদি আরবে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে, ফলে উপকৃত হচ্ছে দেশটির অর্থনীতি। ইতোমধ্যে দেশটির অর্থনীতিতে সেই উদ্যোগের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের গবেষণায় দেখা গেছে, সৌদি আরবে নারী কর্মশক্তির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, যা ২০১৬ সালের ১৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২২ সালে মোট মানবসম্পদের ৩৬ শতাংশ হয়েছে। এই অগ্রগতি ভিশন-২০৩০ এর ৩০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে।
সৌদির সংবাদমাধ্যম আরব নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের ভিশন-২০৩০ উদ্যোগের লক্ষ্য নারী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা।
এছাড়াও, সৌদি আরবে নারী শিক্ষারও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০২০ সালে ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় ৩২ শতাংশ নারী কমপক্ষে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ২০১৭ সাল যা ছিল ২৬ শতাংশ।
এদিকে ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংক (এফএবি) ও ওয়েলথব্রিফিং প্রকাশিত এক গবেষণায় জানানো হয়েছে, নারীদের সম্পদ বৃদ্ধি মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের অর্থনীতিতে পরিবর্তন আনছে।
'উইনিং উইমেন ইন মেনা: হাউ ওয়েলথ ম্যানেজারস ক্যান হেল্প ফারদার ফিমেল এমপাওয়ারমেন্ট' শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ খাতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি দায়ী।
এতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ করে সৌদি আরবে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, এই অঞ্চলে প্রতি তিনটি নতুন ব্যবসার মধ্যে একটির উদ্যোক্তা নারী।
এফএবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিরা জাকুর বলেন, 'গত ২০ বছরে আমি অনেক নারীকে এই অঞ্চলের পারিবারিক ব্যবসাকে শীর্ষে নিয়ে যেতে দেখেছি। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা মূলধন বিনিয়োগের আগে অনেকের মতামত শোনেন। তারা প্রায়ই কম ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ করেন, ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরও ভালো আয়ের দিকে পরিচালিত হয়।'
সীমান্তপারের ক্রমবর্ধমান অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, মানবপাচার, অভিবাসী পাচার, জাল নথি ও পরিচয় অপব্যবহার ঠেকাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করছে মালয়েশিয়া। এ লক্ষ্যে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ ও যোগাযোগ ও মাল্টিমিডিয়া কমিশনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পুত্রজায়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী সেরি ফাহমি ফাদজিল এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেরি সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইলের উপস্থিতিতে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক বিনিময় হয়।
এ সমঝোতার মূল লক্ষ্য হলো, সীমান্তপারের অপরাধ মোকাবিলায় দেশটির আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ ও অনলাইন প্রতারণার ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় অপরাধ শনাক্ত, প্রতিরোধ ও দমনে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সমঝোতা অনুযায়ী, সীমান্তপারের অপরাধী কর্মকাণ্ড শনাক্ত ও বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি মানবপাচার, অভিবাসী পাচার, জাল নথি তৈরি ও ব্যবহার এবং পরিচয় চুরির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা জোরদার করা হবে।
মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধ ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে তথ্য ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সমন্বিত ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। নতুন সহযোগিতা কাঠামোর মাধ্যমে অপরাধ শনাক্তকরণ ও দমনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে অনলাইন প্রতারণা, পরিচয় অপব্যবহার এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে পরিচালিত অন্যান্য অপরাধ থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিও এ সহযোগিতার অন্যতম লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী ড. শামসুল আনুয়ার নাসারাহ, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব আবদুল হালিম হামজা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব আওয়াং আলিক জেমান, মালয়েশিয়ার যোগাযোগ ও মাল্টিমিডিয়া কমিশনের (এমসিএমসি) চেয়ারম্যান তান শ্রী মোহাম্মদ সালিম ফাতেহ দিন এবং দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন এ সমঝোতার ফলে ইমিগ্রেশন ও ডিজিটাল যোগাযোগ খাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার হবে। এর মাধ্যমে সীমান্তপারের অপরাধের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণা ও পরিচয় জালিয়াতির বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নজরদারি ও ব্যবস্থা গ্রহণের সক্ষমতা বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

