শেয়ার বাজার

গাবতলী-নারায়ণগঞ্জ মেট্রোরেল: ৪৬ হাজার কোটি টাকা ঋণের খোঁজে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

গাবতলী-নারায়ণগঞ্জ মেট্রোরেল: ৪৬ হাজার কোটি টাকা ঋণের খোঁজে সরকার

যানজটের শহর রাজধানী ঢাকায় ভোগান্তি ছাড়া যাতায়াতের জন্য নির্ভরযোগ্য নাম হয়ে উঠেছে মেট্রোরেল হিসেবে পরিচিত ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি)। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চলাচলকারী মেট্রোরেলের সফলতা সামনে রেখে আরও কয়েকটি এমআরটি লাইন বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। যেগুলোর মাধ্যমে মহানগরীর সঙ্গে আশপাশের এলাকার যোগাযোগ হবে আরও দ্রুত।

এমনই একটি নিরাপদ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, সময়-সাশ্রয়ী, বিদ্যুৎচালিত ও পরিবেশবান্ধব অত্যাধুনিক প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত। এমআরটি লাইন-২ হিসেবে পরিচিত এই মেট্রোরেল রুটের দৈর্ঘ্য হবে ৩০ দশমিক ৪০ কিলোমিটার। বাস্তবায়ন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থাকবে ১৫ হাজার ৩৮ কোটি টাকা। বাকি ৪৫ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা প্রকল্প ঋণ হিসেবে ধরা হয়েছে। এই ঋণের জন্য বর্তমানে উন্নয়ন সহযোগীর (ডিপি) খোঁজ করছে সরকার।

প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থাকবে ১৫ হাজার ৩৮ কোটি টাকা। বাকি ৪৫ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা প্রকল্প ঋণ হিসেবে ধরা হয়েছে। এই ঋণের জন্য বর্তমানে উন্নয়ন সহযোগীর (ডিপি) খোঁজ করছে সরকার। 

প্রকল্প প্রস্তাব এখন ফান্ড সার্চিং কমিটিতে

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গাবতলী থেকে ঢাকা উদ্যান, মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড, জিগাতলা, সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, পলাশী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, গুলিস্তান, মতিঝিল, কমলাপুর, মান্ডা, দক্ষিণগাঁও, দামড়িপাড়া, সাইনবোর্ড, ভূইঘর ও জালকুড়ি হয়ে নারায়ণগঞ্জের তারাবো পর্যন্ত এই মেট্রোরেল চলাচল করবে। এর মধ্যে ২২ দশমিক ৯০ কিলোমিটার লাইন উড়াল সড়ক বা এলিভেটেড এবং সাড়ে সাত কিলোমিটার পাতাল বা মাটির নিচ দিয়ে যাবে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ বিষয়ে প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) অনুমোদন করেছেন। এখন বৈদেশিক ঋণ পেতে উন্নয়ন সহযোগী খোঁজার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) প্রকল্পটি পাঠানো হয়েছে। সেখানে এটি নিয়ে কাজ করছে ফান্ড সার্চিং কমিটি। চলতি মাসেই প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়ে ফান্ড সার্চিং কমিটি সভা করবে বলে জানা গেছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ‘মেট্রোরেল-২ প্রকল্পের পিডিপিপি মন্ত্রী অনুমোদন করেছেন। এখন ডিপি (উন্নয়ন সহযোগী) খোঁজার জন্য পিডিপিপি ইআরডিতে পাঠানো হয়েছে।’

বিশ্বব্যাংক করবে স্বল্প অর্থায়ন

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পে ঋণ সহায়তার জন্য বিশ্বব্যাংক ও এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছে এবং প্রকল্পে অর্থায়নের ওপর একটি উপস্থাপনা দিয়েছে। বিশ্বব্যাংক স্বল্প পরিসরে অর্থায়ন করবে। সুতরাং এআইআইবিসহ আরও কিছু উন্নয়ন সহযোগী দরকার হবে। সে অনুযায়ী এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পের পিডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। সেখানে পর্যালোচনা শেষ করে কমিশনের মতামত দিয়ে ইআরডিতে পাঠানো হয়েছে মূলত উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ সংগ্রহের জন্য।

প্রকল্পে বড় আকারে বৈদেশিক ঋণ দরকার হবে। বিশ্বব্যাংক ৭০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে। বাকি ঋণের বিষয়ে ফান্ড সার্চিং কমিটিতে আলোচনা হবে। মেট্রোরেল-২ নিয়ে দ্রুত সময়ে ফান্ড সার্চিং কমিটির বৈঠক হবে।- ইআরডির যুগ্মসচিব (বিশ্বব্যাংক) মো. আশফাকুল আমিন মুকুট

ইআরডির বিশ্বব্যাংক শাখা জানায়, সরকারি অর্থায়ন বাদ দিলে প্রকল্পটির জন্য ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ঋণ প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক প্রাথমিকভাবে ৭০ মিলিয়ন ঋণ দেওয়ার নিশ্চয়তা দেবে। বাকি ঋণ কোথা থেকে মিলবে সেই বিষয়ে ছক কষছে ইআরডি।

কারিগরি সহায়তাও দেবে বিশ্বব্যাংক

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই মেট্রোরেল গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জের তারাবো পর্যন্ত চলাচল করার কথা রয়েছে। যেখানে স্টেশন হবে ২৪টি। মাঝখানের স্টেশনের মধ্যে রয়েছে– ঢাকা উদ্যান, বসিলা মোড়, মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড, জিগাতলা, সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মিটফোর্ড, নয়াবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, কাপ্তানবাজার ও ডেমরা। এছাড়া গুলিস্তান থেকে নয়াবাজার হয়ে সদরঘাট পর্যন্ত এর একটি শাখা লাইন নিয়ে যাওয়ারও প্রস্তাব রয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট প্রোফর্মার (টিএপিপি) আওতায় সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, প্রাথমিক ও বিশদ নকশা প্রণয়ন এবং দরপত্র প্রস্তুত করতে সহায়তা করবে বিশ্বব্যাংক।

কর্মকর্তারা যা বলছেন

প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মেট্রোরেল পরিচালনাকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কোম্পানি সচিব মো. আব্দুল বাতেন ফকির কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে ইআরডির যুগ্মসচিব (বিশ্বব্যাংক) মো. আশফাকুল আমিন মুকুট জাগো নিউজকে বলেন, ‘মেট্রোরেল-২ প্রকল্পটি আমাদের কাছে এসেছে। প্রকল্পে বড় আকারে বৈদেশিক ঋণ দরকার হবে। বিশ্বব্যাংক ৭০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে। বাকি ঋণের বিষয়ে ফান্ড সার্চিং কমিটিতে আলোচনা হবে। মেট্রোরেল-২ নিয়ে দ্রুত সময়ে ফান্ড সার্চিং কমিটির বৈঠক হবে।’

Dummy Ad 1

আমরাও একদিন চাঁদে যাবো: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২৪

আমরাও একদিন চাঁদে যাবো: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ একদিন চাঁদে যাবে, এমন প্রত্যাশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন প্রজন্মকে সেভাবে জ্ঞান-বিজ্ঞানে দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, ‘একসময় আমাদের চাঁদেও যেতে হবে, চাঁদও জয় করতে হবে। সেই বিজ্ঞানসম্পন্ন জ্ঞানটা যেন আমাদের শিশুরা এখন থেকে পায়, সেজন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৩’ এবং ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৪’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মহাকাশ গবেষণা এবং এ বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ সৃষ্টির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছি, অ্যারোস্পেস এবং অ্যাভিয়েশন ইউনিভার্সিটিও করেছি। অ্যারোনটিক্যাল সেন্টারও করে দিয়েছি। গবেষণা এবং সেই সঙ্গে আমাদের শিশুদের এখন থেকে সেভাবে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।’

শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারের আন্তরিকতা ও উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবসময় আমরা একটা সুষম, জনকল্যাণমুখী, সর্বজনীন, মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা করতে চাই। আর শুধু ওই কেতাবই পড়ে না, ছোট ছোট শিশুদের ভেতরে যে মেধা-মনন সেগুলোও তো আমাদের বের করে আনতে হবে। তাদের সুযোগ দিতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের ভেতরে যে একটা কিছু করার ক্ষমতা আছে, সেটা যাতে বিকশিত হয় সেই সুযোগটা সৃষ্টি করা দরকার। আর সেদিকে লক্ষ রেখেই কিন্তু শিক্ষা কারিকুলাম-আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানের মধ্যে নিয়ে এসে স্কুলে কম্পিউটার করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিটি স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব করা। প্রথমে এটা মাধ্যমিক থেকে শুরু করেছিলাম, এখন আমাদের লক্ষ্য প্রাইমারি থেকেই শুরু করে দেবো।’

দুই বছরের জন্য প্রি-প্রাইমারি চালুর কথা জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘প্রি-প্রাইমারি আমরা চালু করেছি। প্রি-প্রাইমারি এক বছরের জন্য, এখন আমরা সেটা দুই বছরের জন্য করতে চাচ্ছি। শুধু পড়াশোনা না, আসবে-যাবে, একসঙ্গে বসবে, বন্ধুদের নিয়ে খেলাধুলা করবে, ওই খেলাধুলার মধ্য থেকেই তাদের ভেতরে যে সুপ্ত মেধাটা আছে, সেই মেধাটা কীভাবে বিকশিত করা যায়, সেই ধরনের ব্যবস্থা আমাদের নিতে হবে। তাহলেই কিন্তু এই ছেলে-মেয়ে, এরাই তো ভবিষ্যৎ আমাদের। সেভাবে আমরা তাদের তৈরি করে দেবো।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকের যুগ হচ্ছে প্রযুক্তির, কাজেই কম্পিউটার শেখা, আমরা যেমন ল্যাব করে দিচ্ছি, ইনকিউবেশন সেন্টারও করে দিচ্ছি। সেভাবে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জনগোষ্ঠী আমরা গড়ে তুলতে চাই। সেদিকে লক্ষ রেখেই আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তাহলে আমাদের স্মার্ট সিটিজেন হবে। স্মার্ট সরকার, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সমাজ। অর্থাৎ প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনশক্তি। এই ছোটবেলা থেকে, শিশুকাল থেকে ধীরে ধীরে তারা গড়ে উঠবে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে। দেশের উন্নয়নে তাদের চিন্তা-ভাবনা, তারা আরও নতুন নতুন উদ্ভাবনী শক্তি দিয়েই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সেটাই আমি চাই।’

আজকের শিশুরা আগামী দিনের কর্ণধার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের শিশু আগামী দিনের নাগরিক। যারা একদিন এ দেশের কর্ণধার হবে। এই শিশুদের মধ্য থেকেই একদিন কেউ প্রধানমন্ত্রী হবে, মন্ত্রী হবে, বড় বড় সরকারি চাকরি করবে, বৈজ্ঞানিক হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকের শিশুরাই আগামী দিনে স্মার্ট বাংলাদেশের পরিচালক হিসেবে পরিচালনার দায়িত্ব নেবে, সেটাই আমাদের আশা। ২০৪১ সালের মধ্যে হবে স্মার্ট বাংলাদেশ এবং আর ২১০০ সালে ডেল্টা প্ল্যানও করে দিয়েছি। যেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম তারা সুন্দর জীবন পায়, সেটাই আমার লক্ষ্য।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমাদের ছেলে-মেয়েরা শিক্ষাদীক্ষায়, সংস্কৃতি চর্চায়, খেলাধুলা, সবদিকে যেন উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। সেটাই আমরা করতে চাই। তার জন্য যা যা প্রয়োজন সব কিছু আমরা করবো।’

এ বছর ১৮ ক্যাটাগরিতে মোট ১২৬ শিক্ষার্থী, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৩’ প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৫৪ শিক্ষার্থী, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুমানা আলী ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব ফরিদ আহমেদ।


জবি ছাত্রীর আত্মহত্যা;
অভিযুক্তদের গ্রেফতারে ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ মার্চ, ২০২৪

অভিযুক্তদের গ্রেফতারে ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইরুজ অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে এ ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (১৬ মার্চ) বিকেল সাড়ে তিনটায় বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর ভিক্টোরিয়া পার্ক ও কবি নজরুল সরকারি কলেজ ঘুরে মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এসে শেষ হয়।

এরপর সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে দাঁড়িয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবি ঘোষণা করেন। এসব দাবি বাস্তবায়নে ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন তারা।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইভান তাহসিভ বলেন, ফাইরুজ অবন্তিকা অসাধারণ শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নানান বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা থেকে জবি শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরাকে মুক্তির জন্য যে আন্দোলন হয়েছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে, সেখানে অবন্তিকাও নেতৃত্ব দেন। এজন্য তাকে নানান ধরনের হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়েছে। এরপরও তিনি পিছপা হননি। কিন্তু তারই এমন করুণ পরিণতি আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। বিষয়টির সঙ্গে যারা জড়িত সবার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

অপর এক শিক্ষার্থী বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সব ভাই-বোনদের জন্য নিরাপদ করে তুলবো আমরা। আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমাদের বোনের এমন পরিণতির জন্য যারা দায়ী তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতেই হবে।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো- ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে, অভিযুক্ত শিক্ষক দ্বীন ইসলাম ও শিক্ষার্থী আম্মান সিদ্দিকিকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও সুষ্ঠু বিচারের আওতায় আনা, দ্রুত সিন্ডিকেট ডেকে অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিষ্কার, ভুক্তভোগীর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাদী হয়ে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী নিপিড়ন সেল কার্যকর করতে হবে।

এর আগে শনিবার সকালে অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক দ্বীন ইসলামকে সহকারী প্রক্টর ও শিক্ষকতা থেকে সাময়িক বরখাস্ত এবং অভিযুক্ত রায়হান সিদ্দিকি আম্মানকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

জানা গেছে, ফাইরুজ অবন্তিকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। শুক্রবার (১৫ মার্চ) রাত ১০টার দিকে প্রথমে ফেসবুকে পোস্ট দেন ফাইরুজ। এরপর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, তিনি মারা গেছেন।



শহীদ দিবসে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

শহীদ দিবসে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

বার্তাবেলা ডেস্ক: ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে চট্টগ্রামের  রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বজন কুমার তালুকদার। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান মেহেবুব। 

বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারজান হোসাইন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেব প্রসাদ চক্রবর্তী, রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হিন্দুল বারী, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি জিগারুল ইসলাম জিগার, সাবেক সভাপতি আকাশ আহমেদ, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাসুদ নাসির, অর্থ ও দপ্তর সম্পাদক জগলুল হুদা, আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা শামিমা আক্তার, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন শর্মা প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন। পরে উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।