শেয়ার বাজার

ট্রাম্পের হুমকি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে সব অবকাঠামো ধ্বংস হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

ট্রাম্পের হুমকি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে সব অবকাঠামো ধ্বংস হবে

ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের হুমকি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবশিষ্ট সব গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ইরানের খতম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি এমন হুশিয়ারি দিয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সংবাদ প্রকাশ করেছে মেহের নিউজ এজেন্সি।

জোলফাঘারি বলেন, ‘অপরাধী আমেরিকা’ অঞ্চলজুড়ে আইনভঙ্গ ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির নীতি অব্যাহত রেখেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো অবস্থাতেই যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বহিরাগত শক্তি হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে হস্তক্ষেপ করতে দেবে না ইরান। তার ভাষায়, হরমুজ প্রণালি ইরানের একটি অলঙ্ঘনীয় লাল রেখা।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফাঁপা ও ভিত্তিহীন’ প্রেসিডেন্ট যদি ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হুমকি বাস্তবায়ন করেন তাহলে ইরানের সংযমের কারণে এখন পর্যন্ত যা কিছু অবশিষ্ট রয়েছে (মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সব অবকাঠামো) ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর ইস্পাতসম আঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে। এমনভাবে ধ্বংস হবে যে, সেগুলোর অস্তিত্ব ছিল বলেও মনে হবে না।

জোলফাঘারি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বোকা শত্রুর জানা উচিত, আমাদের জন্য সংকটের মুহূর্ত এড়িয়ে যাওয়ার সময় নয় বরং ইতিহাস গড়ার সময়। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জবাব সমান মাত্রার হবে না তা হবে আরও শক্তিশালী, আরও ব্যাপক এবং আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও বিধ্বংসী।

প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।

এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প।

সর্বশেষ, ইরানের ১৪ দফা শর্তের ভিত্তিতে গট ১৮ জুন একটি সমঝোতায় পৌঁছায় দুই পক্ষ। অ্যাক্সিওস এর সংবাদের তথ্য মতে, ১৪ দফার ভিত্তিতে দুই পক্ষ ৬০ দিনের জন্য আলোচনায় সম্মত হয়েছে এবং ইরানের ওপর হামলা তথা যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে।

ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।

Dummy Ad 1

মমতা-অভিষেককে বাদ দিয়ে বিদ্রোহীদের নতুন কর্ম সমিতি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ জুন, ২০২৬

মমতা-অভিষেককে বাদ দিয়ে বিদ্রোহীদের নতুন কর্ম সমিতি গঠন

চলতি বছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পরেই শুরু হয়েছিল ভাঙ্গন। তৃণমূলের মধ্যেই তৈরি হয় আরেকটি তৃণমূল। উলুবেড়িয়া পূর্ব আসনের তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যা পরিচিত ‌‘নতুন তৃণমূল ব্লক’ নামে।

এরই মধ্যে বিধানসভায় বিরোধী দলের দলনেতা নির্বাচিত হয়েছেন বিদ্রোহী তৃণমূল নেতা ঋতব্রত। তার দাবি অনুযায়ী, এই ব্লকে রয়েছেন ৬৫ জন বিধায়ক, রয়েছেন প্রায় অর্ধশতাধিকের বেশি সাবেক ও বর্তমান কাউন্সিলরও।

গত সোমবার (২২জুন) রাতের নিউটাউনে একটি অভিজাত হোটেলে নতুন তৃণমূলের বিধায়ক, কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে নিজেদের অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস কমিটি এবং জাতীয় কর্ম সমিতি গঠন করা হয়।

তবে এই বৈঠকে মমতা ব্যানার্জী কিংবা অভিষেক ব্যানার্জী কাউকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমনকি এদিনের বৈঠকে যে ‘ব্যাকড্রপ’ করা হয়েছিল তাতে তৃণমূলের প্রতীক ঘাসফুল চিহ্ন এবং অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস শব্দগুলি লেখা থাকলেও তাতে মমতা ব্যানার্জী বা অভিষেকের কোনো ছবিও ছিল না। এর পরিবর্তে সেখানে স্থান পেয়েছিল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী এবং সংবিধান রচয়িতা বি আর আম্বেদকরের ছবি।

দলের পক্ষ থেকে যে জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করা হয়েছে, সেখানেও স্থান হয়নি মমতা ব্যানার্জী কিংবা তার ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জীর।

পরে সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সব আইন ও সংবিধান মেনে এই স্পেশাল সেশন সম্পন্ন হয়েছে। সেখানেই সর্বসম্মতিক্রমে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস কমিটি এবং জাতীয় কর্ম সমিতি গঠন করা হয়েছে। জাতীয় কর্মীর সমিতিতে মোট ৩০ জন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সর্বসম্মতিতে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপারসন নিযুক্ত করা হয়েছে অরূপ রায়কে।

নতুন কমিটির সহ-সভাপতি হয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, রথীন ঘোষ, অরূপ বিশ্বাস এবং সাবিনা ইয়াসমিন। দলের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে জাভেদ আহমেদ খান, সন্দীপন সাহা, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, বিপ্লব মিত্রকে। কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন আখরুজ্জামান। সাংগঠনিক যে প্রক্রিয়া পাহাড় থেকে সাগর পর্যন্ত রাজ্য কমিটির গঠন করা, জেলা সভাপতি, রাজ্য সভাপতি, জেলা কমিটি গঠন শাখা সংগঠন এবং মুখপাত্রদের প্যানেল ঘোষণা করা হবে।

অভিষেক ব্যানার্জীকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যাকে নিয়ে কোন আলোচনাই হয়নি তাকে বহিষ্কারের প্রসঙ্গ উঠছে কিভাবে! তিনি বলেন, চার্টার্ড অভিষেককে নিয়ে এই দিনের বৈঠকে কোনো চর্চাই হয়নি।

মমতা ব্যানার্জীর প্রসঙ্গ উঠতেই এদিনও আরও একবার ঋতব্রত ব্যানার্জি জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো কার্যকরী সমিতি ছিল না। সেজন্যই সবাই মিলে নতুন করে কমিটি গঠন করেছে। আমরা চাই মমতা ব্যানার্জী আমাদের পরামর্শ দাতা হিসাবে থাকুন।

কমিটির চেয়ারপার্সন অরূপ রায় জানান, পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে যে পরিস্থিতি চলছে তা মোকাবিলা করে আমাদের নতুন করে কর্মীদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে হবে, নতুন করে কর্মীদের একত্রিত করতে হবে। সর্বসম্মতভাবে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের অল ইন্ডিয়া কমিটি এবং ওয়ার্কিং কমিটি তৈরি হয়েছে। ওই কমিটি দিয়ে সকলে মিলে আমরা একসঙ্গে সব কর্মীকে সাথে নিয়ে কাজ করবো। তিনি আরও বলেন, ১৯৯৮ সাল থেকে যেভাবে মানুষের স্বার্থে আমরা লড়াই করেছি, সেভাবে লড়াই করে যাব। কারণ সামনে অনেক কঠিন লড়াই। কর্মীরা যেন তাদের সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে চলতে পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। এটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।

এ বিষয়ে মমতা ব্যানার্জীর ঘনিষ্ঠ বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস আর মমতা ব্যানার্জী সমার্থক শব্দ। আমাদের দলের যা গঠনতন্ত্র বা কাঠামো, তাতে এগুলো করার এখতিয়ার ওদের (বিদ্রোহী গোষ্ঠীর) নেই।


সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার জরিমানা আদালতের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি, ২০২৪

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার জরিমানা আদালতের

লেখক ই জেন ক্যারলের করা মানহানি মামলায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জরিমানা করেছেন আদালত। শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) নিউইয়র্কের একটি জুরি ক্যারলকে ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে ট্রাম্পকে নির্দেশ দেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তে ক্যারল খুশি হলেও ট্রাম্প চটেছেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই খবর জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার এই মামলায় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার কথা থাকলেও বিচারকের সঙ্গে ট্রাম্পের বাকবিতণ্ডা এবং ট্রাম্পকে তার সাক্ষ্যদানের সময় কী বিষয়ে কথা বলতে দেওয়া হবে তা ঠিক করতেই অনেক সময় ব্যয় করেন বিচারক ও আইনজীবীরা। পরে এই মামলার শুনানি একদিন পিছিয়ে শুক্রবার নির্ধারণ করা হয়। ওইদিনের শুনানিতে ট্রাম্পকে জরিমানা করেন

শুক্রবার বিকেলে এ রায়ে পৌঁছাতে সাতজন পুরুষ ও দুইজন নারীর একটি জুরি তিন ঘণ্টারও কম সময় নেন।


২০১৯ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫০ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়। তখন ট্রাম্প নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ক্যারলকে মিথ্যাবাদী বলেন। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে মানহানি হয়েছে দাবি করে সাবেক এই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন ক্যারল।  মানহানির ওই মামলায় আবারও জরিমানা গুণতে হচ্ছে ট্রাম্পকে।

শুক্রবারের রায়ের পরে এক বিবৃতিতে ক্যারল বলেছেন, ‘এটি প্রতিটি নারীর জন্য একটি বিজয় যারা ছিটকে পড়ার পরও ওঠে দাঁড়ায় এবং  প্রতিটি নিপীড়কের জন্য একটি বিশাল পরাজয় যারা একজন নারীকে ছোট করার চেষ্টা করেছে।’

আরও পড়ুন: গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা বন্ধের নির্দেশ আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের

এদিকে, সর্বশেষ এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। মামলাটিকে একটি ‘উইচ হান্ট’ এবং রায়টিকে ‘নিতান্তই হাস্যকর!’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।


একাধিক মামলা এবং চারটি ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন ট্রাম্প। এতদসত্ত্বেও চলতি সপ্তাহের শুরুতে নিউ হ্যাম্পশায়ারে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি, আইওয়া ককাসেও জিতেছেন।



পোল্যান্ডের সর্বোচ্চ সম্মাননা ফেরত দিলেন জেলেনস্কি, দুই দেশে উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৬

পোল্যান্ডের সর্বোচ্চ সম্মাননা ফেরত দিলেন জেলেনস্কি, দুই দেশে উত্তেজনা

পোল্যান্ডের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘অর্ডার অব দ্য হোয়াইট ঈগল’ ফেরত দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। পোল্যান্ডের বর্তমান প্রেসিডেন্ট পোলিশ ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে জেলেনস্কির এই খেতাব কেড়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর জেলেনস্কি নিজেই তা ডাকযোগে ফেরত পাঠান।

শনিবার (২০ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জেলেনস্কি এই সম্মাননা ফেরত দেওয়ার কথা জানান। পোস্টে তিনি সম্মাননার পদক এবং সেটি পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে ডাকযোগে পাঠানোর রসিদের ছবিও জুড়ে দেন।

জেলেনস্কি তার পোস্টে লিখেছেন, ইউক্রেনীয়রা বিশ্বাস করত এই সম্মাননা পুরো ইউক্রেনের জনগণ ও আমাদের সেনাবাহিনীর জন্য ছিল। আজ আমি এটি পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের কাছে ফেরত পাঠিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, ইউক্রেনীয়রা যে সম্মানের যোগ্য, ভবিষ্যৎ তা প্রমাণ করবে।

একই সঙ্গে, রাশিয়ার চার বছরের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পোল্যান্ডের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইউক্রেন ঐতিহাসিক মতপার্থক্য দূর করতে সব সময় প্রস্তুত।

এর আগে পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাওরোকি এক ভিডিওবার্তায় জেলেনস্কিকে দেওয়া এই সর্বোচ্চ সম্মাননা বাতিল করার ঘোষণা দেন।

গত ২৬ মে ইউক্রেনের স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের একটি ইউনিটের নাম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন বিতর্কিত ইউক্রেনীয় বিদ্রোহী সেনাবাহিনী বা ‘ইউপিএ’ (UPA)-এর নামে করার ডিক্রি জারি করেন জেলেনস্কি। এই ইউপিএ-এর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হাজার হাজার পোলিশ নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। ২০১৬ সালে পোল্যান্ডের পার্লামেন্ট একে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। পোলিশ সমাজ এই ক্ষত এখনো ভুলে যায়নি উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট নাওরোকি জেলেনস্কির ওই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন।

২০২৩ সালে ইউক্রেনের নিরাপত্তা, মানবাধিকার রক্ষা ও বীরোচিত প্রতিরোধের স্বীকৃতি হিসেবে তৎকালীন পোলিশ প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ দুদা জেলেনস্কিকে এই সম্মাননা দিয়েছিলেন।

জেলেনস্কির সম্মাননা কেড়ে নেওয়ার এই ঘটনাকে পোল্যান্ডের পক্ষ থেকে এক ধরনের বৈরি আচরণ এবং মস্কোর জন্য বড় উপহার হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের প্রধান কিরিলো বুদানভ। এই ঘটনার প্রতিবাদে বুদানভসহ ইউক্রেনের আরও চারজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তাদের পাওয়া পোলিশ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

তবে ইউক্রেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আরসেনি ইয়াতসেনিউক এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের একটি ভুল সিদ্ধান্তকে আমাদের আরেকটি ভুল সিদ্ধান্ত দিয়ে সংশোধন করা যায় না।

এদিকে এই ঐতিহাসিক বিতর্ককে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক। প্রেসিডেন্ট নাওরোকির রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী টাস্ক এক বার্তায় বলেন, এই আবেগ ও উত্তেজনা স্তিমিত করা প্রয়োজন। পোল্যান্ড ও ইউক্রেনের এই দ্বিমত পুতিনকে আনন্দিত করছে এবং আমাদের মিত্রদের স্তব্ধ করছে।

আগামী সপ্তাহে পোল্যান্ডে ইউক্রেনের যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন নিয়ে একটি বড় সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে জেলেনস্কিরও অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে এই নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন সেই সম্মেলনে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।