শেয়ার বাজার

ইরানে বেপরোয়া হামলা
যুক্তরাষ্ট্র কি এবার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করতে চায়?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র কি এবার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করতে চায়?

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সরাসরি সংঘাত চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এক পক্ষ হামলা করছে, অন্য পক্ষ পাল্টা আঘাত হানছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ‘ভেঙে গেছে’ ঘোষণা করার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। এরপর থেকে টানা সাতদিন ধরে ইরানের ওপর হামলা চালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে।

এই যুদ্ধ এখন আর কেবল ইরানেই সীমাবদ্ধ নেই। এতে আশপাশের বহু দেশ প্রভাবিত হয়েছে, যেমন- সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব, ওমান, কাতার, লেবানন, ফিলিস্তিন ইত্যাদি।

রক্তক্ষয়ী এমন সংঘাতের বিস্তার দেখে অনেকেই এখন প্রশ্ন তুলছেন—যুক্তরাষ্ট্র কি এবার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করতে চায়?

আঞ্চলিক যুদ্ধ মহাযুদ্ধের পথে

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতাসহ শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুর পর এই যুদ্ধ শুরু হয়। জুনে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও তা বেশিদিন টেকেনি। বর্তমানে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের অভ্যন্তরে অনবরত বোমাবর্ষণ করে যাচ্ছে।

অন্যদিকে ইরানও বাহরাইন, কাতার, কুয়েত এবং জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে।

এর মধ্যেই ইসরায়েল গাজা ও লেবাননে তাদের বর্বরোচিত সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ফলে ক্ষুব্ধ ইরান তার আঞ্চলিক প্রক্সি যেমন- লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথিদের পুরো মাত্রায় সক্রিয় করার প্রস্ততি নিচ্ছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি আর কেবল দুই দেশের সংঘাত নয়। এটি এখন এক বহুমাত্রিক আঞ্চলিক মহাযুদ্ধে রূপ নিয়েছে।

পরাশক্তিগুলোর চাল ও বিশ্বযুদ্ধের সমীকরণ

একাধিক দেশ এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ায় বৈশ্বিক যুদ্ধের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে একে এখনই সরাসরি ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ বলা যাবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক আছে। বিশ্বযুদ্ধ হতে হলে রাশিয়া এবং চীনের মতো পরাশক্তিগুলোকে ইরানের পক্ষে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে নামতে হবে।

রাশিয়া ও চীন ইরানকে ড্রোনের যন্ত্রাংশ, কূটনৈতিক সমর্থন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা দিচ্ছে। কিন্তু তারা নিজেরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো পারমাণবিক বা সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়াতে চাইছে না। তাদের কৌশল হলো পরোক্ষভাবে মার্কিন শক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যস্ত রাখা।

পরাশক্তিগুলোর এই সাবধানি অবস্থানের কারণে সংঘাতটি এখনই বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিচ্ছে না। তবে একটি ভুল পদক্ষেপ বা পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত পুরো হিসাব বদলে দিতে পারে।

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের জড়ানোর ঝুঁকি

এই যুদ্ধের আরেকটি বিপজ্জনক মোড় হলো সৌদি আরব ও পাকিস্তানের জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা।

সম্প্রতি ইয়েমেনে সৌদি আরবের বিমান হামলায় ইরানের সঙ্গে টানাপড়েন আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এখন ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা যদি তেহরানের ইশারায় সৌদি আরবের তেলক্ষেত্র বা বেসামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালায়, তবে রিয়াদ যুদ্ধে নামতে বাধ্য হবে।

আবার, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের গভীর সামরিক চুক্তি রয়েছে। ইসলামাবাদ এরই মধ্যে জানিয়েছে, সৌদির পবিত্র ভূমি রক্ষায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

কিন্তু পাকিস্তানের নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাদের সীমান্তে ইরান অবস্থিত এবং দেশের ভেতরে বড় শিয়া জনসংখ্যা রয়েছে। ফলে পাকিস্তান হয়তো সরাসরি ইরানের মূল ভূখণ্ডে আক্রমণ করবে না। তারা বড়জোর সৌদি আরবের আকাশসীমা রক্ষা এবং প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সহায়তা দেবে। কিন্তু তাতেও যুদ্ধের পরিধি অনেকটা বেড়ে যাবে।

বেসামরিক স্থাপনায় হামলার ঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্র এর আগে প্রধানত ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করলেও এখন বেসামরিক স্থাপনাতেও হামলা চালাচ্ছে। তাদের হামলায় ইরানের বিমানবন্দর, রেল স্টেশন এবং সেতুর মতো বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এখন ইরান যদি মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্রদের (যেমন বাহরাইন, কাতার, কুয়েত বা জর্ডান) বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়, তবে ওই দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে চলে আসবে।

আবার, বেসামরিক স্থাপনায় ক্রমাগত হামলায় ইরান যদি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়, তবে তাদের কৌশলগত মিত্র চীন-রাশিয়া হয়তো আর নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারবে না। নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থেই তারা ইরানকে আরও অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অ্যান্টি-শিপ মিসাইল এবং গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সাহায্য বাড়াবে।

মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানি হামলায় রাশিয়ার প্রযুক্তির ব্যবহার প্রকাশ্য হলে, তা যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সরাসরি সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে মহা বিপর্যয়ের শঙ্কা

বিশ্বযুদ্ধ সরাসরি না হলেও বিশ্ববাসী এরই মধ্যে এর অর্থনৈতিক প্রভাব টের পাচ্ছে। ইরান হুংকার দিয়েছে, এ অঞ্চলে মার্কিন হামলা না থামলে পারস্য উপসাগর দিয়ে এক ফোঁটা তেল-গ্যাসও রপ্তানি হতে দেবে না। দেশটি এরই মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’র নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, যেখান দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়।

বিশ্বের বড় বড় উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে তাদের ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করেছে। কাতার এনার্জি এবং কুয়েত পেট্রোলিয়াম তাদের তেল-গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা প্রতিটি দেশে তীব্র মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক ধস নামাতে পারে।

ভুল হিসাবের চরম মাশুল

বিশ্লেষকদের মতে, কেউ হয়তো ইচ্ছা করে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করবে না। কিন্তু চলমান হামলা-পাল্টা হামলার মাঝে যে কোনো একটি ‘ভুল হিসাব’ (Miscalculation) পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ক্ষেপণাস্ত্র যদি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানে, কিংবা ইরানের কোনো ড্রোন যদি মার্কিন কোনো বড় রণতরী ডুবিয়ে দেয়, তবে আর ফিরে আসার পথ থাকবে না।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ইতিহাসের ইমেরিটাস অধ্যাপক মার্গারেট ম্যাকমিলান বিবিসির ‘গ্লোবাল স্টোরি’ পডকাস্টে বলেন, মানুষ সাধারণত মনে করে যুদ্ধ খুব পরিকল্পনা করে শুরু করা হয়, আর যারা যুদ্ধে যায় তারা জানে তারা কী করতে যাচ্ছে। কিন্তু অতীতের যুদ্ধগুলো দেখলে বোঝা যায়… প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ক্ষেত্রেও… শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ শুরু হওয়ার পেছনে কারণ হিসেবে অনেকটাই ছিল দুর্ঘটনা আর প্রতিপক্ষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি।

ম্যাকমিলান বলেন, ১৯১৪ সালে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির সম্রাট ফ্রানৎস যোসেফের ভাতিজা আর্চডিউক ফ্রানৎস ফার্দিনান্দকে হত্যার ঘটনাই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা করে।

এরপর খুব দ্রুত জোটবদ্ধ দেশগুলো একে অপরের পক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। অস্ট্রিয়া ও হাঙ্গেরি একসঙ্গে সার্বিয়ার বিরুদ্ধে অভিযান চালায়, জার্মানি অস্ট্রিয়াকে সমর্থন দেয়, আর রাশিয়া সার্বিয়ার পক্ষে সেনা মোতায়েন করে, ফ্রান্স রাশিয়াকে সমর্থন করে, আর ব্রিটেন সম্মান ও কৌশলগত কারণে যুদ্ধে যোগ দেয়।

এরপর যা ঘটে, তা এক ভয়াবহ বৈশ্বিক বিপর্যয়ে পরিণত হয়।

ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত কেবল ওই অঞ্চলের নয়, বরং পুরো বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য এক মহাবিপদ সংকেত। বিশ্ববাসী এখন গভীর উদ্বেগে তাকিয়ে আছে এই যুদ্ধের শেষ কোথায়, তা দেখার জন্য।

Dummy Ad 1

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে ২৭ কিলোমিটার জমি দিলো বিজেপি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে ২৭ কিলোমিটার জমি দিলো বিজেপি

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পরেই বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ৪৫ দিনের মধ্যে ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফকে) জমি হস্তান্তর করা হবে। এরই মধ্যে জমি হস্তান্তরের অনুমোদন দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি শাসিত সরকার।

বুধবার (২০ মে) পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সচিবালয় নবান্নে বিএসএফের কর্মকর্তাদের নিয়ে এক বিশেষ বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব।দুসপ্তাহে মধ্যে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন পশ্চিমবঙ্গের সচিবালয় নবান্ন সভাঘর থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে বিএসএফকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের একটা অংশে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য জমি তুলে দেওয়া হলো। ২৭ কিলোমিটার জমি কাঁটাতার দেওয়ার জন্য বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আমাদের যে দীর্ঘদিনের পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশ বর্ডার এবং রাজ্যের জন্য সুরক্ষার প্রশ্নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মুখমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারীর বলেন, ভারতবর্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত চার হাজার কিলোমিটার। পশ্চিমবঙ্গে ২২০০ কিলোমিটার। চারটি রাজ্যে ওখানকার রাজ্য সরকার বিএসএফের চাহিদা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ জমি হস্তান্তর করেছে। আমাদের রাজ্যে ১৬০০ কিলোমিটার কাঁটাতার দেওয়া রয়েছে। মিনিমাম ৬০০ কিলোমিটার কাঁটাতারের জন্য আমাদের সীমান্তের যে কাঁটাতার সম্পূর্ণ করতে পারিনি। এর মধ্যে ৫৫৫ কিলোমিটার এমন এলাকা রয়েছে যেখানে রাজ্য সরকার চাইলে বিএসএফকে জমি দিতে পারতো।

মুখমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারীর বলেন, ভারতবর্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত চার হাজার কিলোমিটার। পশ্চিমবঙ্গে ২২০০ কিলোমিটার। চারটি রাজ্যে ওখানকার রাজ্য সরকার বিএসএফের চাহিদা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ জমি হস্তান্তর করেছে। আমাদের রাজ্যে ১৬০০ কিলোমিটার কাঁটাতার দেওয়া রয়েছে। মিনিমাম ৬০০ কিলোমিটার কাঁটাতারের জন্য আমাদের সীমান্তের যে কাঁটাতার সম্পূর্ণ করতে পারিনি। এর মধ্যে ৫৫৫ কিলোমিটার এমন এলাকা রয়েছে যেখানে রাজ্য সরকার চাইলে বিএসএফকে জমি দিতে পারতো।


ইরানকে চাপে ফেলতে ট্রাম্পের নতুন ছক, নিশানায় চীনও

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট, ২০২৬

ইরানকে চাপে ফেলতে ট্রাম্পের নতুন ছক, নিশানায় চীনও

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, আগামী সপ্তাহেই তেহরানের বিরুদ্ধে এমন কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের অভিযোগে ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিক থেকেই দেশটির ওপর বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়িয়েছে। সামুদ্রিক পরিবহন, জ্বালানি ও আর্থিক খাতের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধও শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক হাজারের বেশি ব্যক্তি, জাহাজ ও উড়োজাহাজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য ছিল ইরানের তেল পরিবহনে ব্যবহৃত গোপন নৌবহর, জাহাজের বিমা প্রতিষ্ঠান, অস্ত্র সংগ্রহে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন ডিজিটাল মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ বা আটকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে আরও কয়েকটি পথ খোলা রয়েছে।

চীনের ছোট তেল শোধনাগারে নিষেধাজ্ঞা

এর মধ্যে অন্যতম হলো চীনের ছোট বেসরকারি তেল শোধনাগারগুলোতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া। এসব প্রতিষ্ঠান ‘টিপট’ নামে পরিচিত।

চীনের মোট তেল শোধন ক্ষমতার প্রায় এক-চতুর্থাংশ এসব ছোট শোধনাগারের হাতে। ইরানের রপ্তানি করা তেলের ৮০ শতাংশের বেশি চীন কিনে থাকে। এসব তেলের বড় অংশ যায় স্বাধীন শোধনাগারগুলোতে।

যুক্তরাষ্ট্র আগে বড় চীনা শোধনাগারগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরানের তেল কেনা নিরুৎসাহিত করেছে। তবে ছোট শোধনাগারগুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টি কঠিন। কারণ মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ তুলনামূলক কম।

চীনা ব্যাংকের ওপর চাপ

ইরানের তেল বিক্রির অর্থ লেনদেনে সহায়তা করা চীন ও হংকংভিত্তিক ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এরই মধ্যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এবার বড় চীনা ব্যাংকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবতে পারে ওয়াশিংটন। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এরই মধ্যে দুটি বড় চীনা ব্যাংককে সতর্ক করেছে। ইরানের অর্থ তাদের মাধ্যমে লেনদেন হলে এসব ব্যাংকও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে।

তবে এমন পদক্ষেপ নিলে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেইজিং পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে।

বিশেষ করে চীন গুরুত্বপূর্ণ খনিজের রপ্তানি কমিয়ে দিলে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো চাপের মুখে পড়তে পারে।

একের পর এক প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞা

আরেকটি সম্ভাব্য পথ হলো ইরানের অর্থ উপার্জনে সহায়তা করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে একের পর এক নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা।

ইরানের তেল বিক্রির অর্থ ব্যবহার করে পণ্য আমদানিতে সহায়তা করা কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও সম্প্রতি ব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে এই কৌশলকে বিশেষজ্ঞরা ‘হোয়াক-এ-মোল’ পদ্ধতির সঙ্গে তুলনা করেছেন। অর্থাৎ একটি প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলে ইরান নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি করে একই কাজ চালিয়ে যেতে পারে।

বিমান চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা

ইরানের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে আরও বিমান চলাচল নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর ইরান যাতে আকাশপথে বাণিজ্য চালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য বিমান পরিবহন খাতেও চাপ বাড়াতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

স্থল অবরোধের সম্ভাবনা

আরও কঠোর একটি বিকল্প হলো ইরানের স্থলপথ অবরোধ করা। তবে এটি বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন।

ইরানের সীমান্ত রয়েছে ইরাক, তুরস্ক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার সঙ্গে। স্থল অবরোধ কার্যকর করতে এসব দেশের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে ইরানে খাদ্য, জ্বালানি ও পোশাকের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ কমে যেতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়বে। তবে এর ফলে ইরানের জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

বাণিজ্যকারী দেশগুলোর ওপর বাড়তি শুল্ক

ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প।

তবে এ ধরনের শুল্ক আরোপের আইনি ভিত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বড় প্রশ্ন রয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এমন শুল্কের আইনি ভিত্তি বাতিল করেছে।

এ ছাড়া রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সিনেটে পাস হওয়া একটি বিলেও ইরানসংক্রান্ত নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব রয়েছে। বিলটি পাস হলে ইরানের বাণিজ্য ও অস্ত্র সংগ্রহে সহায়তা করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে শুল্ক ব্যবহারের ক্ষমতা ট্রাম্প পেতে পারেন।

তবে বিলটি এখনো প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়নি। সেখানে ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কিছু রিপাবলিকান সদস্যও এসব শুল্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সব মিলিয়ে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে একাধিক বিকল্প রয়েছে। তবে চীনা ব্যাংক বা তেল শোধনাগারে নিষেধাজ্ঞা কিংবা স্থল অবরোধের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীন ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্কেও নতুন উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। ফলে ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ শুধু ইরানের অর্থনীতিই নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


জ্বালানি সংকট
জনগণকে দেশে থাকতে বলে নিজে বিদেশ সফরে গেলেন মোদী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২৬

জনগণকে দেশে থাকতে বলে নিজে বিদেশ সফরে গেলেন মোদী

জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক সাশ্রয়ের দোহাই দিয়ে দেশের সাধারণ মানুষকে বিদেশ সফর পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জনগণকে মিতব্যয়িতার পরামর্শ দেওয়ার কয়েকদিনের মাথায় তিনি নিজেই দীর্ঘ সফরে ইউরোপের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই দ্বিচারিতা নিয়ে এরই মধ্যে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

ফ্রান্স ও স্লোভাকিয়া সফরসূচি

জানা গেছে, নরেন্দ্র মোদীর ফ্রান্স ও স্লোভাকিয়া সফর চলবে ১৩ জুন থেকে ১৮ জুন ২০২৬ পর্যন্ত। মোট ছয়দিনের এই সরকারি সফরের প্রথম ধাপে ১৩-১৪ জুন তিনি ফ্রান্সের নিস (Nice) শহরে অবস্থান করবেন এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন। সেখানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার করার লক্ষ্যে আলোচনা হতে পারে।

এরপর ১৪-১৬ জুন তিনি স্লোভাকিয়া সফরে যাবেন। ১৯৯৩ সালে স্লোভাকিয়ার স্বাধীনতার পর এটিই কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর। এসময় স্লোভাকিয়ায় সেন্ট্রাল ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন জোত গঠনের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

পরবর্তীতে, ১৬-১৭ জুন সফরের তৃতীয় ধাপে মোদী আবারও ফ্রান্সে ফিরে ইভিয়ান শহরে অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ (G7) সম্মেলনে অংশ নেবেন। ১৮ জুন সফরের শেষ দিনে তিনি প্যারিসে ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি মেলা ‘ভিভাটেক’ (VivaTech)-এ যোগ দেবেন এবং ওইদিনই সফর শেষ করবেন।

জনগণকে বিদেশ পরিহারের অনুরোধ ও সমালোচনা

অথচ এই সফরের ঠিক আগেই এক রাষ্ট্রীয় ভাষণে নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি আমদানি করা জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে সাধারণ জনগণকে এক বছর বিদেশ ভ্রমণ না করার অনুরোধ জানান।

প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরপরই তার এই বিলাসবহুল বিদেশ সফরকে ‘দ্বিমুখী নীতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে দেশটির বিরোধী দলগুলো। বিরোধীদের দাবি, সাধারণ মানুষের ওপর কৃচ্ছ্রতা সাধনের নিয়ম চাপিয়ে দিয়ে সরকার নিজে করদাতাদের কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিদেশ সফর করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাধারণ নাগরিকেরা এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।