বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় অবশেষে মামলা করেছেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। হত্যা মামলায় তার বন্ধু স্থানীয় ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দীপকে আদালতে পাঠানো হবে বলে জানান নৌ-পুলিশ ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান।
তিনি বলেন, রাতে তাহসিফের বাবা মামলা করেছেন, এরপরেই আমরা দীপকে গ্রেফতার দেখিয়েছি। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দ্বীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।
ঘটনার পর থেকে মামলা করতে নিজের অনীহার কথা জানালেও তিন দিন পর শুক্রবার রাতে উত্তরখান থানায় ছেলেকে হত্যার অভিযোগ দেন তিনি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মামলা হয়েছে বলে জানান পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. রেজাউল করিম।
তিনি বলেন, তাহসিফকে হত্যার অভিযোগ এনে তার বাবা একটি মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে।
মামলাটি তাহসিফের লাশ উদ্ধারকারী ইউনিট নৌ-পুলিশ তদন্ত করবে বলে জানা গেছে।
এদিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া তাহসিফের বন্ধু স্থানীয় ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মধ্যরাতে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ি। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে উত্তরখান থানার ডিউটি অফিসার শাহীনুর জামান জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
নৌপুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
নৌপুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।









