শেয়ার বাজার

ফেনীর প্রবীণ সাংবাদিক ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

ফেনীর প্রবীণ সাংবাদিক ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল আর নেই

ফেনীর প্রবীণ সাংবাদিক, এনটিভি ও দৈনিক জনকণ্ঠের সাবেক জেলা প্রতিনিধি ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল আর নেই। মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোরে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আজ বাদ জোহর ফেনীর ঐতিহাসিক মিজান ময়দানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।

ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে ফেনীর জনপদে সাংবাদিকতা করেছেন। তার মৃত্যুতে জেলার সাংবাদিক, রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক জানিয়েছেন।

Dummy Ad 1

সালিশে গিয়ে মারধরে প্রাণ গেলো জাপা নেতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬ জুলাই, ২০২৬

সালিশে গিয়ে মারধরে প্রাণ গেলো জাপা নেতার

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সালিশ বৈঠকে মারধরের শিকার হয়ে আব্দুর রাজ্জাক মিয়া (৪৫) নামে জাতীয় পার্টির (জাপা) এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দুই নারীসহ পাঁচজনকে আটক করেছে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। এর আগে রোববার বিকেলে উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চাচিয়া মীরগঞ্জ গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিষয়ের একটি সালিশি বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে।

আব্দুর রাজ্জাক ওই গ্রামের মৃত খাইরুজ্জামানের ছেলে এবং তিনি তারাপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

আটকরা হলেন, ওই গ্রামের গোলজার হোসেন (৬৫), তার ছেলে লিটন মিয়া (২৮) ও রিপন মিয়া (১৯), মেয়ে রত্না আক্তার (৩০) ও তার স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চাচিয়া মীরগঞ্জ গ্রামের মৃত আছর উদ্দিনের প্রথম স্ত্রীর ঘরে কোনো সন্তান না হওয়ায় তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে গোলেনুর বেগমকে নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। গোলেনুর বেগম তার পূর্বের স্বামীর ঘরের ছেলে গোলজার রহমানকে নিয়ে আসেন। পারিবারিক সিদ্ধান্তে আছর উদ্দিন জীবদ্দশায় গোলজার রহমানকে ২২ শতক জমি প্রদান করেন। পরে গোলেনুর বেগম ও আছর উদ্দিনের সংসারে ছেলে আমজাদ হোসেনের জন্ম হয়।

পরে ওই ২২ শতক জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আমজাদ হোসেন ও গোলজার রহমানের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি। রোববার বিকেলে একই বিষয় নিয়ে বৈঠক বসে। বৈঠকে গোলজার রহমান ও আমজাদের সঙ্গে তর্ক হয়। পরে তর্কের বিষয়টি নিয়ে সেখানে উপস্থিত থাকা জাপা নেতার সঙ্গে গোলজারের দুই ছেলের তর্ক শুরু হয়। এর এক পর্যায়ে গোলজারের দুই ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা রাজ্জাককে মারধর করতে থাকেন। এতে গুরুতর আহত হন আব্দুর রাজ্জাক।

পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তাৎক্ষণিক তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফারের সিদ্ধান্ত নেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। কিন্তু এসময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়দের খবরে অভিযুক্ত পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ।

সালিশ বৈঠকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লেবু, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবুল আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

জাপা নেতা আবদুর রাজ্জাকের মা রোসনা বেগম বলেন, মিটিংএ চেয়ারম্যান ও বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু মারার সময় কেউ তাদেরকে বাধা দেয় নাই। আমি তাদের শাস্তি চাই, বিচার চাই।

তারাপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি শফিকুল ইসলাম মাষ্টার নিহত আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার দলীয় পরিচয় নিশ্চিত করে বলেন, ওই ওয়ার্ডের (২নং) জাপার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক।

ঘটনা তদন্তের দায়িত্বে থাকা সুন্দরগঞ্জ থানার এসআই তাইয়ুব বলেন, এক মায়ের দুই স্বামীর সংসারের দুই ছেলের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বসা মিটিংয়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। আজ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, সালিশ বৈঠকে মারধরে আবদুর রাজ্জাকের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো এজাহর দেয়নি। পেলেই মামলা রেকর্ড করা হবে।


প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় স্কুল শিক্ষক, গণপিটুনি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১ জুলাই, ২০২৬

প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় স্কুল শিক্ষক, গণপিটুনি

কুমিল্লার দেবিদ্বারে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে এক শিক্ষকে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসময় উত্তেজিত জনতা ওই শিক্ষককে গণপিটুনি দিয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে উপজেলার গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামে বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মো. মুক্তল হোসেন (৫০)। তিনি মাশিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং বনকোট গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে।

ইউপি সদস‍্য মো. জাকির হোসেন মোল্লা, শিউলি আক্তারসহ স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ঊজানীজোড়া গ্রামের খন্দকার বাড়ির এক প্রবাসীর স্ত্রী (৩০) তার এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে পাশের গ্রামের মোল্লা বাড়ির জলিল মোল্লার ঘরে ভাড়ায় থাকেন। তিনি উজানীজোড়া আদর্শ কিন্ডার গার্ডেন স্কুলে শিক্ষকতা করতেন।

স্থানীয়দের দাবি, এরই মধ‍্যে উপজেলার মাশিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তল হোসেন ওই নারীর ঘরে প্রায়ই রাতে আসা-যাওয়া করতেন। স্থানীয়রা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে পাহারা বসান।

মঙ্গলবার রাতে তিনি ঘরে প্রবেশ করলে ওই বাড়ির নারীরা এসে খোঁজ নেন। প্রবাসীর স্ত্রী ঘরের গেট বন্ধ করে ঘরে কেউ নেই বলে জানান। পরে গ্রামবাসী ঘরটি ঘিরে রাখলে শিক্ষক মুক্তল পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের হাতে আটক হন।

এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। এরপর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক মুক্তল হোসেনকে সেখানে পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, রাতে ওই নারীর প্রবাসী স্বামী পরিচয়ে এক ব‍্যক্তি আমাকে ফোন করে শিক্ষক মুক্তলকে পারিবারিক একটি বিষয়ে তার স্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন। বাসায় আসার পর কিছু ছেলে সিনক্রিয়েট করে এ জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। প্রকৃত ঘটনা জানতে পুলিশ তদন্ত করছে।


ঢাকার ৮০ শতাংশ রেস্তোরাঁ যেন বোমা তৈরির কারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৫ মার্চ, ২০২৪

ঢাকার ৮০ শতাংশ রেস্তোরাঁ যেন বোমা তৈরির কারখানা

ঢাকার ৮০ শতাংশ রেস্তোরাঁ যেন বোমা তৈরির কারখানা। নগরীর ৫ হাজার রেস্তোরাঁর মধ্যে অগ্নিনিরাপত্তা সনদ আছে হাজারখানেকের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিটি বহুতল ভবনে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ রেস্তোরাঁ থাকার কথা থাকলেও মানছে না কেউ। 

ধানমন্ডির গাউসিয়া টুইনপিক ভবনটি পরোটাই ঠাসা রেস্তোরাঁ দিয়ে। ওঠা-নামার একমাত্র পথ লিফট। ভেতরে দুটি সিড়ি থাকলেও একটি বন্ধ গোডাউনে, অন্যটি দখলে সিলিন্ডারে। বারান্দা থাকলেও তা কাচে ঢাকা। এ যেন পুরোই বোমার কারখানা।

টুইনপিক ভবনের নকশা করেন স্থপতি মুস্তাফা খালিদ পলাশ। বেইলি রোড ট্রাজেডির পর পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্ট দিয়ে ভবনটি এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান এই স্থপতি। নিজের সৃষ্টির এমন অবস্থা দেখে বিষ্মিত তিনি। দাবি করেন, অফিসের জন্য করা ভবন রেস্তোরাঁ বানিয়ে সব কিছুই পাল্টে ফেলেছেন ভবন মালিক ও ব্যবস্যায়ীরা।

মুস্তাফা খালিদ পলাশ বলেন, এটি ডিজাইন করেছিলাম বাণিজ্যিক ভবন হিসেবে। আমি কোনোভাবেই সেটি কেমিক্যাল গুদাম হিসেবে ডিজাইন করেনি।

একই অবস্থা ধানমন্ডিসহ রাজধানীর বেশিরভাগ ভবনের। রাজধানীতে প্রকৃত অর্থে কেমন ভবন নির্মাণ হওয়া উচিত? এ প্রশ্নে এই স্থপনি জানান, সর্বোচ্চ ১০ ভাগ রেস্তোরাঁ থাকতে পারবে একটি সুউচ্চ বানিজ্যিক ভবনে।

তিনি বলেন, ভবনে রেস্টুরেন্ট দেয়ার ক্ষেতে একটি মাত্রা নিদির্ষ্ট করে দেয়া উচিত। ১০০ পার্স্টেন্ট কোনোভাবেই নয়। এই কালাচার আমি কোথাও দেখিনি। সাম্প্রতিক বাংলাদেশে শুরু হয়েছে। 

তাহলে এগুলো দেখবে কারা? সরকারের কয়েকটি সংস্থা এর তদারকির দায়িত্বে থাকলেও শুধু খাবারে ভেজালবিরোধি অভিযানেই সারা। ফায়ার সার্ভিসের সাবেক ডিজি ব্রি.জে. আবু নাঈম মো. শহীদুল্লাহ বলছেন, সরকারি সংস্থার উদাশীনতা ও আইন না মানার প্রবনতা বাড়াচ্ছে সংকট।

রাজধানীর ৫ হাজারের বেশি রেস্তোরাঁ থাকলেও ফায়ার সার্টিফিকেট আছে হাজার খানিকের। অন্যান্য সংস্থার অনুমোদনের ধারধারে না কেউ।