মেসির দুর্দান্ত ফ্রি-কিক গোলের পরও মিয়ামির হতাশাজনক ড্র
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যে দুটি কার্ড ফুটবল মাঠে সাধারণত শাস্তির প্রতীক, মেসির বিদায়ের রাতে সেই লাল ও হলুদ কার্ডই হয়ে উঠলো ভালোবাসা আর স্মৃতির বিশেষ উপহার। শেষ বাঁশি বাজার পর চিলির রেফারি ফার্নান্দো ভেখার নিজের ব্যবহৃত দুই কার্ডই তুলে দিলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির হাতে।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচ। মনুমেন্টালে বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়, একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্টে আরও একবার নিজের শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রেখে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন ৩৯ বছর বয়সী মহাতারকা। কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ঘটে গেল এমন এক দৃশ্য, যা কোনো ম্যাচের পরিসংখ্যানের খাতায় লেখা থাকবে না, থেকে যাবে স্মৃতি হয়ে।
শেষ বাঁশি বাজার পর মেসিকে ঘিরে তখন সতীর্থ, প্রতিপক্ষ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড়। ঠিক সেই সময় আর্জেন্টিনার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটির দায়িত্বে থাকা চিলিয়ান রেফারি ফার্নান্দো ভেখার এগিয়ে যান মেসির কাছে। হাতে ছিল ম্যাচে ব্যবহৃত তার হলুদ ও লাল কার্ড।
কার্ড দুটি মেসির হাতে তুলে দেন ভেখার শাস্তি হিসেবে নয়, বরং মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচের স্মারক হিসেবে। ঘটনাটি ক্যামেরায় ধরা পড়তেই মুহূর্তটি ছড়িয়ে পড়ে।
ইতালির লা গেজেটা ডেলো স্পোর্ট-ও জানিয়েছে, ম্যাচ শেষে রেফারি মেসিকে হলুদ ও লাল কার্ড দুটি স্মারক হিসেবে দেন। অর্থাৎ মাঠে মেসিকে কোনো কার্ড দেখানো হয়নি; বরং ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই এগুলো উপহার হিসেবে তার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এই উপহারের সঙ্গে আরও একটি স্মরণীয় জিনিস যোগ হয়, ম্যাচের বলও মেসির হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর বেনিনের খেলোয়াড়েরা একে একে তার কাছে এসে শুভেচ্ছা জানান। ২১ বছরের আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষের কাছ থেকেও এমন সম্মানই যেন মেসির ক্যারিয়ারের সারাংশ হয়ে উঠেছিল।
মেসির বিদায়ী অনুষ্ঠানে পরে গায়িকা সোলেদাদ পাস্তোরুত্তিকে সেই কার্ড হাতে দেখা যায়। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিএন জানিয়েছে, রেফারির দেওয়া কার্ড দুটি পরে মেসি সোলেদাদের হাতে তুলে দেন। তিনি সেদিন মেসির সম্মানে গানও পরিবেশন করেন।
সব মিলিয়ে একটি অদ্ভুত সুন্দর প্রতীক তৈরি হয়েছে। ফুটবলে লাল কার্ড মানে বিদায়, হলুদ কার্ড মানে সতর্কতা; কিন্তু মেসির ক্ষেত্রে শেষ রাতে এই দুই কার্ডের অর্থ হয়ে গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এগুলো আর শাস্তির প্রতীক নয়; বরং হয়ে গেল তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচের স্মৃতি।
বেনিনের বিপক্ষে সেই ম্যাচে মেসি করেন একটি গোল এবং দুটি অ্যাসিস্ট। ২০৮তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১২৬, সঙ্গে ৭০টি অ্যাসিস্ট।
আর তাই মনুমেন্টালে শেষ বাঁশির পর মেসির হাতে উঠে আসা সেই লাল-হলুদ কার্ড যেন বলে গেল অন্য এক গল্প। যে কার্ড দিয়ে ফুটবলারকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়, মেসির ক্ষেত্রে সেই কার্ডই শেষ পর্যন্ত হয়ে রইল ভালোবাসায় মোড়া বিদায়ের স্মার
ঘূর্ণিঝড় মিগজাউমের প্রভাবে প্রায় ৪৯ ঘণ্টার বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে ঢাকা টেস্টের দেড় দিন। আজ ৯৮ ওভার খেলার কথা থাকলেও তৃতীয় দিনে মাঠে গড়িয়েছে মাত্র ৩২.৩ ওভার।
শুক্রবার দুপুর ১২ টায় খেলা শুরুর সময় বলে দেওয়া হলো, খেলা হবে বেলা বিকেল ৫ টা পর্যন্ত। কিন্তু তা আর হয়নি। বেলা পৌনে তিনটায় আলোর স্বল্পতায় সেই যে খেলা বন্ধ হলো, আর শুরু করা গেলো না। মানে আজকের নির্ধারিত সময়ের প্রায় আড়াই ঘণ্টা খেলা হয়নি।
দেড় দিনের বেশি সময় বৃষ্টি আর আলোর স্বল্পতায় ধুয়েমুছে গেছে। বাকি আছে দুদিন। আকাশের মত উইকেটের অবস্থাও বিশেষ ভালো না। এ উইকেটে আসলে কত রানের লিড হতে পারে নিরাপদ? কিউইদের কত রানের চ্যালেঞ্জ দিলে ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা থাকবে বাংলাদেশের?
আজ দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামতেই বাংলাদেশ ভক্ত ও সমর্থক সবার মনে ঘুরে ফিরে এ প্রশ্নই উঁকি দিচ্ছে। শুক্রবার দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনেও উঠলো এ প্রশ্ন।
প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৭ রান করা গ্লেন ফিলিপস আর বাংলাদেশের অফস্পিনার নাঈম হাসান দুজনের কাছেই রাখা হয়েছিল এ প্রশ্ন।
গ্লেন ফিলিপস মনে করেন, ১৮০ থেকে ২০০ রানের টার্গেট তাড়া করাই হবে কঠিন চ্যালেঞ্জ। এ কিউই অলরাউন্ডারের কথা, ‘সামনের দুদিন যদি উইকেটের চরিত্র পাল্টে না যায়, এমনই থাকে; তাহলে ২০০ রান করাও বেশ কঠিন।’
বাংলাদেশের অফস্পিনার নাঈম হাসানের আশা, তারা ২০০ থেকে ২২০ রানে লিড নিতে পারবেন। নাইমের কথা, ‘আমরা এখন ৩০ রানে এগিয়ে আছি। আশা করি এ লিডটা দুশো পেরিয়ে যাবে। যদি দুশো রানের বেশি লিড নেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে জিতবো ইনশাআল্লাহ।’
নিউজিল্যান্ড ৫৫ রানে ৫ উইকেট নিয়ে খেলতে নেমে আজ বাকি ৫ উইকেটে আরও ১২৫ রান যোগ করেছে। বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন গ্লেন ফিলিপস। বাংলাদেশের তিন স্পিনার তাইজুল, নাঈম ও মিরাজকে হাত খুলে খেলে চাপের মুখেও রান করেছেন ফিলিপস। ৭২ বল খেলে ৯ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কা হাঁকিয়ে ৮৭ রান করেন এ ২৬ বছর বয়সী কিউই অলরাউন্ডার।
এখন দেখার বিষয়, ৩৮ রানে ২ উইকেট নিয়ে কাল শনিবার চতুর্থ দিন শুরু করে বাংলাদেশ কোথায় গিয়ে থামে। বুক ভরা সাহস ও আস্থায় ফিলিপসের ভূমিকায় অবতীর্ন হন কে?
ক্রিকেটাররা এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টি আসর খেলার জন্য। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৪ অক্টোবর ৮ বিভাগীয় দলকে নিয়ে শুরু হবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের এই আসর।
তারপরই জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচি। প্রথমে দুবাইতে আফগানিস্তানের সাথে এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ এবং একই মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ও তিন ম্যাচের ওয়ানডে এবং ২ ম্যাচের টি-২০ সিরিচ। এর মাঝখানেও ভেতরে ভেতরে আরও একটি কার্যক্রম ক্রিকেটারদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। কী সেটা? নিশ্চয়ই ভাবছেন কী সেই ক্রিকেটীয় কার্যক্রম, যা ক্রিকেটারদের অবচেতন মনে তাড়া করে বেড়াচ্ছে? সেটা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের দলবদল।
বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জাতীয় লিগ, বিসিএলের দীর্ঘ পরিসরের পাশাপাশি একদিনের ফরম্যাটেও ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়িয়েছেন। তাতে করে জাতীয় দলের বাইরে মাঝারিমানের একজন ক্রিকেটারেরও বছরে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা আয়ের পথ খুলেছে; কিন্তু তারপরও বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা প্রিমিয়ার লিগের দিকে তাকিয়ে। কারণ ১০০ থেকে ১৫০ ক্রিকেটারের বছরের রুটি-রুজিই এই ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ। অনেকেই এই আসরে পাওয়া পারিশ্রমিক দিয়ে সারা বছর চলেন।
আগের বছরগুলোয় মার্চ-এপ্রিল কিংবা কখনো কখনো মে মাসে লিগ মাঠে গড়ালেও অক্টোবরের মধ্যে দল গড়ার কাজ শুরু হয়ে যেত। ক্রিকেটারদের অন্তত ৫০% না হয় এক-তৃতীয়াংশ অগ্রিম পেমেন্ট দিয়ে চুক্তি করে রাখত ক্লাবগুলো। সেখানে এবার লিগ শুরুর কথা ফেব্রুয়ারিতে। মানে লিগ ২ মাস এগিয়ে আসছে। সে আলোকে এখন ভেতরে ভেতরে নতুন বছরে দল গড়ার সেরা সময়; কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
এখন পর্যন্ত প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের দলবদল নিয়ে সে অর্থে কোনো সাড়া-শব্দ নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি কারণে এখন পর্যন্ত দলবদল নিয়ে ক্লাবগুলোর আগ্রহ কম। প্রথমত, ক্লাবগুলো এখনো সন্দিহান ফেব্রুয়ারিতে লিগ মাঠে গড়াবে কিনা? যদিও ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের আয়োজক, ব্যবস্থাপক সংগঠন সিসিডিএম নিশ্চিত করেছে এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দিয়েছে ২০২৭ সালের প্রিমিয়ার লিগ হবে ফেব্রুয়ারিতে। ক্লাবগুলোর সন্দেহ, শেষ পর্যন্ত ওই সময়ে না ঘুরে ফিরে মার্চ-এপ্রিলেই লিগ শুরু হবে। তাই ক্লাবগুলো একটু ধীরে চলো নীতি অবলম্বন করছে। সেটাও এখন পর্যন্ত দলবদল কার্যক্রম শুরু না হওয়ার একটা কারণ।
পাশাপাশি আরও দুটি কারণে দলবদলে ক্লাবগুলোর তোড়জোড় তুলনামূলক কম। প্রথমত, বেশ কয়েকটি ক্লাবের এবার বাজেট বেশ কম। সেখানে উল্টো ক্রিকেটারদের ডিমান্ড এবার বেশি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ৫/৬ জন ক্রিকেটার প্রায় এক কোটি টাকা পারিশ্রমিক দাবি করছেন। এর বাইরে অন্তত ডজন খানেক ক্রিকেটার ৬০ থেকে ৭৫ লাখ টাকা দর হাঁকাচ্ছেন। তার মানে ২/৩ জন নামী ও সুপ্রতিষ্ঠিত তারকাকে দলে নিতে হলে দেড় কোটি টাকা গুনতে হবে। এই বিশাল অংক দেওয়ার মতো ক্লাব নেই বললেই চলে।
গত লিগে মোহামেডান, আবাহনী, প্রাইম ব্যাংক, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ মোটামুটি বড় অংকের অর্থ খরচ করে বিগ বাজেটের দল গঠন করেছিল। এর মধ্যে নতুন ও পুরোনো মিলে মোহামেডানেই ছিলেন ১২-১৪ জন জাতীয় ক্রিকেটার। মুশফিকুর রহিম, তাওহীদ হৃদয়, এনামুল হক বিজয়, নাইম শেখ, পারভেজ হোসেন ইমন, আফিফ হোসেন ধ্রুব, রিশাদ হোসেন, ইয়াসির আলী রাব্বি, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, এবাদত হোসেন, সাইফউদ্দীন আর তাইজুলের মতো প্রতিষ্ঠিত তারকা ছিলেন মোহামেডানে। তাদের পাশাপাশি উঠতি পেসার মুশফিক হাসান ও রিপন মন্ডলও খেলেছেন সাদা-কালো জার্সি গায়ে।
এতগুলো জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেটারকে দলে টানা, খেলানো সহজ কর্ম নয়। এজন্য মোহামেডানকে গুনতে হয়েছে বিপুল অর্থ। জানা গেছে, এখনো গত লিগের পুরো পেমেন্ট করতে পারেনি মোহামেডান। চলতি মাসে তিন তিনবার সময় দিয়েও সমুদয় পাওনা শোধ করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
এবার শেষ পর্যন্ত মোহামেডানের লাইনআপ কেমন হবে? এখনই তা বলা কঠিন। পাওনা না পেলে দল ছাড়তে পারেন বেশ কজন ক্রিকেটার। একেতো আগেরবারের বিরাট পাওনা, তার ওপর এবার ক্রিকেটারদের বিশাল অংক ডিমান্ড, দুয়ে মিলে মোহামেডান কর্তারা আছেন বিপাকে। ১৭ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর আগেরবার এক ঝাঁক নামী ও দামি ক্রিকেটার দলে ভিড়িয়ে লিগ ট্রফি ঘরে তুললেও এবার মোহামেডান আগের মতো অত সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী দল গড়তে পারবে কিনা, সন্দেহ আছে।
রানার্সআপ আবাহনীরও তেমন সাড়া-শব্দ নেই। মোহামেডানের মতো আবাহনীরও একাধিক ক্রিকেটার প্রায় ১ কোটি টাকা পারিশ্রমিক দাবি করেছেন। তাদের পাওনা মেটানো দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে আবাহনী অফিসিয়ালসদের।
প্রাইম ব্যাংক আর সিটি ক্লাব তুলনামূলক বিগ বাজেটের দল গড়ার প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানা গেছে। এ দল দুটির বাজেট মোটামুটি ভালো। কিন্তু লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ, ব্রাদার্স ইউনিয়নের মতো মাঝারি শক্তির দলগুলোর অবস্থা তেমন ভালো না। চূড়ান্ত সাফল্যের দেখা না পেলেও গত এক যুগের বেশি সময় ধরে প্রায় প্রতিবারই বেশ ভালো দল গঠন করেছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। সাবেক সরকারের আমলে মামলায় পড়ে একটা বড় সময় দেশের বাইরে থেকেও বিগ বাজেটের দল গড়েছেন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের স্বত্বাধিকারী লুৎফর রহমান বাদল। কিন্তু এবার তিনি উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

