শেয়ার বাজার

আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াতের তৃণমূলে অসন্তোষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াতের তৃণমূলে অসন্তোষ

জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা দলগুলোর ‘১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য’ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। ইসলামী আন্দোলন ছাড়া ১০ দলের আসন সমঝোতাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে এক ধরনের ক্ষোভ ও অসন্তোষ রয়েছে। জোটের একাধিক আসনে জামায়াতের নিজস্ব প্রার্থীর অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্ত হলেও সমঝোতার স্বার্থে প্রার্থী প্রত্যাহার নিয়ে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে মনোমালিন্য নজরে আসছে।

জামায়াতে ইসলামীর দাবি, বৃহত্তর ঐক্য ধরে রাখতে এবং এক ভোট বাক্স নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তারা এসব আসনে ছাড় দিয়েছে। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, জোট টিকিয়ে রাখতে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে জামায়াত।

তবে দলের সেই সিদ্ধান্ত সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

১০ দলীয় জোট সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী ২১৫টি, এনসিপি ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৩টি, খেলাফত মজলিস ১৩টি, এলডিপি সাতটি, এবি পার্টি চারটি নেজামে ইসলাম পার্টি তিনটি, বিডিপি দুটি ও খেলাফত আন্দোলন এক আসনে নির্বাচন করবে।

তবে এর মধ্যে জামায়াতের ছেড়ে দেওয়া বেশ কিছু আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

জামায়াত ও শিবিরের সমর্থকরা প্রকাশ্যেই প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। বিশেষ করে গত ১৫ জানুয়ারি ১০ দলের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াত ও ছাত্রশিবির সমর্থকদের মধ্যে নানা মন্তব্য ও সমালোচনা চলছে।

মৌলভীবাজার-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মান্নানকে গ্রামের বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন এলাকাবাসী ও কর্মী-সমর্থকরা। তিনি যেন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে না পারেন এজন্য মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজনগর উপজেলার দত্তগ্রামে নিজ বাড়িতে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মান্নানের ছেলে ডা. তানভীর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় এলাকাবাসী ও কর্মীদের নিয়ে কাজ করছেন। এজন্য তিনি যাতে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে না পারেন এজন্য সকাল থেকে বাড়িতে সাধারণ মানুষ এসে বাবাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। তবে এখানে জামায়াতের কোনো নেতা নেই। সবাই আমাদের এলাকাবাসী ও আমার বাবার কর্মী।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ দেড়ব ছর ধরে নির্বাচন সামনে রেখে মাঠেঘাটে ঘুরেছেন। এসময় সাধারণ মানুষ ব্যাপক সমর্থন করেন। বাবা যাতে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে না পারেন এজন্য বাড়িতে সবাই অবরোধ করছেন।

অসন্তোষ দেখা গেছে, লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনেও। ওই আসনের জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা বলছেন, জামায়াত প্রার্থী নাজমুল হোসেন পাটোয়ারী মাঠপর্যায়ে ভালো অবস্থানে রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সমঝোতার মাধ্যমে এনসিপি প্রার্থী মাহবুব আলমকে দেওয়া হচ্ছে, তাকে এলাকায় অনেকেই চেনেন না।

লক্ষ্মীপুর-১ আসনে রামগঞ্জ উপজেলার ১ নং কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের আমির সারাফাত হোসেন শাহিদ জাগো নিউজকে বলেন, এ আসনে এনসিপির ওই প্রার্থীকে কেউ চেনে না। আমরা এক বছর থেকে এই আসনটিতে ঘাম ঝরিয়েছি। এখন ১০ দলীয় জোট যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমরা মনে করি এটা বিবেচনা করা দরকার। সেজন্য এই আসনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বসছে, আমিরে জামায়াতও এটা নিয়ে বসছেন।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, এসব অসন্তোষ সাময়িক। তারা আশা করছেন, নির্বাচনের সময় দলীয় শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং নেতাকর্মীরা বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।

মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের এক সদস্য বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, আমাদের প্রার্থীরা মাঠ পর্যায়ে সর্বোচ্চ পরিশ্রম করেছে। জোট চূড়ান্ত হওয়ার আগে থেকে তাদের মেসেজ দেওয়া হয়েছে দেশের স্বার্থে আসন সমঝোতা করা হতে পারে, সেজন্য যে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহার নির্দেশনা মানতে হবে।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী শৃঙ্খল সংগঠন। কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছে, কিছুটা অভিমান থাকবে। আশা করছি কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা হবে না।

এই বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, আমরা চেয়েছি জুলাই অভ্যুথানের শক্তিদের সবাইকে একসঙ্গে রাখতে। এটা করতে গিয়ে এমন জায়গায় ত্যাগ শিকার করতে হয়েছে যেটা তারা মেনে নিতে পারছে না। আমাদের নেতাকর্মীরা নিজেদের টাকা খরচ করছে, শ্রম দিয়েছে- তাই তাদের কষ্ট পাওয়া স্বাভাবিক। আবার তার মানে এই না যে, তারা দলের সিদ্ধান্ত মানবে না। আশা করি, বৃহত্তর স্বার্থে দলের নেতাকর্মীরা সিদ্ধান্ত মেনে চলবে।

Dummy Ad 1

হাসনাতের আসনে বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুলের মনোনয়ন বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬

হাসনাতের আসনে বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুলের মনোনয়ন বাতিল

কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ইসির আপিল শুনানিতে এ সিদ্ধান্ত হয়। এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। ইসি তার আবেদন নামঞ্জুর করে। ফলে হাসনাতের মনোনয়ন বৈধই থাকছে। তবে ঋণখেলাপির অভিযোগে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন

গত ৯ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে হাসনাতের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে আবেদন করেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। তার আগে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে আবেদন করেছিলেন হাসনাত।

এর আগে ঋণ খেলাপির অভিযোগ এনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোয়নপত্র কেন বাতিল করা হবে না, এজন্য ইসিতে আপিল করেছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।



জাতীয় পার্টি নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার আশঙ্কা আছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ ডিসেম্বর, ২০২৩

জাতীয় পার্টি নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার আশঙ্কা আছে

বার্তাবেলা: আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি অংশগ্রহণ নাও করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের দপ্তর বিষয়ক উপ-কমিটির এই মতবিনিময় সভা হয়।

জাতীয় পার্টি নির্বাচন থেকে সরে যাবে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আশঙ্কা আছে, আমাদের দলের অনেকেরই আশঙ্কা আছে; দেশের জনগণের মধ্যেও এটা নিয়ে একটা শঙ্কা আছে। কিন্তু এটা চূড়ান্ত কথা হিসেবে এই মুহূর্তে আমরা বিবেচনায় আনতে পারছি না।’

তিনি বলেন, ‘ডেমোক্রেসিতে অনেক কিছু সম্ভব। গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বয়কট করা, ওয়াকআউট করা- এসব বিষয় গণতান্ত্রিক নির্বাচনের সব জায়গাতেই আছে। কী হবে এটা তো এই মুহূর্তে বলতে পারছি না, হলেও হতে পারে। কিন্তু এ ব্যাপারে এই মুহূর্তে আমি কী করে বলবো তারা সরে যাবে। এই মুহূর্তে বলতে পারছি না।’


মতপার্থক্য থাকলেও যেন মতবিভেদ না হয়: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি, ২০২৬

মতপার্থক্য থাকলেও যেন মতবিভেদ না হয়: তারেক রহমান

মতপার্থক্য থাকলেও যেন মতবিভেদ না হয়—সে জন্য আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের তাগিদ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় ৫ আগস্টের আগে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। যে কোনো মূল্যে দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় রাখতে হবে।

জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়ে নিজের ও বিএনপির পরিকল্পনার কিছু অংশ তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান। দেশকে এগিয়ে নিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে মতবিরোধের বাজে দৃষ্টান্ত দেখেছে দেশ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশ গণতন্ত্রের দিকে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে না পারলে সব অর্জন ধ্বংস হয়ে যাবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি বিজয়ী হলে নারী, কৃষক, প্রবাসী, তরুণসহ সব নাগরিকের জীবনমান উন্নয়নে নানান পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। দেশ পুনর্গঠনে গণমাধ্যমকর্মীরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপির নেতার মধ্যে ছিলেন—মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান, স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম), আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন, যুগ্ম মহাসচিব ড. হুমায়ূন কবির, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন, বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দীন অসীম এবং চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।

গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও বিএনপির উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য কবি আব্দুল হাই শিকদার, আমাদের সময় পত্রিকার সাবেক নির্বাহী সম্পাদক এহসান মাহমুদ, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এডিটর ইনাম আহমেদ, দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মাহাবুবুল আলম, রয়টার্সের সিনিয়র সাংবাদিক রুমা পল, মানবজমিন পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান, জাগো নিউজ ২৪ ডটকম-এর সম্পাদক কে এম জিয়াউল হক, ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম এবং নাগরিক টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক দ্বীপ আজাদ।

এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক ও সাংবাদিকসহ আনুমানিক ৩০০ থেকে ৩৫০ জন গণমাধ্যমকর্মী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।