শেয়ার বাজার

দেশে উদারপন্থী গণতন্ত্র চাই: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

দেশে উদারপন্থী গণতন্ত্র চাই: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব বলেছেন- দেশে উদারপন্থী গণতন্ত্র চাই। নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারে যেতে চাই। আপনারা নির্ভয়ে ভোট দিতে যাবেন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় সালন্দর ইউনিয়নে বরুনাগাঁও মাদরাসা মাঠে নির্বাচনী পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে স্থানীয় ভোটারদের কাছে বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন মির্জা ফখরুল। ভোটাররা বিগত আমলে জুলুম নিপিড়ন ও জমি দখলের কথা জানান।
এর প্রেক্ষিতে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনাদের জন্য এর আগেও পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালে কাজ করেছি। সংসদে গিয়েও কাজ করেছি। আমাকে আপনারা দীর্ঘদিন ধরে চেনেন। আমার নতুন করে পরিচয় দেবার কিছু নেই। আমার গোটা পরিবারকে আপনারা চেনেন। বাবা-দাদার জমি বিক্রি করে রাজনীতি করি, আপনাদের আমানতের খেয়ানত করবো না। আপনাদের সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবো। আপনারা অভিযোগ করেছেন এখানে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্বৃত্তদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এগুলো আর থাকবে না। আমার দলের কেউ দুর্বৃত্তায়নে জড়িত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেব।
তিনি আরও বলেন, দেশে উদারপন্থী গণতন্ত্র চাই, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারে যেতে চাই। আপনারা নির্ভয়ে ভোট দিতে যাবেন। তারেক রহমান সঠিকভাবে দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে পারবেন। যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য অতিতে আমরা কাজ করেছি, আগামিতেও করবো।।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষকরা সহজেই সার পাবে, সার সংকট থাকবে না। পরিবারের মা বোনরা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। সে কার্ড দিয়ে তারা ন্যায্য মূল্যে নিত্যপণ্য কিনতে পারবেন এবং সে কার্ড দিয়ে চিকিৎসা সেবা পাবেন। এ কার্ড হবে মা বোনদের জন্য অস্ত্র।
Dummy Ad 1

শহীদদের রক্তের ঋণ শোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক তারেক রহমানের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫

শহীদদের রক্তের ঋণ শোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক তারেক রহমানের

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণআন্দোলন- দুই সময়ের শহীদদের রক্ত ঝরানোর ধারাবাহিকতাকে এক সুতোয় গেঁথে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধার, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সব ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করার একমাত্র পথ হলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় বিএনপি আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৭১ সালে এই দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, গৃহবধূ, নারী-পুরুষ, মাদ্রাসার ছাত্রসহ দলমত ও শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সব মানুষ ৫ আগস্ট দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিল।

নিরাপদ দেশ গড়া

তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আজ তাদের মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধার করতে চায়। কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। মানুষ চায় তারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার পাবে।’

‘আজ আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এই দেশে যেমন পাহাড়ের মানুষ আছে, একইভাবে সমতল মানুষ আছে। এই দেশে মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে। আমরা চাই সকলে মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন একজন মা দেখেন। অর্থাৎ একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন নারী, একজন পুরুষ, একজন শিশু- যেই হোক না কেন নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে যেন নিরাপদে ইনশাআল্লাহ ঘরে আবার ফিরে আসতে পারে,’ যোগ করেন তিনি।

প্রত্যাশা পূরণ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর কথা তুলে ধরে বলেন, ‘এই দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, চার কোটির বেশি তরুণ প্রজন্মের সদস্য, পাঁচ কোটির মতো শিশু, ৪০ লাখের মতো প্রতিবন্ধী মানুষ ও কয়েক কোটি কৃষক শ্রমিক রয়েছেন। এই মানুষগুলোর প্রত্যাশা আছে রাষ্ট্রের কাছে। আকাঙ্ক্ষা আছে দেশের কাছে। আজ আমরা সকলে যদি ঐক্যবদ্ধ হই, যদি সকলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, তাহলে এই লাখ-কোটি মানুষের প্রত্যাশাগুলো পূরণ করতে পারি ইনশাআল্লাহ।’

রক্তের ঋণ শোধ

মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক আন্দোলনের শহীদদের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমাদের শহীদরা নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এরকম একটি বাংলাদেশ গঠনের জন্য।’

তিনি অভিযোগ করেন, ১৫ বছরের স্বৈরাচারের আমলে হাজারো মানুষ গুম-খুনের শিকার হয়েছে। শুধু রাজনৈতিক দলের সদস্য নয়, নিরীহ মানুষও প্রতিবাদ করতে গিয়ে অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে, জীবন দিয়েছে।

২০২৪ সালের আন্দোলন প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা দেখেছি তরুণ প্রজন্মের সদস্যরা কীভাবে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য।’

সম্প্রতি নিহত শরিফ ওসমান হাদির প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ‘কয়েক দিন আগে এই বাংলাদেশের ২৪-এর আন্দোলনের সাহসী প্রজন্মের সাহসী সদস্য ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। ওসমান হাদি শহীদ হয়েছে। ওসমান হাদি চেয়েছিল এই দেশের মানুষের জন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক। এই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক। এই দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক।’

সব শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২৪-এর আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন ওসমান হাদিসসহ, ৭১-এ যারা শহীদ হয়েছেন, বিগত স্বৈরাচারের সময় বিভিন্নভাবে খুন-গুমের শিকার হয়েছেন। এই মানুষগুলোর রক্তের ঋণ শোধ করতে আসুন আমরা প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। যেখানে আমরা সকলে মিলে কাজ করবো। যেখানে আমরা সকলে মিলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’

ধৈর্য ধারণের আহ্বান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আধিপত্যবাদী শক্তির ভক্ত-চরেরা বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রে এখন লিপ্ত রয়েছে। আমাদের ধৈর্যশীল হতে হবে, ধৈর্য ধারণ করতে হবে।’

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারাই আগামী দিনে দেশকে নেতৃত্ব দেবেন, দেশকে গড়ে তুলবেন। এই দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মের সদস্যদের আজ গ্রহণ করতে হবে। যাতে করে এই দেশকে আমরা সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারি। শক্ত গণতান্ত্রিক ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর গড়ে তুলতে পারি।’

এসময় মঞ্চে উপস্থিত নেতাদের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমার সাথে আজকে মঞ্চে বহু জাতীয় নেতৃবৃন্দ বসে আছেন। আসুন আজকে আমরা দুহাত তুলে আল্লাহর দরবারে দোয়া করে আল্লাহর রহমত চাই। যে জাতীয় নেতৃবৃন্দ মঞ্চে আছেন, বাইরে আছেন, আমরা সকলে মিলে নেতৃত্ব দিয়ে জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।’

দেশের শান্তি রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের যেকোনো মূল্যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। যেকোন উসকানির মুখে ধীর-শান্ত থাকতে হবে। আমরা দেশের শান্তি চাই, আমরা দেশের শান্তি চাই, আমরা দেশের শান্তি চাই।’

আই হ্যাভ এ প্ল্যান

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘তার একটি বিখ্যাত ডায়ালগ আছে- আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম। আজ এই বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আপনাদের সকলের সামনে আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে আমি বলতে চাই- আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি।’

এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন জন্য বাস্তবায়ন করতে প্রত্যেক মানুষের সহযোগিতা লাগবে বলে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন, আমাদের সহযোগিতা করেন, ইনশাআল্লাহ আমরা ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো।’


ন্যায়ের আলোকে দেশ পরিচালনা
তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে হাত তুলে প্রার্থনা করি- হে রাব্বুল আলামিন, একমাত্র মালিক, একমাত্র পরওয়ারদিগার, একমাত্র রহমতদানকারী, একমাত্র সাহায্যকারী, আজ আপনি যদি আমাদের রহমত দেন, তাহলে আমরা এই দেশের মানুষ কঠোর পরিশ্রম করার মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো। আজ যদি আল্লাহর রহমত এই দেশ ও দেশের মানুষের পক্ষে থাকে, আল্লাহর সাহায্য ও দয়া এই দেশ ও দেশের মানুষের ওপর থাকে, ইনশাআল্লাহ আমরা প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।’

‘আসুন আমরা সকলে মিলে প্রতিজ্ঞা করি, ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে দেশের দায়িত্বে যারা আসবে, আমরা সকলে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে ন্যায়পরায়ণতা সেই ন্যায়পরায়ণতার আলোকে দেশ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো, যোগ করেন তিনি।

খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া কামনা
নিজের মা খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ‘এই একটি মানুষ, যে মানুষটি এই দেশের মাটি, এই দেশের মানুষকে নিজের জীবনের থেকেও বেশি ভালোবেসেছেন। তার সাথে কী হয়েছে আপনারা প্রত্যেকে সে সম্পর্কে অবগত আছেন। সন্তান হিসেবে আপনাদের কাছে চাইবো, আজ আল্লাহর দরবারে আপনারা দোয়া করবেন যাতে আল্লাহ ওনাকে তৌফিক দেন, উনি যাতে সুস্থ হতে পারেন।’

নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘সন্তান হিসেবে আমার মন মায়ের বিছানার পাশে পড়ে আছে সেই হাসপাতালের ঘরে। কিন্তু সেই মানুষটি যাদের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, অর্থাৎ আপনারা, সেই মানুষগুলোকে আমি কোনোভাবেই ফেলে যেতে পারিনি। সেজন্যই আজ হাসপাতালে যাওয়ার আগে আপনাদেরসহ টেলিভিশনগুলোর মাধ্যমে যারা সমগ্র বাংলাদেশে আমাকে দেখছেন, সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য আমি এখানে দাঁড়িয়েছি আপনাদের সামনে।’

শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি গুরুত্ব
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা যে ধর্মের মানুষ হই, যে শ্রেণির মানুষ হই, যে রাজনৈতিক দলের সদস্য হই, অথবা একজন নির্দলীয় ব্যক্তি হই- আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেকোনো মূল্যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলাকে ধরে রাখতে হবে। যেকোনো মূল্যে যেকোনো বিশৃঙ্খলাকে পরিত্যাগ করতে হবে। যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করতে হবে মানুষ যাতে নিরাপদ থাকতে পারে। শিশু হোক, নারী হোক, পুরুষ হোক, যেকোনো বয়স, শ্রেণি, পেশা ও ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ থাকে, এই হোক আমাদের চাওয়া আজকে।’

তিনি সবাইকে মিলে কাজ করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে এভাবে বরণ করে নেওয়ার জন্য সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

নারায়ণগঞ্জের তিন কর্তা আইভী-শামীম-সেলিম বসছেন এক টেবিলে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

নারায়ণগঞ্জের তিন কর্তা আইভী-শামীম-সেলিম বসছেন এক টেবিলে

বার্তাবেলা ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও সিটি করপোরেশনের (নাসিক) মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে একই টেবিলে বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে অনেকবার। কিন্তু পরস্পরের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে সেটা হয়ে ওঠেনি। অবশেষে এক টেবিলে দেখা যাবে তাদের। তাদের সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানও।

শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের আয়োজনে গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন তারা।

এর আগে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র একসঙ্গে বসলেও নারায়ণগঞ্জের সমস্যা নিয়ে কথা হয়নি কখনো। কিন্তু এবার তাদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হবে।

সভায় আরও উপস্থিত থাকবেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক, পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল, র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তানভীর মাহমুদ পাশা, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চন্দন শীল, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) রুহুল আমিন সাগর ও বিআরটির সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল কবীর।

নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আরিফ আলম দিপু বলেন, জেলার সব সমস্যার সমাধানের জন্য এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। বৈঠক থেকে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে সমস্যাগুলোর যেন সমাধান হয়।

প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জীবন বলেন, যানজটসহ যে সমস্যাগুলো আছে তা সমাধানে যেন জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করে, এটাই আমাদের লক্ষ্য।

এর আগে গতবছরের ১৪ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন অডিটোরিয়ামে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমান একত্রে বসেছিলেন। সেদিন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


আমরা সরকারও মানছি না, রাজপথও ছাড়ছি না: মান্না

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

আমরা সরকারও মানছি না, রাজপথও ছাড়ছি না: মান্না

বার্তাবেলা ডেস্ক: সরকার দ্রব্যমূল্য কমাতে পারবে না বলে দাবি করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মৌচাক মোড়ে ‘গণতন্ত্রের পক্ষে গণস্বাক্ষর’ কর্মসূচিতে এ কথা বলেন তিনি।

মান্না বলেন, এই সরকার দ্রব্যমূল্য কমাতে পারবে না। কারণ এরাই সিন্ডিকেট, আর সিন্ডিকেটই সরকার।

তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে। দেশের জনগণকে এই সরকারের হাত থেকে মুক্ত করেই আমরা ফিরবো। ঢাকা মহানগরের সব থানা থেকে শুরু করে সারাদেশে আমরা জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চালিয়ে যাবো। পাশাপাশি শেখ হাসিনা সরকারের অবৈধ ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করার কর্মসূচিও থাকবে।

তিনি জানান, ১৬ ফেব্রুয়ারি গণতন্ত্র মঞ্চের উদ্যোগে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল হবে। ১৫-১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, ফার্মগেট, খামারবাড়ি এবং ২৩-২৪ তারিখে খিলগাঁওয়ে নাগরিক ঐক্যের গণস্বাক্ষর কর্মসূচি হবে। ২০-২২ ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসের কর্মসূচি থাকবে।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, এর মানে বার্তা পরিষ্কার, আমরা তোমাকে মানছি না, রাজপথ ছাড়ছি না। তোমাকে যেতে হবে।

মান্নার সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সারসহ নেতারা।

মান্না বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৫ বছরে লুটপাট করে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করেছে। ব্যাংক ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে ডলার নেই, টাকা নেই। সরকারের কাছেও টাকা নেই।