শেয়ার বাজার

কোম্পানি ঘুরছে কর্মীর পেছনে!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

কোম্পানি ঘুরছে কর্মীর পেছনে!

মিজানুর রহমান, জার্মানি

প্রবাসে ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে টাইমিং বা সঠিক সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম। ভেবে দেখুন- আপনি এমন একটি দেশে যেতে চান যেখানে কাজের অভাব, নাকি এমন কোনো দেশে যেখানে কোম্পানিগুলো দক্ষকর্মী পাওয়ার জন্য হন্যে হয়ে খুঁজছে?

জার্মানি এখন দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে পড়ে। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, জার্মানিতে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি দক্ষ কর্মীর পদ খালি পড়ে আছে। এই জনবল সংকট কাটাতে জার্মানরা তাদের ‘আউসবিল্ডুং’ বা বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে বানিয়েছে এক মহাসড়ক।

‘ফাকক্র্যাফটেমাঙ্গেল’ বা এই চরম কর্মী সংকটের ফায়দা তুলে কীভাবে আপনি নিজের ক্যারিয়ারকে রকেটের গতিতে এগিয়ে নেবেন? চলুন, পেছনের মূল ৪টি কৌশল বিশ্লেষণ করা যাক।

কয়েক বছর আগেও আউসবিল্ডুং-এর একটি সিটের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা হতো। কিন্তু তীব্র জনবল সংকটের কারণে পুরো দৃশ্যপট এখন উল্টে গেছে। বিশেষ করে সেবা ও নার্সিং, তথ্যপ্রযুক্তি, মেকাট্রনিক্স এবং নির্মাণ খাতে কোম্পানিগুলো যোগ্য প্রার্থী পাচ্ছেই না।

বাংলাদেশ থেকে যদি বি১ বা বি২ লেভেলের জার্মান ভাষাটা ভালোমতো শিখে একটি পরিচ্ছন্ন জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি পাঠানো যায়, তবে ইন্টারভিউ বোর্ডেই আপনাকে লুফে নেওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। আগের মতো শত শত প্রত্যাখ্যান খাওয়ার দিন এখন আর নেই।

জার্মানির এই সংকট নিরসনে তাদের অভিবাসন ও শ্রম আইনকে আমূল বদলে ফেলা হয়েছে, যেন বিদেশিরা দ্রুত জার্মানিতে প্রবেশ করতে পারেন। আউসবিল্ডুং-এর চুক্তিপত্র পাওয়ার পর জার্মানির ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি কোনো রকম গড়িমসি ছাড়াই দ্রুত পূর্ব-অনুমোদন দিয়ে দেয়। ফলে ঢাকার জার্মান দূতাবাসে ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া এবং ভিসা ইস্যু হওয়ার প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত ও সহজ হয়ে গেছে।

আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষার পর যেখানে চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতে হয়, জার্মানির আউসবিল্ডুং-এ সেই দুশ্চিন্তা শূন্য। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৯৫ শতাংশ জার্মান কোম্পানি তাদের শিক্ষানবিসদের ৩ বছরের প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার আগেই পূর্ণকালীন চাকরির নিয়োগপত্র হাতে ধরিয়ে দেয়। কারণ তিন বছর ধরে আপনার পেছনে বিনিয়োগ করে তারা আপনাকে তাদের নিজস্ব ছাঁচে তৈরি করেছে। নতুন করে কর্মী খোঁজার চেয়ে আপনাকে ধরে রাখা তাদের জন্য লাভজনক। ফলে পড়াশোনা শেষ করেই বেকার থাকার কোনো সুযোগ নেই।

যেহেতু বাজারে দক্ষ কর্মীর আকাল, তাই কোম্পানিগুলো এখন ভালো শিক্ষানবিস এবং নতুন গ্র্যাজুয়েটদের ধরে রাখতে বিভিন্ন আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। অনেক কোম্পানি প্রশিক্ষণের সময়কার বৃত্তির পাশাপাশি বিনামূল্যে ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, ট্রেনের মাসিক টিকিট, এমনকি বিনামূল্যে থাকার জায়গাও অফার করছে। আউসবিল্ডুং শেষে পূর্ণকালীন চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় চমৎকার বেতন নিয়ে দরকষাকষি করার পূর্ণ স্বাধীনতা আপনার হাতেই থাকবে।

জার্মানির এই সুবর্ণ সুযোগের দরজা কিন্তু আজীবন এভাবে খোলা থাকবে না। তারা ইতিমধ্যেই ভারত, ভিয়েতনাম এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলো থেকে লাখ লাখ কর্মী নেওয়া শুরু করেছে।

তাই আপনার যদি স্বপ্ন থাকে ইউরোপের মাটিতে নিজের একটি স্থায়ী ভবিষ্যৎ গড়ার, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় নষ্ট না করে এখনই জার্মান ভাষার পেছনে শতভাগ শ্রম দিন। এই একটি দক্ষতাই আপনাকে জার্মানির এই মেগা সংকটের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী বানিয়ে দিতে পারে।

Dummy Ad 1

নয়াদিল্লির আবাসিক হোটেলের অগ্নিকাণ্ডে চৌদ্দগ্রামের প্রবাসী সোহাগের মৃত্যু, আহত স্বজনসহ ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪ জুন, ২০২৬

নয়াদিল্লির আবাসিক হোটেলের অগ্নিকাণ্ডে চৌদ্দগ্রামের প্রবাসী সোহাগের মৃত্যু, আহত স্বজনসহ ৪

মু. আলম (কুমিল্লা প্রতিনিধি) : ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির দক্ষিণাঞ্চলের মালভিয়া নগর এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার এক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর ছোট বোন, ভগ্নিপতি, চাচাতো বোন ও বোনের মেয়ে দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত মো. নূরুল আমিন সোহাগ (৩৮) চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের মধ্যম সাঙ্গীশ্বর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আব্দুস সোবহানের জ্যেষ্ঠ ছেলে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ভগ্নিপতির কিডনি চিকিৎসার জন্য স্বজনদের সঙ্গে তিনি ভারতে গিয়েছিলেন।

পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৩ জুন) সকালে নয়াদিল্লির মালভিয়া নগর এলাকার ‘ফ্লোরিশ স্টে’ যা ‘মিকাসা ইন’ নামেও পরিচিত, হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৮টা ৫০ মিনিটে আগুন লাগার পর তা দ্রুত ভবনের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় হোটেলে অবস্থানরত অতিথিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে ভেতরে আটকা পড়েন।

অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর আহত অবস্থায় সোহাগ, তাঁর ছোট বোন, ভগ্নিপতি, চাচাতো বোন ও বোনের মেয়েকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহাগ মারা যান। আহত অন্যরা বর্তমানে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

নিহতের ভগ্নিপতি ধোড়করা বাজার কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক  বাচ্চু মিয়া বলেন, “চিকিৎসার প্রয়োজনেই তারা ভারতে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ এমন দুর্ঘটনায় পুরো পরিবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।”

পরিবারের সদস্যরা জানান, সোহাগের মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় পৌঁছানোর পর মধ্যম সাঙ্গীশ্বর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাঁর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

নয়াদিল্লায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসা পরিস্থিতি তারা পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে।

এদিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে গ্যাস লিকেজ বা সিলিন্ডার–সংক্রান্ত কোনো ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে হোটেলটির অগ্নি-নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নও উঠে এসেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

চৌদ্দগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা নিহত সোহাগের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।


সৌদি আরবে কর্ম ক্ষেত্রে নারীর সংখ্যা বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

সৌদি আরবে কর্ম ক্ষেত্রে নারীর সংখ্যা বেড়েছে

সৌদি আরবে নারী কর্মশক্তির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, যা ২০১৬ সালের ১৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২২ সালে মোট মানবসম্পদের ৩৬ শতাংশ হয়েছে।

সৌদি আরবে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে, ফলে উপকৃত হচ্ছে দেশটির অর্থনীতি। ইতোমধ্যে দেশটির অর্থনীতিতে সেই উদ্যোগের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের গবেষণায় দেখা গেছে, সৌদি আরবে নারী কর্মশক্তির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, যা ২০১৬ সালের ১৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২২ সালে মোট মানবসম্পদের ৩৬ শতাংশ হয়েছে। এই অগ্রগতি ভিশন-২০৩০ এর ৩০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে।

সৌদির সংবাদমাধ্যম আরব নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের ভিশন-২০৩০ উদ্যোগের লক্ষ্য নারী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা।

এছাড়াও, সৌদি আরবে নারী শিক্ষারও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০২০ সালে ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় ৩২ শতাংশ নারী কমপক্ষে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ২০১৭ সাল যা ছিল ২৬ শতাংশ।

এদিকে ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংক (এফএবি) ও ওয়েলথব্রিফিং প্রকাশিত এক গবেষণায় জানানো হয়েছে, নারীদের সম্পদ বৃদ্ধি মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের অর্থনীতিতে পরিবর্তন আনছে।

'উইনিং উইমেন ইন মেনা: হাউ ওয়েলথ ম্যানেজারস ক্যান হেল্প ফারদার ফিমেল এমপাওয়ারমেন্ট' শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ খাতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি দায়ী।

এতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ করে সৌদি আরবে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, এই অঞ্চলে প্রতি তিনটি নতুন ব্যবসার মধ্যে একটির উদ্যোক্তা নারী।

এফএবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিরা জাকুর বলেন, 'গত ২০ বছরে আমি অনেক নারীকে এই অঞ্চলের পারিবারিক ব্যবসাকে শীর্ষে নিয়ে যেতে দেখেছি। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা মূলধন বিনিয়োগের আগে অনেকের মতামত শোনেন। তারা প্রায়ই কম ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ করেন, ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরও ভালো আয়ের দিকে পরিচালিত হয়।'


আরব আমিরাত
রমজান মাসে কর্মীদের চাপমুক্ত রাখতে কমছে কর্মঘণ্টা!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬ মার্চ, ২০২৪

রমজান মাসে কর্মীদের চাপমুক্ত রাখতে কমছে কর্মঘণ্টা!

পবিত্র রমজান মাসে বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য কাজের সময় কমানোর ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির মানবসম্পদ ও এমিরেটাইজেশন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রমজান মাসে কাজের সময় দুই ঘণ্টা কমানো হবে।

খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রমজান মাস উপলক্ষে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজের ধরন অনুসারে নির্দিষ্ট সময় কমানোর বিকল্প রয়েছে। পাশাপাশি যে কাজ ঘরে বসে করা যায় সেগুলোর বিষয়ে নমনীয় হওয়ার পরিকল্পনাও তাদের আছে।

আমিরাতের বেসরকারি খাতের কর্মীরা সাধারণত দিনে আট থেকে নয় ঘণ্টা কাজ করে। রমজান মাসে এই সময় দৈনিক দুই ঘণ্টা করে কমানো হবে। কমানোর পর এই সময়সূচির বাইরে কেউ অতিরিক্ত কাজ করলে তা ওভারটাইম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এর জন্য কর্মীরা অতিরিক্ত মজুরি পাবেন।

দুবাই ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড চ্যারিটেবল অ্যাক্টিভিটিস ডিপার্টমেন্টের (আইএসিএডি) প্রকাশিত হিজরি ক্যালেন্ডার অনুসারে, রমজান সম্ভবত ১২ মার্চ (মঙ্গলবার) থেকে শুরু হবে।

পবিত্র মাসে সিয়াম সাধনার পাশাপাশি ধর্মীয় সংস্কৃতি অনুশীলনে মুসলিমদের অংশগ্রহণের সুবিধার্থে কর্মঘণ্টা কমানো রোজাদার ও যারা রোজা থাকে না, উভয় কর্মীর জন্য প্রযোজ্য।

ফেডারেল অথরিটি ফর গভর্নমেন্ট হিউম্যান রিসোর্সেস (এফএএইচআর) ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কর্মচারীদের জন্য পবিত্র রমজান মাসে অফিসিয়াল কাজের সময় নির্ধারণ করে একটি সার্কুলার জারি করেছে।